Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিধি সংশোধন করে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের রুলস প্রণয়ন

ঢাকা, ৫ এপ্রিল: বিধি সংশোধন করে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের রুলস প্রণয়ন করা হয়েছে বলে ট্রাইবুনাল সূত্রে জানা গেছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট ১৯৭৩ সনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হয়েছে। এই অ্যাক্ট এর ২২ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল-২) কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল-২)কার্যপ্রণালী-২০১২ প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ প্রেসব্রিফিংয়ের সময় ট্রাইব্যুনালের রুলস ও বিধি প্রণয়ন সম্পর্কিত বিষয়ে সাংবাদিকদের এসব বিষয়ে বলেন।
তার দেয়া তথ্য মতে, প্রথম ট্রাইব্যুনালের বিধিতে যে সব বিষয়ে পরিবর্তন ও সংযোজন করে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে গ্রহণ করা হয়েছে তা হচ্ছে: ‘‘১.বিধি ১৮ (৪) বলা হয়েছিল, প্রসিকিউশন পক্ষে ফরমাল চার্জ ও অন্যান্য দলিল যার উপর প্রসিকিউশন পক্ষ নির্ভর করতে চান তার কপি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরবরাহ করতে হবে। এর সাথে শর্ত হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে, সাক্ষীদের এবং ভিকটিমদের শুধু নাম সরবরাহ করা যাবে। সাক্ষী এবং ভিকটিমদের সুরক্ষার জন্য এই অংশটুকু সংযুক্ত করা আছে।’’

২. বিধি ২৬ এর সাথে ২৬(৪), ২৬(৫) এবং ২৬(৬) উপবিধি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে রিভিউ দরখাস্তের ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে। যেমন- ২৬(৪) বিধি অনুযায়ী কোনো আদেশের বিরুদ্ধে কোনো রিভিউ দরখাস্ত করা হলে তা ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান অথবা চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য পর্যালোচনা করবেন এবং তিনি যদি এই রিভিউ দরখাস্তে বিবেচনার মতো মেটিরিয়াল আছে বলে মনে করেন তবে দরখাস্তটি ট্রাইব্যুনালে শুনানির জন্য স্থানান্তর করবেন। অন্যথায় দরখাসত্মটি স্ট্যান্ড ডিসমিস বা তাৎক্ষণিকভাবে ডিসমিস বলে গণ্য হবে।

২৬(৫) বিধির মাধ্যমে কোনো আদেশের উপর রিভিউ দরখাস্ত শুধু একবার করা যাবে বলে বিধি করা হয়েছে এবং রিভিউ এর অধীনে দ্বিমত পোষণ করে বিচাকরা আদেশ প্রদানের সাত দিনের মধ্যে এরূপ রিভিউ দরখাস্ত করতে হবে।

জানা গেছে, ২৬(৬) বিধি অনুযায়ী প্রতি কার্যদিবসের বেলা তিন টার মধ্যে রেজিস্ট্রার’র দপ্তরে সব দরখাস্ত প্রদানের বিধি করা হয়েছে।

সংশোধনীতে বলা হয়, ‘‘৩. বিধি ৪৩ (৮) বিধি ছিল যে, ‘‘বিনামূল্যে অভিযুক্তকে রায়ের কপি সরবরাহ করা হবে। কিন্তু মূল এ্যাক্টের ১০(J) ধারায় এরূপ বিধান থাকায় এই বিধিমালার ৪৩(৮) বিলুপ্ত করা হয়েছে।’’

এতে আরো বলা হয়, ‘‘৪. বিধি ৫৩ -তে আরেকটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে যা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালের সাক্ষ্য রেকর্ড বিষয়ে। আগের বিধি ৫৩ -তে উল্লে­খ ছিল, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মত যেকোনোভাবে সাক্ষ্য রেকর্ড করা যাবে। কিন্তু বর্তমান বিধি অনুযায়ী কম্পিউটার টাইপের মাধ্যমে অথবা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা মোতাবেক সাক্ষ্যদের সাক্ষ্য রেকর্ড করার যাবে মর্মে বিধান করা হয়েছে।’’

৫৩(২) এই বিধিমালায়ও নতুন সংযোজন করা হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, ‘‘জবানবন্দির বিষয়বস্তু বা সাবজেক্ট মেটার এর উপরে জেরা সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তবে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতার উপর এবং অসংগতি গ্রহণের জেরা বিষয়ে স্বাধীনতা থাকবে।’’

এতে বলা হয়, ‘‘৫৩(৩) ধারার এর মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর বিচারের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ করার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের থাকবে।’’

জানা যায়, ‘‘৫. ৫৫(৫) বিধিতে বিধি অনুযায়ী প্রদর্শিত কাগজ পত্রের বিষয়বস্তু অবশ্যই এডমিজেবল হবে মর্মে পূর্বে বিধান ছিল। এটি পরিবর্তন করে এখন ট্রাইব্যুনালের প্রদর্শিত কাগজ পত্র এডমিজেবল ‘হতে পারে’ মর্মে বিধি করা হয়েছে।’’

এতে আরো ছোট ২ টি পরিবর্তন এই বিধিমালায় করা হয়ে। যেমন, বিধি ৫৪(১) এ ডকুমেন্ট শব্দের পরিবর্তে মেনুস্ক্রিপ্ট প্রতিস্থাপিত হয়েছে এবং বিধি ২৯(১) কগনেজিন্স অব এর পর ‘ এ্যান’ শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ বর্ণিত সংযোজন ও সংশোধনীসহ নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল প্রথম ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রণীত বিধিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের কোনো বিষয়ে একমত বা দ্বিমত প্রকাশের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে রেজিস্টার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রুলস রেজুলেশন কে কিভাবে মানবেন তার জন্য দুই ট্রাইব্রুনালেরই স্বাধীনতা রয়েছে।’’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট