Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জালিয়াতির অভিযোগে বাতিল হচ্ছে রাজধানীর দুটি কলেজের ছাড়পত্র

ঢাকা, ৫ এপ্রিল: জালিয়াতির মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করার দায়ে অভিযুক্ত দুটি কলেজের ছাড়পত্র বাতিল করতে যাচ্ছে শিক্ষাবোর্ড। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ঢাকা মডেল কলেজ ও সিটি রয়েল কলেজ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, ছাত্রদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ছাড়পত্রসহ কাগজপত্র জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত রাজধানীর সেই আলোচিত দুই কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “জালিয়াতি করে ভুয়া শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা হয়েছে এমন ঘটনা আমাদের হাতে ধরা পড়েছে। এজন্য আমরা দুই অধ্যক্ষকে আটক করেছিলাম। তারা এখন জামিনে আছেন।”

তাদের ব্যাপারে আর কি সিন্ধান্ত নেয়া হবে এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটি বিষয়টি দেখছে। আমরা আরো খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। অপরাধ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এদিকে শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটি ব্যাপারে চূড়ান্ত রির্পোট আসার পর প্রয়োজনে তাদের এমপিও বাতিল করা হবে। এ জন্য শিক্ষাবোর্ড, মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদফতরকে সুপারিশ করা হবে। প্রাথমিক রিপোর্টে ওপর পর্যালোচনা করে শিক্ষাবোর্ড তাদের ছাড়পত্র বাতিলে সিন্ধান্ত নিতে পারে।

আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে পরীক্ষার সময় জালিয়াতির বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও বোর্ড কর্মকর্তারা জানান।

বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ দুটি কলেজের থেকে জমা দেয়া দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর আবেদন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সব তথ্য যাছাই-বাছাই করে ভূয়া শিক্ষার্থীর প্রমাণ পেয়েছে।

বোর্ড সূত্র আরো জানায়, এ ধরনের জালিয়াতি করে কেউ পার পাবে না। কলেজ দুটি যাদের বদলি হয়ে এসেছেন বলে দাবি করেছেন তাদের অনেক ভুয়া পরীক্ষার্থী। বিএএফ শাহিন কলেজের এক পরীক্ষার্থীকে মডেল কলেজের অধ্যক্ষ তাদের পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়েছেন।

ঢাকা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুল হক আজিজকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুলের গভর্নিং বডি। তবে বোর্ডের কর্মকর্তা বলছেন, অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করলেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ রেহাই পাবেন না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্রের জন্য আবেদনকারীদের তথ্য যাছাই বাছাই করার সময়ে ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে। দেড় শতাধিক পরীক্ষার্থীর জাল কাগজপত্র তৈরি করে তা বোর্ডে জমা দেন ওই দুই কলেজের অধ্যক্ষরা।

ঢাকা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অন্য কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিজের কলেজের ছাত্র হিসেবে দেখিয়েছেন অধ্যক্ষ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর জন্য তৈরি করা হয়েছে জাল ট্রান্সফার সার্টিফিকেট।

বোর্ডে বলা হয়েছে এসব পরীক্ষার্থী অন্য কলেজ থেকে বদলি হয়ে এসেছে। কিন্তু কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছেন শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো বদলির সনদ দেয়নি।

পরে বিষয়টি মিডিয়াতে প্রকাশ পেলে সবার টনক নড়ে। ১ এপ্রিল প্রবেশপত্র নিতে আসলে ঢাকা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুল হক আজিজকে গ্রেফতার করান পরীক্ষক। একই দিন রয়েল কলেজের অধ্যক্ষকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এখন তারা জামিনে রয়েছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট