Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর গুলিতে ব্যবসায়ী খুন

এ দেশে তো কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না। তুমি কেন করতে গেলে। তুমি তো ভাল করেই জানতে এ দেশে যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তাদের মরতে হয়। তারপরও কেন গেলে। এখন তোমার সন্তানদের কে দেখবে। আমাদের তো আর বাঁচার পথ থাকলো না। এ বিলাপ ছিনাতাইকারীদের বাধা দিতে গিয়ে মৃত্যুকে বরণ করা হযরত আলীর স্ত্রী সালমা সুলতানার। দু’সন্তান প্রিন্স আর প্রীতিকে বুকে নিয়ে স্বামীর লাশের উপর আছড়ে পড়ে এ বিলাপ করছিলেন তিনি। গতকাল হযরত আলীকে রাজধানীর  মিরপুরের রাইনখোলা এলাকায় গুলি করে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। প্রকাশ্যে ৩ নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সবকিছু কেড়ে নিচ্ছিল ছিনতাইকারীরা। এ সময় তিনি বাধা দিতে এলে তাকে গুলি করে ছিনতাইকারীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত হযরত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কল্লোল গ্রুপ অব কোম্পানির বিপণন ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। হযরত আলী মিরপুর ২নং সেকশনের চ ব্লকের ১৪৯/১৫০/ নম্বর বাসার নিচতলায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। গতকাল ওই বাসায় গেলে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। স্ত্রী-সন্তানদের বুকফাটা কান্না। হযরতের স্ত্রীর বিলাপে শোকাচ্ছন্ন বাড়ির পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে ওঠে। মৃত স্বামীকে উদ্দশ্য করে তিনি বার বার বলছিলেন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় তোমাকে কত সাবধান করতাম। বলতাম বাস থেকে নামার সময় সতর্ক থেকো। রাস্তায় কোন কিছু খেও না। কারও ঝামেলায় নিজেকে জড়াবে না। কিন্তু তুমি কোনদিনই আমার কথা শোননি। অন্যায় দেখলে তুমি সবার আগে প্রতিবাদ করতে। এখন তোমার সঙ্গে যে অন্যায় হলো তার প্রতিবাদ তো কেউ করছে না। তিনি বলেন, পুলিশ তো একজনকেও গ্রেপ্তার করল না। যাদের জন্য তুমি মরলে তারা তো কেউ তোমার সন্তানদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তাহলে তুমি কেন মরতে গেলে। হযরতের চাচাতো ভাই আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন, মিরপুরের রাইনখোলায় ভাইয়ার বাসার পাশে নির্মাণাধীন ১৪৯/১৪৯ ভবনটি সাতক্ষীরার প্রবাসী আশরাফুজ্জানের। তিনি দেশের বাইরে থাকায় ভাইয়া ভবন নির্মাণের কাজ দেখাশুনা করতেন। গতকাল সকালে তিনি ওই ভবনের কাজ দেখাশুনার জন্য বাসা থেকে বের হন। নির্মাণাধীন ওই ভবন থেকেই ছিনতাই হতে দেখে ভাইয়া একটি ইটের টুকরো হাতে নিয়ে ছিনতাইকারীদের বাধা দিতে এগিয়ে যান। মিরপুর থানার ওসি কাজী ওসি ওয়াজেদ আলী জানান, গতকাল সকাল ছয়টার দিকে মিরপুর ২নং এলাকার বাসিন্দা তৌহিদা, আজিজ নেসা ও রওশনারা হাঁটতে বের হন। তারা মিরপুরের ‘চ’ ব্লকের রাইনখোলায়  নির্মাণাধীন ১৪৯/১৪৯ ভবনের সামনে আসলে একটি সিলভার কালারের প্রাইভেটকারযোগে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী চার যুবক তাদের গতিরোধ করে। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে তৌহিদার ব্যবহৃত নকিয়া মোবাইল (নং ০১৬৮৪৪৮৪১২৪) ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তৌহিদার চিৎকারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে হযরত আলী নেমে এসে গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারেন এবং গাড়িটির গতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা হযরতকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত কমার্স কলেজের দিকে পালিয়ে যায়। একটি গুলি হযরতের বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থল থেকে কবির হোসেন নামে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বেসরকারি গ্লাক্সি হাসপাতালে নিয়ে যান। হযরতের চাচাতো ভাই মিঠু বলেন, যখন ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানে আরও অনেকে ছিল। কিন্তু কেউ তাদের বাধা দেয়নি। সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখেছে। মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জসিমউদ্দীন বলেন, নিহতের স্ত্রী সালমা সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে ২টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করছি অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। নিহত হযরত আলীর গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার সদরের বল্লীতে। তার পিতার নাম মৃত ওমর আলী। তার দু’টি শিশু সন্তান রয়েছে। বড় ছেলের নাম প্রিন্স। তার বয়স ১১ বছর। ছোট মেয়ের নাম প্রীতি। তার বয়স ৫ বছর। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, ঢাকায় জানাজা শেষে হযরত আলীর লাশ আজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট