Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

তালসরা দরবারের টাকা লুট: তদন্তকারী বিমান বাহিনী কর্মকর্তার লাশ চট্টগ্রামের হোটেলে

চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রাম নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদের লাশ। আনোয়ারার তালসরা দরবার শরীফে র‌্যাবের দুই কোটি টাকা লুটের ঘটনা তদন্ত করতে বুধবার চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার তার সরজমিন ঘটনাস্থল যাওয়ার কথা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত কাটানোর জন্য তিনি উঠেছিলেন নগরীর স্টেশন রোডের সিলভার ইন হোটেলে। ভাড়া নিয়েছিলেন ২১৩ নম্বর কক্ষটি। কিন্তু গতকাল দুপুর পর্যন্ত তার রুমের দরজা দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে খবর দেয়ার পর পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদের লাশ নগরীর কোতোয়ালি থানায় রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন নগরীর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা।
তারা জানান, লাশ উদ্ধারের পর বিমানবাহিনীর এই কর্মকর্তার শরীরে কোন ধরনের জখমের চিহ্ন দেখা যায়নি। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি তার মৃত্যুর কারণ। তবে বেশ কিছু বিষয় আমলে নিয়ে তারা মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল হোটেল সিলভার ইনের সামনে জড়ো হতে থাকেন লোকজন। এ সময় পুলিশ, র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন হোটেলটি ঘিরে রাখেন।
হোটেলের নিবন্ধন খাতার তথ্য অনুযায়ী নিহত মামুনের পিতার নাম মুজিবুর রহমান, বাড়ি রংপুর লেখা হয়েছিল। তিনি বিমান বাহিনীর কুর্মিটোলা ঘাঁটির লিগ্যাল উইংয়ে কর্মরত ছিলেন।
২০১১ সালের ৪ঠা নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারা তালসরা দরবার শরিফে তল্লাশির নামে ওই মাজারে প্রবেশ করে দুই কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যায় র‌্যাবের একটি দল। এ ঘটনায় র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার আলী মুজমদারসহ ১২ জনের নামে গত ১৩ই মার্চ একটি মামলা হয় আনোয়ারা থানায়।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান, বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদ গত বুধবার রাতে সিলভার ইন হোটেলে কক্ষ বুকিংয়ের জন্য আসেন। এ সময় তার সঙ্গে কেউই ছিলেন না। তিনি একা ওই হোটেলের ২১৩ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। হোটেলের বুকিং খাতায় রাত ৮টা ১০ মিনিটে তার কক্ষ ভাড়া নেয়ার কথা লেখা রয়েছে। তার সঙ্গে ছোট্ট একটি ব্যাগ ছিল। যেখানে তার বিমানবাহিনীর জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় হোটেলের একজন সুইপার ভেতরে ঢোকার জন্য তার দরজায় টোকা দেন। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ টোকা ও জোরে ধাক্কা দেয়ার পর সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। সুইপার বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ছুটে এসে ঘটনাটি খতিয়ে দেখেন। এর ৪ ঘণ্টা পর তার রুম থেকে কোন ধরনের সাড়া না পাওয়ার একপর্যায়ে বিষয়টি কোতোয়ালি থানা পুলিশকে জানান তারা। পরে দুপুর দেড়টায় পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল সিলভার ইনের মালিক আসাদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, ‘বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদ বুধবার রাত ৮টার পরে আমাদের হোটেলে আসেন। তখন তাকে বেশ স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তার সঙ্গে কেউই রুমে ওঠেননি। কাউকে দেখাও যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার পুরো দিন তার হোটেলে অবস্থানের কথা ছিল। সকালের হোটেলের একজন কর্মচারী খবর দেয় তার রুমের দরজা বন্ধ। তারপর লোকজন গিয়ে অনেক ডাকাডাকির পরও তিনি দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, নিহত মামুনের বন্ধু খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন আমারও পূর্বপরিচিত। বলতে পারেন তার মাধ্যমেই মামুন আমার হোটেলে ওঠেন। গতকাল তার আসার পর তাকে আমি কিছুক্ষণ সঙ্গ দিই। এরপর আমার পরিচিত দুই বন্ধু তাকে বাইরে নিয়ে রাতের খাবার খাওয়ায়। সেখানে সে প্রচণ্ড গরমে বমি করলে হোটেলে ফিরে আসে।
চট্টগ্রাম র‌্যাব ৭-এর একটি সূত্র জানায়, আনোয়ারার তালসরা দরবার শরিফ থেকে ২ কোটি সাত হাজার টাকা লুটের অভিযোগে ১২ র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তাও রয়েছেন। তার নাম শেখ মাহামুদুল হাসান। তিনি বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। মূলত তার জড়িত থাকার বিষয়টি বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত করতেই নিহত মামুনুর রশীদ চট্টগ্রামের হোটেলে ওঠেন।
বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদের মৃত্যু নিয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম পতেঙ্গাস্থ র‌্যাব-৭ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এ বিষয়ে র‌্যাবের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর জিয়াউল আহসান সরোয়ার বলেন, আমরা যতটুক জানতে পেরেছি, নিহত মামুন সাহেব আনোয়ারার তালসরা দরবার শরিফের দুই কোটি টাকা লুটের মামলায় তাদের এক কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত করতে এখানে এসেছিলেন। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শেখ মাহমুদুল হাসান নামের বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা এ ঘটনায় আসামি। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে নিজস্ব তদন্তে তাকে পাঠানো হয়েছে।
নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পর গতকাল দুপুর দেড়টায় ওই হোটেলে ছুটে যান তারা। এরপর বিকাল ৪টায় হোটেল সিলভার ইনের কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এর আগে হোটেলের এক কর্মকর্তা সাড়াশব্দ না পাওয়ার বিষয়ে তাদের ফোনে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পর তারা হোটেলে ছুটে আসেন। নিহত বিমান কর্মকর্তার কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হন লাশটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদের।
লাশ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার মো. আবদুল মান্নান মানবজমিনকে বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয়পত্র খুঁজে পাওয়ার পর তার লাশের পরিচয় সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হই। তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হয়েছে। বিমান বাহিনীর নিজস্ব দলও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। লাশ থানায় রয়েছে। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কি কারণে মামুনুর রশীদ চট্টগ্রামে এসেছেন তা আমরা জানি না। তবে এখন জানতে পারছি তিনি একটি মামলা খতিয়ে দেখতে এসেছেন। তার মৃত্যুর পর শরীরে কোন ধরনের জখম কিংবা আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাইনি। শারীরিক সমস্যা থাকলে তা ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট