Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হেরে গেল পুনে

বেঙ্গালুর, ১৮ এপ্রিল: আশিস নেহরাকে নিয়ে আত্মজীবনীতে কোনো গান লিখতে হলে তার অধিনায়ক কোন গানটা লিখবেন? জিন্দেগি কভি তো হাসায়ে কভি ইয়ে রুলায়ে? বেঙ্গালুরুর মাঠে মঙ্গলবার নেহরাকে দেখে এটাই মনে আসা উচিত সৌরভের। প্রথমে পুনে অধিনায়কের মুখে হাসি ফেরালেন। বিপজ্জনক ক্রিস গেইলকে দুর্দান্ত ইয়র্কারে ফিরিয়ে দিয়ে। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথেউজ তখন ভাল বল করছিলেন। সৌরভ তাঁকে থামিয়ে নেহরার হাতে বল তুলে দিলেন। অধিনায়ককে নিরাশ করেননি নেহরা। বিপজ্জনক ক্রিস গেইলকে ফিরিয়ে দিলেন নিখুঁত ইয়র্কারে।

তখন কে জানত হতাশায় ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি বেছে রেখেছিলেন ম্যাচের শেষ ওভারকে। কে জানত গেইলকে ফিরিয়ে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি তা নিজে হাতে দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে দেবেন! ম্যাচ জিততে গেলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স-কে শেষ ওভারে করতে হতো ২১। তার আগে পাঁজরের পাশে অসহ্য ব্যথা নিয়ে অশোক দিন্দা উনিশতম ওভারটা দুর্দান্ত বল করে দিয়ে গিয়েছেন। দিয়েছেন মাত্র ৭ রান।

এই অবস্থায় নেহরার শেষ ওভার। এবি ডেভিলিয়ার্স মাটিতে পড়তে পড়তে স্কুপ শট মারলেন। তৃতীয় এবং চতুর্থ বলে পর-পর দু’টো ছয় মারলেন। তার পরেও শেষ বলে করতে হতো ৩ রান। সামনে সৌরভ তিওয়ারি। বেঙ্গালুর প্রেস বক্সে রীতিমতো হাসাহাসি চলছিল তার চেহারা নিয়ে। সেই সৌরভ তিওয়ারি শেষ বলে ছয় মেরে জিতিয়ে দিলেন আরসিবি-কে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নৃশংসতা। মাত্র এক বলের তফাতে নায়ক হতে হতেও দেখতে হয় অন্য কেউ ম্যাচের হিরো হয়ে চলে যাচ্ছে। অশোক দিন্দাকে যেমন দেখতে হলো। চলতি আইপিএলে তিনি যা বল করে যাচ্ছেন, এরপরেও যদি ভারতীয় দলের রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক কিছু আর হয় না।

এদিন গেইল-ঝড়ে যখন এমনকি গ্যালারির দর্শকেরা পর্যন্ত আর নিরাপদ নেই তখন সৌরভ পনেরোতম ওভার বল তুলে দিলেন দিন্দার হাতে। গেইল তখন নৃশংস ব্যাটিং করছেন। রাহুল শর্মাকে পর-পর পাঁচটা বলে পাঁচটা ছয় মেরেছেন। প্রথম বলটা তিনি ফেস করেননি। না হলে হয়তো ছয় ছক্কার রেকর্ড হয়ে যেতো। একটা ছয়ের আঘাতে গ্যালারিতে মারাত্মক জখম হলো একটি বাচ্চা। তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

দেখেশুনে তখন মনে হচ্ছে, গেইলের সংহারে সৌরভের পুনে ওয়ারিয়র্স তো বটেই, দর্শকরা সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারলে হয়। যেকোনো বোলারের ওই সময় বোলিং করার নাম শুনলে শিঁরদাড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাবে।

কিন্তু দিন্দা দেখালেন পেস বোলারের হৃদয় তার আছে। প্রতিপক্ষে যত নৃশংস ব্যাটসম্যানই থাক তিনি ডরান না। পনেরোতম ওভারটায় মাত্র ৫ রান দিলেন। গেইলকে পর্যন্ত মারতে দিলেন না। এ রকম হাই-প্রেশার ম্যাচ। পুরোপুরি ব্যাটিং উইকেট। ১৮২ রানও তাড়া হয়ে যাচ্ছে। সেখানে দিন্দার বোলিং হিসেব ৪-০-২৮-১।

তবু ট্র্যাজিক নায়ক হয়েই ফিরতে হলো। নেহরা যখন শেষ ওভারটায় মার খাচ্ছেন, তখন কী অসহায় দেখাচ্ছিল তাকে পুনের ডাগ-আউটে। পাঁজরের ব্যথা উপেক্ষা করে চেঁচিয়ে যাচ্ছেন। হাততালি দিচ্ছেন। ম্যাচের পর সবাই এসে প্রশংসা করে যাচ্ছেন। পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু দিন্দাকে হারের শোকে বিহ্বল দেখাল। কথা বলার অবস্থাতেই নেই। তেমনই স্তব্ধ দেখাল তার অধিনায়ককে। সৌরভ বলার চেষ্টা করলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ সব অভিজ্ঞতার জন্য তৈরি থাকতে হয়। বললেন ঠিকই কিন্তু এই হার তাকে রক্তাক্ত করবে। পরের ম্যাচ চেন্নাইয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে। এত কাছাকাছি এসে গিয়েছিলেন বেঙ্গালুরকে বেঙ্গালুরুতে হারানোর। জিতলে হয়তো আবার টেবিলের শীর্ষে চলে যেতেন। তখন কোয়ালিফায়ার্সে যাওয়ার রাস্তা অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখাত। এখন কিছুটা হলেও সেটা থমকে দাঁড়াল। চেন্নাইয়ের ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুনের কাছে। গেইল করে গেলেন ৪৮ বলে ৮১। আটটা ছয়। ক্রিকেটের বিচার! ‘বন্ধু’ আজ বাজি জিতে বেরিয়ে গেলেন। আর যথাসাধ্য করে, গেইলকে আটকে দিয়েও তিনিদিন্দা ফিরলেন হারের যন্ত্রণা নিয়ে। শেষের দিকে ডেভিলিয়ার্স। তিনটা তফাত গড়ে দেয়া ছক্কা-সহকারে ১৪ বলে ৩৩।

এমনিতে বেঙ্গালুরের মাঠে এদিন অভিনব দৃশ্য দেখা গেল। পুনে ওয়ারিয়র্সের জার্সি গায়ে সানিয়া মির্জার সঙ্গে বসে আছেন তার স্বামী! প্রাক্তন পাক অধিনায়কের গায়েও পুনের জার্সি। শোয়েব মালিক কি শিউরে উঠেছিলেন নেহরাকে শেষ ওভার বল করতে দেখে? ক্রিকেটজীবনে তিনিও তো দেখেছেন নেহরার হাতে কীভাবে একজন অধিনায়কের ভাগ্য আলো-আঁধারিতে পাঁক খেতে থাকে। বিশ্বকাপে ধোনিকে ডুবিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। তখন বিতর্ক হয়েছিল নেহরাকে কেন শেষ ওভার করালেন ধোনি? এ দিন সৌরভের এ ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। উনিশতম ওভারটা দিন্দাকে না দিলে হয়তো শেষ বল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকতই না! তা ছাড়া গেইলকে আউট করা বোলার যে মুহূর্তে আবার তার আত্মভোলা পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারে কার বোঝার সাধ্যি আছে!

সৌরভ নিজে ব্যাটে রান পেলেন না। ৮ বলে মাত্র ৬ করলেন। ম্যাচটাও জিততে জিততে ফস্কে গেল। রবিন উথাপ্পা দারুণ ব্যাটিং করলেন। ৪৫ বলে ৬৯। ৯টা চার, দুটো ছয়। রকমারি সব শট খেললেন উথাপ্পা এবং জেসি রাইডার। স্যামুয়েলস অ্যাকশন-বিতর্ক ভুলে ভালো ব্যাটিং করলেন। দিন্দা শুরুতেই ফেরালেন দিলশানকে। তবু শেষ বলের আঘাতে বিজয় মাল্যর ডেরা থেকে রক্তাক্ত হয়ে ফিরতে হল পুনে অধিনায়ককে। তাকে কেউ কিনল না দেখে নিলামের টেবিলে বসে মাল্যর উপহাসের হাসির জবাব দিতে দিতেও দেয়া হলো না।

দু’টো প্রশ্ন সবথেকে বেশি করে ওঠা উচিত। ক্রিস গেইলকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলতে না দেয়া ব্যক্তির নাম কী? আর অশোক দিন্দাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত কেকেআর-এ কার নেয়া? সূত্র: ওয়েবসাইট।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট