Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জাতীয় পার্টিতে সংঘাত বাড়ছেই

ঢাকা, ৫ এপ্রিল: অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে দিন দিন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত বাড়ছেই। এতে যেমন নেতাদের প্রতি অনুগত কর্মীর সংখ্যা কমছে তেমনি দলের ভাবমূর্তিও দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শীর্ষ নেতা।

সর্বশেষ দলের এসব বিশৃঙ্খলা বন্ধে বক্তৃতার সময় এরশাদের পেছনে দাঁড়ানোর বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নেতাদের নাম উল্লেখ করে পার্টির দফতরের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠি আলাদা খামে সব নেতার নামে পাঠানো হয়েছিলো।

শীর্ষ নেতাদের ক’জন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ওই চিঠি ইস্যুর পর কিছু সভা-সমাবেশে এরশাদের পেছনে নেতাদের দাঁড়ানোর প্রবণতা কম দেখা গেলেও বিশৃঙ্খলা এখনো কমেনি।’’

সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল যুবসংহতির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এরশাদের উপস্থিতিতেই নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। যুবসংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আলমগীর ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দুলালের সমর্থকদের মধ্যে মঞ্চে বসা নিয়ে ওইদিন বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়। এরশাদের উপস্থিতি থাকলেও কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে বিশৃংখলার মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

গত ৩১ মার্চ নোয়াখালীর সেনবাগে জাতীয় পার্টির উপজেলা শাখার বর্ধিত সভায় দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন (৩৫) সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

ওই দিন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. তালেবুজ্জামানের সভাপতিত্বে গনমিলনায়তনে দলের বর্ধিত সভা শুরু হয়। সভা শুরুর ঘণ্টা খানেক পর জতীয় যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলনায়তনের ফটকে যান। এ সময় ভেতরে অবস্থানকারী মোজাম্মেল হোসেন তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয়া মাত্রই উভয়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে গত ৫ মার্চ চৌদ্দগ্রামে পার্টির চেয়ারম্যানের পথসভাকে কেন্দ্র করে পার্টির দু’টি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ওই দিন পার্টির শীর্ষনেতা কাজী জাফর আহম্মদ ও আরেক নেতা শফিকুর রহমানের নেতাকর্মীরা ভাগ হয়ে আলাদাভাবে সভা করতে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। এতে শফিকের আবেদন পুলিশ নাকচ করে দেয়।

আগেরদিন রাতে ‘চৌদ্দগ্রামে ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা’ বিষয়ে বার্তা২৪ ডটনেট সংবাদ প্রকাশ করলে সেটি এরশাদের নজরে পড়ে। পরে এরশাদের সিদ্ধান্তে পথসভা বাতিল করা হয়।

এছাড়া ওইদিন ফেনীর জনসভায়ও নেতাদের মধ্যে কোন্দলের বিষয়টি প্রকাশ পায়। ফেনী নদী অভিমুখে ওই লংমার্চের উদ্যোক্তা ছিলেন পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী। নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তিনি সভায় বক্তৃতার সুযোগ পাননি।

এসব প্রসঙ্গে পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহম্মদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমাদের দল খুবই সুশৃঙ্খল। এখনো পর্যন্ত কোনো কোন্দল বা দলাদলি নেই। ইতোপূর্বে কোনো অনুষ্ঠানে এমন কিছুই হয়নি।”

আরেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার এসএম ফয়সাল চিশতি বলেন, “আমাদের দল বড় হচ্ছে। তাই কিছু বিছিন্ন ঘটনাতো ঘটবেই। এটি পজেটিভ।”

একই মন্তব্য করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার। তিনি বলেন, “নেতৃত্বের পরিবর্তন হচ্ছে। ক্ষমতায় যেতে এটি আমাদের ইঙ্গিত বলতে পারেন। আগামীতে আমরা সরকার গঠনে সাধারণ মানুষ আমাদের চাচ্ছে, এতে এমন কিছু ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট