Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মহাজোটের ৫ প্রার্থীর লড়াই

লুৎফর রহমান: অনেক আগ থেকেই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মাঠে মহাজোটের ৫ প্রার্থী। দলীয় সমর্থন পেতে লড়াইয়ে আছেন তারা। এরই মধ্যে গতকাল দুই ডিসিসি’র তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এখনও দল ও জোটগতভাবে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত না থাকায় প্রার্থীদের দল এবং জোটের সমর্থন পাওয়ার লড়াই আরও জমজমাট হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় মহাজোটের প্রার্থীদের স্নায়ুযুদ্ধ আরও বেড়েছে। এই পাঁচ প্রার্থীর প্রত্যেকে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অনড়। দল বা মহাজোটের সমর্থন না পেলেও তারা প্রত্যেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছেন।
শক্ত অবস্থান নিয়ে মাঠে থাকা পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাঈদ খোকন ও হাজী সেলিম, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ এবং জাসদের শিরিন আখতার। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ফিরোজ রশিদের পক্ষে ঢাকা দক্ষিণে মহাজোটের সমর্থন পেতে দেনদরবার করবে। আর জাসদ চাইছে ঢাকা উত্তরে শিরিন আখতারকে মহাজোটের মনোনয়ন দেয়া হোক। এর বাইরে ঢাকা উত্তরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও দক্ষিণে সাঈদ খোকন ও হাজী সেলিম মেয়র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে প্রার্থী নিয়ে বাইরে নানা আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত দলীয় বা জোটগত কাউকেই নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়নি। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এতদিন প্রচারণা চালানোর পর ঢাকা উত্তরে নতুন করে প্রচারণা চালানোয় আলোচনায় এসেছেন জাসদ নেত্রী শিরিন আখতার। তার দল জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সঙ্কেত পেয়েই তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেন। তবে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন আলোচনা শোনা যায়নি। ঢাকা উত্তরে শিরিন আখতারের জোর প্রচারণা চালানোয় সেখান থেকে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমেছেন। তিনি কিছুতেই জোটের কারও জন্য মাঠ ছাড়তে নারাজ। মহাজোটের এই দুই প্রার্থী ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে। শুরুতে দলের সমর্থনের বিষয়ে কিছুটা চিন্তা করলেও এখন তিনি এই ব্যানারেই নির্বাচন করতে অনড়। তার শক্ত অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রার্থী সমর্থনের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ বা কুমিল্লার মতো ভুল করতে চায় না দলের হাইকমান্ড। এসব দিক বিবেচনা করেই শিরিন আখতারকে নিয়ে চিন্তাভাবনা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের সমর্থনের পাল্লা ভারি করতে মায়ার ইঙ্গিতেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এর আওতাধীন এলাকার থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার মাধ্যমে তার সমর্থন ব্যক্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই অংশে আগে মেয়র প্রার্থী হওয়ার প্রচারে থাকা সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার মেয়র প্রার্থী হিসেবে মায়াকে সমর্থন দিয়েছেন বলে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এ সিটি করপোরেশনে মহাজোটের শরিক জাসদের প্রার্থী শিরিন আখতারকে আওয়ামী লীগ ও জোটের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়ার প্রত্যাশা করছেন দলের নেতারা। তবে তারা জানিয়েছেন,  জোটনেত্রীর ইঙ্গিত পেয়েই শিরিন ওই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। তবে এ বিষয়ে সময়ক্ষেপণ না করে আওয়ামী লীগ এবং জোটের সমর্থন পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন জাসদ নেতারা। শিরিন আখতারের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাসদ সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, জোটনেত্রীর পরামর্শে শিরিন আখতার ঢাকা উত্তরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে জোটের সমর্থনের বিষয়টি পরিষ্কার হলে প্রার্থীর সুবিধা হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা জোটনেত্রী ও আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টির একজন নেতা দল ও জোটের সমর্থন প্রত্যাশা করে আগাম প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদকে দলীয় সমর্থন দেয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়ে তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে তাকে মহাজোটের সমর্থন দেয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হবে। তাকে সমর্থন না দিলে আগামীতে জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে বলেও জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী এক নেতা।
আর আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যে দলীয় সমর্থন আদায়ে চলছে তুমুল প্রচারণা। এর মধ্যে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ পুত্র সাঈদ খোকন ও সাবেক সংসদ সদস্য নগর আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মোহাম্মদ সেলিম দলীয় সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। তবে এই দু’জনের কাউকেই দলীয় গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, এদের যে কোন একজনকে দলীয় সমর্থন দেয়া হলেও অন্যজন নির্বাচন থেকে সরবেন না। এছাড়া মহাজোটের পক্ষ থেকে সমর্থন না পেলেও ফিরোজ রশীদ নির্বাচন করবেন বলে তার দলের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সিটি করপোরেশনে নগর আওয়ামী লীগের নেতা আওলাদ হোসেনও দলীয় সমর্থন চাইছেন। তবে তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন তেমনটা নেই।
দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে দল ও জোটের প্রার্থী নিয়ে এখন পর্যন্ত একক কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতাসীন দল চায় নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেন এমন প্রার্থী। কিন্তু সব হিসাব মিলিয়ে তেমন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় বড় কোন চমক না দিতে পারলে দলীয় সমর্থন দেয়ার বিষয়টি চেপে যেতে পারে দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় এমনটি করার সমূহ সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয় তার দিকেও তাকিয়ে আছে ক্ষমতাসীন দল। বিরোধী দল নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থন দিলে সেক্ষেত্রে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আওয়ামী লীগ দলের চূড়ান্ত সমর্থন দিতে পারে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট