Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চারুকলা মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রহর গুণছে

হুমায়ুন কবির আকাশ

 

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল: প্রতিটি ভোর হয় একটি দিনের উপহার দিয়ে। আর আগামীকাল ভোর হবে একটি নতুন বাংলা বছর ১৪১৯ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানানোর মধ্যে দিয়ে। কাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ধরণীতে আগমন ঘটবে বাংলা নব-বর্ষের। এই নতুন বাংলা নববর্ষ (১৪১৯)কে বরণ করতে প্রতিবছরের মতো এবারো প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।

 

এই বাংলা নববর্ষকে বরণ করেতে নানা রকম মুখোশ, ফেস্টুন, সরা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে চারুকলার ছাত্র-ছাত্রীরা। শুধু পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আকর্ষণীয় করতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করছেন শিক্ষার্থীরা। সবার স্বপ্ন একটাই, এই শোভাযাত্রায় তারা তুলে ধরতে চায় সমগ্র বাংলা ও বাংলার সংস্কৃতিকে।

 

জানা গেছে, মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শনিবার সকাল নয়টায় চারুকলার বকুলতলা থেকে শুরু হয়ে রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে দিয়ে ঘুরে শাহবাগ মোড় হয়ে টিএসসি ঘুরে আবার বকুল তলায় চলে আসবে। সাম্পান, ভয়ঙ্কর জম, হাতি, ঘোড়া, বাঘ ছাড়ও এবারের শোভাযাত্রায় থাকবে পাতার মতো দেখতে একটি বিশেষ পাখি, যা নরসিংদী এলাকায় দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন চিত্রকরের আকা ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি ‘পেইন্টিং’ থাকবে এবারের শোভাযাত্রায়। ৪০ ফুট লম্বা সাম্পান তৈরি শেষ হয়েছে। ভয়ঙ্কর জম‘টিরও একটি কাঠামো দাঁড় করিয়ে তাতে রং তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। এছাড়া হাতি, ঘোড়া ও বাঘের প্রতিকৃতি বানানোও শেষ।

আর পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান বৈশাখী মেলা। কোনো কোনো জায়গায় এই মেলা চলে সপ্তাহ জুড়ে। এক হিসেবে দেখা গেছে, সারা বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ ও বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে প্রায় ২০০টি মেলা হয়। সবচেয়ে রঙচঙে ও আনন্দঘন নববর্ষ উদযাপিত হয় ঢাকায়। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় রমনার বটমূলে। ছায়ানটের শিল্পীরা বৈশাখের আগমনী গান গেয়ে স্বাগত জানায় নববর্ষকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় একই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে আনন্দ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। চারুশিল্পীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নববষের্র আহবানকে করে তোলে নয়ন-মনোহর ও গভীর আবেদনময়। এদিন শহীদ মিনার, টিএসসি এবং চারুকলা সহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। এসব মেলায় পাওয়া যায় স্থানীয় কৃষিজাত দ্রব্য, কারূপণ্য, লোকশিল্পজাত পণ্য, কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, সব ধরণের হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্পজাত সামগ্রী। এছাড়া শিশু-কিশোরদের খেলনা, মেয়েদের সাজসজ্জার সামগ্রী ইত্যাদি। এছাড়াও রকমারি লোকজ খাদ্যসামগ্রী যেমন, চিড়া, মুড়ি, খৈ, বাতাসা ও বিভিন্ন প্রকার মিষ্টির বৈচিত্রময় সমারোহ থাকে মেলায়। আর পান্তা ইলিশ বৈশাখী মেলার প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সব জেলায়। সম্প্রতি বৈশাখী উৎসবের আরেকটি আকর্ষণ বই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ইত্যাদি শহরে নববর্ষ উপলক্ষে বইমেলা হয়। বাংলা একাডেমীর বইয়ের আড়ং এসব বইমেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়। শুধু খাওয়া দাওয়াই নয়, এসব মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকগীতি ও লোকনৃত্য পরিবেশন করা হয়। সেখানে পালাগান, কবিগান, জারিগান, গম্ভিরা গান গাজীর গান, আলকাপ গান সহ যাত্রাপালার আয়োজন থাকে। কোথাও কোথাও পথনাট্য উৎসব হয়ে থাকে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাটক, পুতুল নাচ, নাগর দোলা, সার্কাস ইত্যাদি হয় বৈশাখী মেলার বিশেষ আকর্ষণ। শিশু-কিশোরদের জন্য আরো থাকে বায়োস্কোপ। শহরাঞ্চলে নগর সংষ্কৃতির আমেজেও এখন আয়োজিত হয় বৈশাখী মেলা, এই মেলা বাঙালিদের কাছে এক অনাবিল মিলন মেলায় পরিণত হয়। এই মেলা আনন্দঘন লোকায়ত সংস্কৃতির ধারক।

প্রতিবছরই বিভিন্ন ‘থিম’ নিয়ে বের করা হয় চারুকলার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। এবারের শোভাযাত্রার বিষয় হচ্ছে সমুদ্রজয় ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।

 

শোভাযাত্রার প্রস্তুতির সমন্বয়ক চারুকলার শিক্ষার্থী নবেন্দু সাহা নব বলেন, ‘‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে জিতেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে দ্রুত করা বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই এবার শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’’

 

তিনি আরো বলেন, ‘‘শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের ‘সমুদ্রজয়’ প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে শোভাযাত্রার সামনে থাকবে সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে… রূপকথার সেই ময়ূরপঙ্খী নাওয়ের আদলে তৈরি ৪০ ফুট লম্বা সাম্পান। ভয়ঙ্কর চেহারার জম‘টিকে যুদ্ধাপরাধীর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করার আহবানও থাকবে।’’

চারুকলা অনুষদের ডিন এমদাদুল হক মো. মতলুব আলী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘চারুকলার অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা।আমাদের শিক্ষার্থীরা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে শোভাযাত্রাটি সফল করাতে। বেশিরভাগই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিছু বাকি রয়েছে যা আজকের মধ্যে শেষ হবে।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট