Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ডিসিসি নির্বাচনে জামায়াতের প্রস্তুতি

আহমেদ জামাল: আত্মগোপনে থেকেও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে তৎপর রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও প্রায় ৩ মাস আগে থেকেই নীরবে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত সমর্থিত সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। খণ্ডিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই অংশে ৪০-৫০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ টার্গেট তাদের। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিকূলতায় টার্গেট করা প্রার্থীরা প্রকাশ্য সভা-সমাবেশ করতে পারছে না ঠিকই। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনের সঙ্গে সালাম শুভেচ্ছা বিনিময়, দুস্থদের মাঝে সাহায্য বিতরণসহ নানা কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। দলের বিভিন্ন সারির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মেয়র পদে আপাতত এই দলের কোন প্রার্থী নেই। জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে বলে জানান দলের দায়িত্বশীল এক নেতা। দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে একটি মাত্র ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়। ১৫টি ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা দ্বিতীয় এবং ৩৫টি ওয়ার্ডে  তৃতীয় হয়। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওইসব ওয়ার্ডকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জামায়াত। সমপ্রতি ওইসব ওয়ার্ডে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা দলীয় অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা চালায়। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হয়রানির ভয়ে এই মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম-পরিচয় গোপন রাখতে চায় তারা। বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে কাজ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হামলা- মামলার ভয়ে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। কারণ নির্বাচনে মোকাবিলা করতে না পারার আশঙ্কায় এসব প্রার্থীকে মামলা- হামলাসহ নানা কায়দায় হয়রানি করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটার তালিকা অনুসরণ করে মানুষের বাসা বাড়ি গিয়ে নির্বাচনের জানান দিচ্ছে। ডিসিসি’র দুই অংশের ৯০টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কম-বেশি তৎপরতার কথা উল্লেখ করে ড. মাসুদ জানান, জোট সমর্থিত প্রার্থীদের অবস্থান দেখে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আমাদের সর্বশেষ টার্গেট ৪০-৫০টি। এদিকে সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি  সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনের ব্যাপারেও জামায়াত সক্রিয় রয়েছে। দলের মহিলা শাখার এক ডজন নেত্রীকে এজন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে জামায়াত নিষ্ক্রিয় রয়েছে। মেয়র পদের ব্যাপারে দলের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীও তেমন কেউ নেই বলে জানান তারা। ভবিষ্যৎ রাজনীতির বৃহৎ স্বার্থে জোটের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তরূপে মেনে নেয়ার ব্যাপারে জামায়াতের নীতি-নির্ধারণী মহল একমত বলে জানান মহানগরের একাধিক নেতা। উল্লেখ্য, ১৯শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাকরাইল, শান্তিনগর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষের পর দলের মগবাজার কেন্দ্রীয় ও পুরানা পল্টনের মহানগর কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত বিচার আইনের মামলায় ফেরার হয়ে প্রথম সারির অনেক নেতা প্রায় ছয় মাস আত্মগোপনে। ওই অবস্থান থেকেই ডিসিসি নির্বাচনের নীরব প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট