Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রুদ্ধশ্বাস ১৫৮ ঘণ্টা

রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারির শুরু ৯ই এপ্রিল রাত ১১টা। পদত্যাগের কারণে এর অবসান ১৬ই এপ্রিল বেলা সোয়া ১টা। মাঝখানে কেলেঙ্কারির পর থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত ১৫৮ ঘণ্টা ১৫ মিনিট কেটেছে। এ মাঝখানের সময়ে কেলেঙ্কারি নিয়ে নানা ঘটনা ঘটেছে। দেশের প্রথম রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কেলেঙ্কারি ইস্যুতে তিনবার মিডিয়ার সামনে তিন ধরনের কথা বলেছেন। কেলেঙ্কারির পর দিনই সাংবাদিকদের কাছে এপিএস ফারুকের সাফাই গেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঘটনার হোতা এপিএস ওমর ফারুক, জিএম ইউসুফ আলী মৃধা ও কমান্ড্যান্ট এনামুল হককে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেন। এর পর দিন নিজেও পদত্যাগ করেন। কেলেঙ্কারির শুরুতে ৯ই এপ্রিল রাতে ৭০ লাখ টাকাসহ পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে আটক হন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদার, রেলওয়ের জিএম (পূর্বাঞ্চল) ইউসুফ আলী মৃধা ও ঢাকা রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হক। বিশ্বাস ভঙ্গ করে চালক আলী আজম গাড়ি নিয়ে পিলখানায় ঢুকে যাওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে। ঘটনা ঘটার পর দিন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ওমর ফারুক তালুকদার ও রেলওয়ের জিএম (পূর্বাঞ্চল) ইউসুফ আলী মৃধা ‘আটক’ হওয়ার ঘটনায় আলাদা দু’টি তদন্ত কমিটি করে রেল মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রী নিজের এপিএস ও রেল কর্মকর্তা আটক হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, গত সোমবার গভীর রাতে টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় ওমর ফারুকের চালক তাকে অপহরণ করার চেষ্টা করছিল। এ সময় ভয়ে জীবন বাঁচাতে তিনি পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরের ভেতরে প্রবেশ করেন। সদ্য সাবেক রেল মন্ত্রী জানান, গাড়ির মধ্যে ছিলেন রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম, পূর্বাঞ্চল) ইউসুফ আলী মৃধা ও এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার। তবে এ মুহূর্তে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। এপিএস ওমর ফারুকের কাছে এত টাকা কিভাবে এলো সাংবাদিকদের- এমন প্রশ্নের জবাবে সদ্য সাবেক রেলমন্ত্রী বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত টাকা। তবে আমি শুনেছি ওমর ফারুককে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিল। গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর জিগাতলা মোড়ে বিজিবি সদর দপ্তরের মূল ফটকে ওমর ফারুককে আটক করে রাখে বিজিবি সদস্যরা। তার সঙ্গে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ৭০ লাখ টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানার পরও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট হাতে পেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা এখন বাসায় আছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, নিজের টাকা নিজের সঙ্গে রাখার বিষয়ে কোন প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। কারণ, তার টাকা তিনি কোথায় রাখবেন, নিজের সঙ্গে রাখবেন নাকি বাসায় রাখবেন তা তার ব্যাপার। তবে কোন অন্যায় আছে কিনা তা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। যদি তার অর্থের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু থাকে, তা খতিয়ে দেখবে এনবিআর। এটা আমাদের বিষয় নয়। ওমর ফারুক তালুকদার ও ইউসুফ আলী মৃধা অফিস করবে কিনা জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে রেলমন্ত্রী বলেন, তারা অফিস করবে না কেন? তাদের অপরাধ পাওয়ার আগে শাস্তি দেয়া ঠিক হবে না। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অপেক্ষা করার কথা বলে তিনি বলেন, মাত্র কয়েকদিনের ব্যাপার। এর মধ্যে রিপোর্ট পেলেই স্পষ্ট হবে তারা অপরাধী কিনা। তার পরেই ব্যবস্থা। এই ঘটনার সঙ্গে জিআরপি পুলিশ এনামুল হকও ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি দু’জনের কথা। রেলমন্ত্রী বলেন, আমার কাজ শেষ করে বাকি সময় তাদের। তারা কোথায় যায়, কি করে, এটা তাদের নিজের ব্যাপার। একই দিনে এপিএস ফারুক সাংবাদিকদের জানান, টাকার ব্যাগ নিয়ে তিনি মন্ত্রীর বাসার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তখন হকচকিয়ে যান মন্ত্রী। এপিএস-এর পদ থেকে বরখাস্ত করেন ফারুককে। মাঝখানে একদিন অর্থাৎ ১১ই এপ্রিল চুপ থাকেন। ১২ই এপ্রিল সাংবাদিকদের সামনে আবারও মুখোমুখি হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই দিন রেলওয়ে গেট কেলেঙ্কারিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে মন্তব্য করেন। সদ্য সাবেক রেলমন্ত্রী বলেন, আমার এপিএস ও রেলওয়ের জিএম অর্থসহ আটকের ঘটনার পেছনে রয়েছে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র। রেলের ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে না পারার জন্যই তারা এ প্রয়াস চালাচ্ছে। তারা তাদের অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। অপচেষ্টার অংশ হিসেবে আমার এপিএস এবং জিএম অর্থসহ আটকের ঘটনা ঘটতে পারে। নিজের পদত্যাগ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি রাজনীতিবিদ। ৫৫ বছর রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। সুবিধা, লোভ-লালসা বা ক্ষমতা আমার কাছে কখনও আসেনি। আমার কাছে মন্ত্রিত্ব বড় কথা নয়। মন্ত্রী স্থায়ী কোন পদ নয়। এরপর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। ১৫ই এপ্রিল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সুরঞ্জিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ওই দিনই চাকরি থেকে রেলওয়ের জিএম ও কমান্ড্যান্টকে বরখাস্ত করেন। অব্যাহতি দেন নিজের এপিএস ফারুককে। রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান। গণভবনে যাওয়ার পর থেকেই পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়। গতকাল বেলা সোয়া ১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে ১৫৮ ঘণ্টার ঘটনাবহুল সময়ের অবসান ঘটে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট