Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আয়া যখন চিকিৎসক

নূরুজ্জামান: কেউ আয়া থেকে ক্লিনিকের প্রধান চিকিৎসক সেজে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ক্লিনিক ও চেম্বারের ফাঁদ পেতে জিম্মি করছে অসহায় রোগীদের। আবার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রোগ পরীক্ষার নামে। রাজধানীতে সক্রিয় এমন সহস্রাধিক ভুয়া চিকিৎসকের তালিকা এখন  র‌্যাবের হাতে। গতকাল থেকে এ তালিকা ধরে রাজধানী জুড়ে র‌্যাবের ১০টি টিম ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকা থেকে হাতেনাতে ৮ ভুয়া চিকিৎসককে  গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে- আনোয়ারুল হক দুলাল, আতিয়ার রহমান, হাসিনা বেগম, মহিউদ্দীন, ফাতেমা সাখাওয়াত, আল আমীন ও  এম কাওসার। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত কাওসার জানান, আগে তিনি একজন চিকিৎসকের সহকারী ছিলেন। তার সঙ্গে থাকতে থাকতেই দাঁতের সব রকমের চিকিৎসা রপ্ত করেছেন। আল আমীন জানান, তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পরে কিছুদিন ওষুধ বিক্রি করেছেন। এরপরেই নিজেকে ডেন্টিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছেন। র‌্যাব-৪ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ইরতিজা বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ারুল হক দুলাল একজন নীরব ঘাতক। চিকিৎসার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। তিনি পড়াশোনা করেছেন আয়ুর্বেদিক বিষয়ে, অথচ চিকিৎসা করছিলেন এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে। এলোপ্যাথিক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোন ডিগ্রি না থাকলেও জটিল  ও কঠিন রোগের  প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন। এ অপরাধে তাকে দু’বছরের কারাদণ্ড দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বর ক্যাপিটাল মার্কেটের পাশেই মেডিসোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ আছে।  তার কাছে বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশনও ছিল না। র‌্যাবের এ অভিযানে বিএমডিসি’র কর্তাব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। তিন জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাবের তিনটি পৃথক দল একযোগে মিরপুর ও উত্তরা এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায়। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, রাজধানীর অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লিনিকে অসংখ্য ভুয়া চিকিৎসকদের তথ্য আমাদের কাছে আছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকাতেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন,  চিকিৎসা সংক্রান্ত বৈধ সনদপত্র না থাকলেও ভুয়া চিকিৎসকরা বিভিন্ন রোগের স্পেশালিস্ট হিসেবে অসহায় রোগীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করছে। এরা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চেম্বার খুলে রোগীদের বিভিন্ন কৌশলে  প্রতারণা করছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হাসিনা আগে আয়াগিরি করতো। এখন নিজের নামেই ক্লিনিক দিয়েছে। ওই ক্লিনিকের প্রধান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখছেন। অথচ তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। এ অপরাধে  হাসিনা বেগমকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।   গ্রেপ্তারকৃত আতিয়ারকে দেড় বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা, মহিউদ্দিনকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা, ফাতেমাকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা, আল আমীনকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা, কাওসারকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং আনোয়ার  হোসেনকে দেড় বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রত্যেকে নিজেদের এমবিবিএস পরিচয় দিয়ে রোগী দেখতেন। তবে অভিযানের সময় তারা প্রয়োজনীয় সনদ কিংবা কাগজপত্র  দেখাতে পারেননি। এদের মধ্যে  কেউ এসএসসি এবং কেউ এইচএসসি পাস। এদের মধ্যে দুই জন কবিরাজও আছেন। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব। বিভিন্ন সময়ে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালবিরোধী, পরিবেশ দূষণমুক্ত, ভেজাল পণ্য আটক, নকল ওষুধ প্রতিরোধ, অবৈধ ব্লাড ব্যাংক বন্ধ এবং ভুয়া ডাক্তার আটক সংক্রান্ত  ৯৬৮৫টি সফল অভিযানে এ  পর্যন্ত  ৩৬৪৬ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রায় ৪৪ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে ৭,২২৩টি। কমান্ডার এম সোহায়েল আরও বলেন,  জনগণের সুস্বাস্থ্য/সুচিকিৎসার অধিকার রক্ষায় যথাযথ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬১ জন ভুয়া ডাক্তার আটকসহ বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ ব্লাড ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল র‌্যাবের ৭টি টিম ও ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত দিনভর রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় ক্লিনিক, ল্যাব এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে ৭ জন ভুয়া বিশেষজ্ঞ/এমবিবিএস ডাক্তারকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সমস্ত অভিযানে বিএমডিসি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আটককৃত ভুয়া ডাক্তার/বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আতিয়ার (৩৩)’র বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার শংকরপাশা গ্রামে। উত্তর খান মাজার কলেজ সংলগ্ন তালতলা এলাকার ৭১৮ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। হাসিনা বেগমের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সাদ্দারকান্দি গ্রামে। বর্তমানে মাজার চৌরাস্তার হাসিনা মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   এসএম মহিউদ্দিন (২২)-এর বাবার নাম মৃত কাওসার আলী। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার শেখটোলা গ্রামে। ফাতেমা সাখাওয়াত হোসেন (৩০)। তার  বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জের তালেপুর গ্রামে। বর্তমানে দক্ষিণখান বাজারের আরমান ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে  রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। দক্ষিণ খান বাজারের হক সুপার মার্কেটের  সিটি ডেন্টাল ক্লিনিকে চিকিৎসক ছিলেন। তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দ?িণ খানের হক সুপার মার্কেটের সেবা ডেন্টাল কেয়ার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এম কাওসার আহমেদ নামে এক কবিরাজকে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন বৈধ সনদপত্র না থাকলেও তিনি সব রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখছিলেন। তার বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার লুচনপুর গ্রামে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to আয়া যখন চিকিৎসক

  1. toufiq

    April 16, 2012 at 3:57 am

    rab keep it up…tnx