Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মেয়র প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

কাফি কামাল/লুৎফর রহমান: ঢাকার বিভক্ত দুই সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণার পর প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। দলীয় কৌশল নির্ধারণ, ভোটারদের কাছে পরিচিত হওয়া ও দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তারা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তফসিল ঘোষণার পরের দিনই কয়েক জন মেয়র প্রার্থী নির্ভুলভাবে মনোনয়ন ফরম পূরণে সময় ব্যয় করেছেন। আর বিরোধী দলের সমর্থন প্রত্যাশী প্রার্থীরা গতকাল মাঠে প্রচারণা না চালালেও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কৌশল নির্ধারণে বৈঠক ও আলোচনা করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণাকালে কয়েক জন প্রার্থী তাদের লিফলেটও বিলি করেন। আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের সমর্থন প্রত্যাশী মেয়র প্রার্থীরা গতকাল বেশি সরব ছিলেন। অপর দিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী হতে প্রচারণায় থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল সুনামগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ায় ঢাকায় প্রচারণা চালাতে পারেননি। আজ হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করে তিনি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে বিরোধী দল বিএনপির সমর্থন নিয়ে এখনও পরিষ্কার কোন অবস্থান না থাকলেও গতকাল দলের কয়েক জন নেতা ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘরোয়াভাবে প্রচারণা শুরু করেন। এদের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ব্যবসায়ীদের সাবেক নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু দিনভর দলের নেতা-কর্মী ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বন্ধ করে দেয়া নির্বাচনী ক্যাম্পও গতকাল থেকে আবার চালু করেছেন তিনি। ঢাকা দক্ষিণে নির্বাচন করতে আগ্রহী ড. আসাদুজ্জামান রিপনও পুরান ঢাকায় ঘরোয়াভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। তিনি ওই এলাকার নিজের আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে না থাকলেও তার কর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রার্থী হতে অনুরোধ করছেন। এছাড়া নির্বাচনে ভূমিকা কি হবে এ নিয়ে কর্মীরা তার নির্দেশনা চাইছেন। এদিকে নগর বিএনপি নেতা আবদুস সালাম গতকাল মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে বসেই দলের নেতা-কর্মী, সাবেক মেয়র ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
হাজী সেলিম
গতকাল সকাল থেকেই নির্বাচনী গণসংযোগ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মোহাম্মদ সেলিম। গণসংযোগ ছাড়াও নির্বাচন কেন্দ্রীয় কাজে তিনি দিনভর ব্যস্ত ছিলেন। সকাল ১১টায় হাজী সেলিম নবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা, ট্যানারি মোড়, বৌবাজার, ঝিগাতলা এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকাল চারটায় ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবাবগঞ্জ পার্ক এলাকায় জনতার মঞ্চ নামের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীরাও অংশ নেন। সেখান থেকে বিকাল ৫টায় ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামিয়া হাইস্কুলে স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ব্যাগ প্রস্তুতকারক এসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হাজী সেলিম। সন্ধ্যা ছয়টায় দক্ষিণ বাসাবো কবরস্থান সংলগ্ন মাঠে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাতে হাজী সেলিমের বাসভবন মদিনা টাওয়ারে স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। তফসিল ঘোষণার প্রথম দিন নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে হাজী সেলিম জানান, এলাকার ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুরব্বিদের পরামর্শ নিয়েছি। তিনি জানান, বয়োজ্যেষ্ঠদের দোয়া নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।
সাঈদ খোকন
নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমার দেয়ার প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক কাজে গতকাল সময় কাটিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ও প্রয়াত মেয়রপুত্র সাঈদ খোকন। এছাড়া তার নিজ এলাকা নাজিরাবাজারে গণসংযোগ ও করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরা বাজার এলাকায় তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। বিকালে নাজিরা বাজারের বাসভবনে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তফসিল ঘোষণার পর প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ঢাকাবাসীর দোয়া চাইছি। আমার বাবাকে ঢাকাবাসী ভালবাসতেন। আমি তাদের সে ভালবাসা চাই। ঢাকাবাসীর ভালবাসা পেলে আমি তাদের সেবায় আমার জীবন উৎসর্গ করবো।
কাজী ফিরোজ রশিদ
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশিদ গতকাল দিনভর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় কাঁঠালবাগান এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। ওই এলাকায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি অবস্থান করেন। ওই এলাকার কাঁচাবাজার, বাসাবাড়ি ও দোকানে দোকানে তিনি ভোটারদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের দোয়া চান। প্রচারণা চালানোর সময় কাজী ফিরোজ রশিদ তার নির্বাচনী লিফলেটও বিলি করেন। এ সময় জাতীয় পার্টির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীও তার সঙ্গে ছিলেন। বিকালে সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে থানা জাতীয় পার্টির সভায় অংশ নেন। সভা শেষে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাত পর্যন্ত ওই এলাকার অলি-গলিতে গণসংযোগ করেন ফিরোজ রশিদ। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় ফিরোজ রশিদের বিলি করা লিফলেটে বলা লেখা আছে- ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের দুঃসাহসী যোদ্ধা, ষাট দশকের উত্তাল সময়ে কারাবন্দি ছাত্রনেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’বারের সিনেট সদস্য এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ মেয়র পদে আপনাদের দোয়া ও সমর্থন চান। প্রচারণার বিষয়ে ফিরোজ রশিদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশা করি, সামনে তারা কোন ধরনের ভয়ভীতি ও চাপের কাছে নিজেদের বিলিয়ে দেবেন না।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া
তফসিল ঘোষণার আগেই প্রচরণায় নামা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া গতকাল দিনভর দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। এর অংশ হিসেবে তার বাসভবনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গেও মিরপুরে আলাদা বৈঠক করেন। এছাড়া ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের আপ্তাব সর্দারের বাড়িতে স্থানীয় নেতা-কর্মীও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রচারণার বিষয়ে মায়া চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র তৈরি ও জমা দেয়ার বিষয়ে সময় ব্যয় করেছি। এছাড়া দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বুধবার থেকে গণসংযোগ করবেন বলে জানান তিনি।
শিরিন আখতার
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রথম নারী মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) উত্তরের আনুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেন জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তার। গতকাল সকাল ১০টায় মিরপুর মণিপুর স্কুলের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এ সময় তার দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণা চালানোর সময় শিরিন আখতার তার পক্ষে সমর্থন চান এবং দোয়া কামনা করেন। এছাড়া বিকাল ৪টায় মোহাম্মদপুর টাউন হল থেকে বঙ্গাব্দ ১৪১৯কে স্বাগত জানিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ঢাকাকে বাসযোগ্য ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছি। প্রচারণায় জনসাধারণের ব্যাপক সাড়া মিলছে বলেও জানান তিনি। আর বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এখনই কাজ শুরু করতে চাই। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শোভাযাত্রা হলেও এতে ছিল নির্বাচনী আমেজ।
এছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী নগর আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ হোসেন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থী হতে আগ্রহী ড. তুহিন মালিকও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। বিকালে নবাবগঞ্জে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেন ড. তুহিন মালিক।
আবদুল আউয়াল মিণ্টু
ঢাকা উত্তর থেকে মেয়র নির্বাচনের জন্য নতুন করে কাজ শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিণ্টু। অবিভক্ত ডিসিসি নির্বাচনের জন্য কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এমনকি একটি কাউন্সিলর প্যানেলও তৈরি করেছিলেন। তবে ডিসিসি বিভক্তিসহ নানা কারণে কয়েক মাস ধরে সে তৎপরতা বন্ধ রেখেছেন। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ ঢাকা উত্তরে বসবাসকারী বৃহত্তর নোয়াখালীর লোকজনের মধ্যে প্রভাব রয়েছে মিণ্টুর। এছাড়া ব্যবসায়ী নেতাদের পক্ষ থেকেও তাকে সমর্থন করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, ডিসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে তাকে তলব করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। সেখানে নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিকে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকের পরদিন দলের পক্ষ থেকে ডিসিসি নির্বাচনে ‘চমক দেখানো’র ঘোষণা দেয়ার পর নতুন করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন মিণ্টু। সোমবার তফসিল ঘোষণার পর রাতেই নেতাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন তিনি। গতকাল সকালে গুলশানের বাসায় মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দীর্ঘ সময়। পরে সোনারগাঁও হোটেলে একটি বৈঠক করেছেন। বিকাল নিজের তৈরি প্যানেলের কমিশনার প্রার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন সোনারগাঁ রোডের এ্যাঙ্কর বিল্ডিংয়ের কার্যালয়ে। আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকায় প্রথম দিনই নেতা-কর্মীদের ভিড় জমেছে তার বাসা ও কার্যালয়ে। আবদুল আউয়াল মিণ্টু বলেন, ডিসিসি ভাগের পর অনাগ্রহী হয়ে পড়েছিলাম। তবে এখন নতুন করে মাঠে নামতে হচ্ছে।
এম এ কাইয়ুম
ঢাকা উত্তর থেকে মেয়র নির্বাচনের জন্য জোর প্রচারণা শুরু করেছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুম। গত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে বিএনপি দলীয় এ এমপি প্রার্থী মেয়র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক পোস্টারিং করেছেন। সে সঙ্গে ঢাকা উত্তর থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে লবিং-তদবির চালাচ্ছেন। সোমবার তফসিল ঘোষণার পর রাতেই নেতাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন তিনি। সাবেক কমিশনার হিসেবে ঢাকা উত্তরের বিএনপি দলীয় সাবেক কমিশনারদের সমর্থন আদায়ে নেমেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, জোর প্রচারণা শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোন ইঙ্গিত পাননি তিনি। এম এ কাইয়ুম বলেন, আমি সবসময়ই সক্রিয় রাজনীতিতে। মহানগর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। এখন আরও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা উত্তরবাসীর সঙ্গে কথা বলছি। গণসংযোগ করছি। ওদিকে ঢাকা উত্তরে বিএনপির মানবাধিকার সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম পেশাজীবী মহলে আলোচনা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে লড়তে চাই। সে অনুযায়ী পেশাজীবী মহলে আলোচনা হচ্ছে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনার বাইরে কিছু করবো না। এছাড়াও প্রকাশ্য প্রচারণায় নেমেছেন পল্লবীর বিএনপি নেতা তানভীর আহমেদ মোল্লা।
ড. আসাদুজ্জামান রিপন
ঢাকা দক্ষিণ থেকে মেয়র নির্বাচনের জন্য অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। সাবেক এ ছাত্রনেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন কয়েক মাস ধরে। মেয়র নির্বাচনের আগ্রহের কথা প্রকাশ করে তিনি প্রথমে সাবেক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা পরিচ্ছন্ন ইমেজের এ নেতাকে সমর্থনের কথা জানালে তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সর্বশেষ দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোন নির্দেশনা না পেলেও তাকে নিরুৎসাহিতও করা হয়নি। পরে বিএনপির মাঝারি সারিতে ও অঙ্গদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকা সাবেক ছাত্রনেতাদের পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে তিনি জোর তৎপরতা শুরু করেন। এডিবির উপদেষ্টা হিসেবে দরিদ্র নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজের ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিক হিসেবে কূটনীতিক মহলে ভাল যোগাযোগের কারণে জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকেও অনেকেই তাকে সমর্থনের ইঙ্গিত করেন। এরপর তিনি সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমর্থন চান। ইতিমধ্যে তিনিও একটি কাউন্সিলর প্যানেল তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এদিকে তফসিল ঘোষণার পর রাতেই তিনি দিলু রোডের বাসায় মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গতকাল সকাল থেকেই তিনি পুরান ঢাকার ওয়ারী, শ্যামপুর, সূত্রাপুর এলাকার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এখনও প্রকাশ্য প্রচারণার সময় আসেনি। তাই আত্মীয়-স্বজন ও ঢাকায় বসবাসকারী বিক্রমপুরের নানা ক্ষেত্রে বিশিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি। মহানগর বিএনপি লোকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছে।
আবদুস সালাম
ঢাকা দক্ষিণ থেকে মেয়র নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম। সাবেক এ ডেপুটি মেয়রও তৎপরতা চালাচ্ছেন বেশ কিছু দিন ধরে। বিশেষ করে ডিসিসি ভাগের পর সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা বিভক্ত ডিসিসিতে নির্বাচনে অনাগ্রহ পোষণ করায় তিনি তৎপরতা শুরু করেন। নগর বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে তিনি মহানগর নেতৃত্ব ও সাবেক কমিশনারদের কাছে আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। মেয়র খোকার অনুসারী হিসেবে পরিচিত কমিশনার ও নগর নেতাদের অনেকেই তাকে পরোক্ষ সমর্থনের কথা জানান। তবে সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাসপন্থি নেতারা শুরু থেকেই তার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে আবদুস সালাম চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও তাকে সরাসরি কোন নির্দেশনা দেননি। তবে খোকা-আব্বাসের দ্বন্দ্ব নিরসনের স্বার্থেই তাকে প্রার্থী না করার পক্ষে মত দিয়েছেন দলের কিছু সিনিয়র নেতা। তবে এসব বিরোধিতায় হাল ছাড়েননি সালাম। গতকাল সকাল থেকেই তিনি নয়া পল্টনের নগর বিএনপির কার্যালয়ে নগর নেতৃবৃন্দ ও সাবেক মেয়রদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণে সাবেক কমিশনার কাজী আবুল বাশার ঘরোয়া প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কারাবন্দি সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিণ্টুর অনুসারীরা তার পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। এদিকে বিভক্ত ডিসিসিতে নির্বাচনে অনাগ্রহ পোষণ করলেও তফসিল ঘোষণার পর সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বাড়িতে ভিড় করছেন মহানগর বিএনপির নেতারা। প্রার্থী হওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি নানা নির্দেশনাও চাইছেন। বিষয়টি স্বীকার করে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, দীর্ঘদিন মেয়র পদে ও নগর বিএনপির দায়িত্ব পালন করেছি। তাই সর্বস্তরের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেই হচ্ছে। তবে মেয়র পদে নির্বাচনের কোন আগ্রহ নেই।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট