Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ব্রিফিংয়ের আগে-পরে বিদায়ী রেলমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আসলেন, লিখিত বক্তব্য পাঠ করলেন, পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন এবং উঠে চলে গেলেন। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী তাকে তলব করার পরই বুঝা যাচ্ছিলো তিনি আর থাকছেন না। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তার অনুপস্থিতি বিষয়টিকে আরো সামনে নিয়ে আসে। আর এ কারণে বেলা ১১টা থেকেই রেলভবনে গণমাধ্যমকর্মীরা আসতে থাকেন। টিভি চ্যালেন, অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকার প্রায় দেড় শতাধিক কর্মী উপস্থিত হন রেলভবনে। গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি পদত্যাগ করছেন- একথা বললেও দু’দিন আগেও বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তার ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গে একটি কথাও বলেননি। রেলের ডিজি আবু তাহের ও রেলসচিব ফজলে কবিরকে সঙ্গে নিয়ে ভবনের সভাকক্ষে উপস্থিত হয়ে দুপুর সোয়া একটার দিকে ব্রিফিং শুরু করেন মন্ত্রী। শুরুতে মন্ত্রীর মুখে স্বভাবসুলভ হাসি থাকলেও পরে তিনি ছিলেন বিমর্ষ। এসময় মন্ত্রীর ছবি তোলা নিয়ে দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার ক্যামেরাম্যান এবং টিভি চ্যানেলের ভিডিও ক্যামেরাম্যানরা উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রতি বিরক্ত হন। তিনি বলেন, “আমি কথা বলতে এসেছি, আর আপনারা শুনতে এসেছেন। কিন্তু আপনারা কথা বললে, আমি বলবো না। আমি দুই মিনিট আপনাদের সময় দিলাম। আপনারা কথা শেষ করুন। তারপর আমি শুরু করবো। নয়তো আমি চলে যাবে।” এতে সাংবাদিকরা চুপ হলে মন্ত্রী কথা শুরু করেন। দুপুর দেড়টার দিকে ‘মন্ত্রী’ পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের কথা জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কোনোভাবেই আমার সম্পৃক্ততা না থাকার পরও আমি অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” গণতন্ত্রকে ‘আরো শক্তিশালী’ করতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যর্থতার সব দায় আমারই। আমার দল বা সরকারে নয়।” তিনি বলেন, “গত রোববার প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে বৈঠক করে অব্যাহতির অভিপ্রায় ব্যক্ত করি। এতে তিনি সম্মতি দেন।” কিন্তু মিডিয়াতে আগেই খবর বেরিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। রোববার রাতে বার্তা২৪ ডটনেটও ‘সুরঞ্জিতকে প্রধানমন্ত্রী: পদত্যাগ করুন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে আবারো রাজনীতিতে ফিরে আসব।” “বিরোধীদেলের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি” বলেও উল্লেখ করেন সুরঞ্জিত। ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সরাসরি নিজ কক্ষে চলে যান তিনি। দুপুর দুইটার দিকে রেল ভবনের ওপরের তলায় কর্মরতদের সঙ্গে দেখা করতে লিফটে ওঠেন বিদায়ী রেলমন্ত্রী। এ সময় লিফটের দরজা বন্ধ হলেও বাহিরে অপেক্ষমান সাংবাদিকরা সুইচ টিপে আবার লিফট থামিয়ে দেন এবং তারা মন্ত্রীর ছবি তুলতে থাকেন। এভাবে কয়েকবার বন্ধ দরজা সাংবাদিকরা চালু করলে আবারও ক্ষিপ্ত হন তিনি। দরজা বন্ধ না হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে না পেয়ে বাইরে এসে দেখেন আসলেই সাংবাদিকরা সুইচ টিপছেন। ভ্রুঁ কুচকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পরে ওপরের তলার লোকদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত শেষে আবারো নিজ কক্ষে অবস্থান করেন মন্ত্রী। ব্যক্তিগত এপিএস ফারুকের গাড়ি থেকে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধারের জের ধরে গত কয়েকদিন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিকাল তিনটায় কালো রঙের একটি জিপে করে রেলভবন ত্যাগ করেন সুরঞ্জিত।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to ব্রিফিংয়ের আগে-পরে বিদায়ী রেলমন্ত্রী

  1. Rubel Raj

    April 17, 2012 at 12:27 am

    Congratulations! s.s.gupta.