Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দলে বেকায়দায় থাকলেও মির্জা ফখরুলই মহাসচিব হচ্ছেন

ঢাকা ৫ এপ্রিল: সরকারের চাপে নয়, দলের প্রভাবশালীদের চাপের মুখে রয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ কারণে দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তাকে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আগামী ৮ এপ্রিল দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায়ও এ দাবি উঠবে। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও চাচ্ছেন মির্জা আলমগীরকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে।

জানা গেছে, দীর্ঘ এক বছর ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করলেও দলটির গঠনতন্ত্রে এর কোনো বিধানই নেই।

বিএনপি’র গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলতে কোনো শব্দ নেই, সেটা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. আ স ম হান্নান শাহ মিডিয়ায় একাধিকবার বলেছেন। মির্জা ফখরুলকে দায়িত্ব দেয়ার প্রাক্কালেও তিনি একই কথা বলেছেন। পরবর্তীতে দলের স্থায়ী কমিটির সভা শেষে মির্জা ফখরুল দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে চিকিসাধীন অবস্থায় মারা যান দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ২০ মার্চ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সৌদি আরবে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুলকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে যান। এ নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ তাকে মানতে রাজি হলেও অধিকাংশ সিনিয়র নেতা এটা মানতে নারাজ। এমনকি দলের যুগ্ম-মহাসচিব দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা রুহুল কবির রিজভীও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিতে ছিলেন। ওই সময় তিনি অসুস্থতার কথা বলে কয়েকদিন দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থাকেন। ২৭ মার্চ দেশে ফিরে আসেন খালেদা জিয়া।

দেশে ফিরে ৬ এপ্রিল দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকেন। ১৯ জন স্থায়ী কমিটির সদস্য বিএনপি’র। খোন্দকার দেলোয়ারের মৃত্যুতে ১৮ জন স্থায়ী কমিটির সদস্যের মধ্যে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১৪ জন।

বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ব্রিফিং এ বলেন, ‘‘দলের গঠনতন্ত্রের পদ বিন্যাস অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।’’ এই দায়িত্ব পালন করে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি বলেছি তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।’’ করে যাবেন কিনা তা পরিষ্কার করেননি নজরুল ইসলাম খান। সেই থেকে এখনো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

গত এক বছরে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক সফলতা থাকলেও মির্জা আলমগীরকে অনেকেই মহাসচিব হিসেবে মেনে নিতে চাইছেন না। মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাতে গোনা কয়েকজন নেতাই মূলত মির্জা আলমগীরের শক্তি। এক্ষেত্রে মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাই মির্জা আলমগীরের সবচেয়ে বড় শক্তি। এজন্য দলের অনেক ত্যাগী নেতা ক্ষুব্ধ আলমগীরের ওপর। তারা বলছেন, ‘‘এই মুহূর্তে দলের মহাসচিব হওয়ার জন্য মির্জা আলমগীরের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে অনেকেই তার ওপর নাখোশ। কারণ সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন এক-এগারোর সংস্কারপন্থিদের একজন।’’

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য ছাড়া অধিকাংশ নেতাই মির্জা আলমগীরকে মহাসচিব মানতে পারছেন না। এর পেছনে অবশ্য অনেক কারণও রয়েছে। মির্জা আলমগীরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বর্ণাঢ্য হলেও দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের অনেকের তুলনায় তিনি দলে নবীন। সে কারণে প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করলেও মনে মনে অনেকে মানতে পারছেন না যে মির্জা আলমগীর পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হোক। অবশ্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও এমকে আনোয়ারের মতো নেতাও মহাসচিব হতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র মধ্যম সারির নেতারা। সে কারণে তারা মির্জা আলমগীরের পক্ষে থাকতে চাইবেন না এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিএনপির দলীয় সূত্র।

এক্ষেত্রে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তাকের রহমান ব্যতিক্রম। তারা দুজনেই মির্জা আলমগীরকেই দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন। তবে তার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যই এক বছর ধরে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আর এ গনি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এমকে আনোয়ার, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আববাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এম শামসুল ইসলাম মির্জা আলমগীরের চেয়ে অনেক সিনিয়র। এরা কেউই চান না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব হোক। এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জেলে আটক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীও নাকি মির্জা আলমগীরের মহাসচিব হওয়ার পক্ষে নন। অবশ্য এর পেছনে কারণও রয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রেফতারের পর তার মুক্তির জন্য চট্টগ্রাম বিএনপি আধাবেলা হরতাল ছাড়া কোনো আন্দোলন করেনি মূল দল।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যেও মির্জা ফখরুলকে নিয়ে রয়েছে দ্বিধাবিভক্তি। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলে ১৭ জন্য ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে ৫/৬ জন রয়েছেন তার পক্ষে। প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, এম মোরশেদ খান, হারুন আল রশিদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনরা তার পক্ষে নেই। অন্য দিকে আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমানরা তার পক্ষে আছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আছেন ৩৫ জন। এদের মধ্যেও অধিকাংশ সদস্য মির্জা আলমগীরের বিরোধী ছিলেন। অবশ্য গত এক বছরে তাদের অনেকেই তার প্রতি নমনীয়।

দলে রয়েছেন সাত জন যুগ্ম-মহাসচিব ও ছয় জন সাংগঠনিক সম্পাদক। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মির্জা ফখরুলের বিরোধী।

জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এক ডজনেরও বেশি অভিযোগ যায় চেয়ারপারসনের কাছে। এসব অভিযোগ সবই ছিল মির্জা আলমগীর অযোগ্যতা নিয়ে। দল পরিচালনায় অনভিজ্ঞ। কমিটি সঠিকভাবে না দেয়া। অভিযোগগুলো পাওয়ার পর চেয়ারপারসন অভিযোগকারীদের ওপরে নাখোশ হয়েছেন। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দ্রুত মির্জা আলমগীরকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র মতে, অভিযোগকারীদের ওপর চেয়ারপারসন নাখোশ, এই জন্য যে মির্জা ফখরুল যেসব সিদ্ধান্ত দেন তা সবই চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্ত। তিনি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না। সুতরাং মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া মানেই চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যাওয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি’র একজন নেতা বলেন, ‘‘বিএনপি মানেই খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত। খালেদা জিয়া যা বললেন দল সেভাবেই চলবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সুতরাং তার অযোগ্যতা আর যোগ্যতা কোনো বিষয় নয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে কোনো নেতা নেই। থাকলেও তারা প্রকাশ করেন না। আর মহাসচিব হওয়ার মতো তার কোনো বিকল্পও এখন বিএনপিতে নেই।’’

তৃণমূল পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘‘দলের অনেক নেতার চেয়ে মির্জা ফখরুল জুনিয়র। এমনকি ২০০৩ সালের কাউন্সিলে তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন না। এ অবস্থায় তিনি মহাসচিব হলে অনেক সিনিয়র নেতার গাত্রদাহ হতেই পারে।’’ তিনি এটাও বলেন, ‘‘দলে অনেক সিনিয়র নেতা থাকলেও মহাসচিব হওয়ার মতো নেতার অভাব রয়েছে।’’

জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া না দেয়াটা শতভাগই নির্ভর করছে চেয়ারপারসনের ওপর। তিনি যখন ইচ্ছা তাকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিতে পারেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট করে ভারপ্রাপ্ত লেখা নেই। তবে মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে একজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়।’’

গয়েশ্বর চন্দ্র আরো বলেন, ‘‘আমি মনে করি না ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে। আর তিনি (মির্জা ফখরুল) নিজেও এটা ফিল করেন বলে মনে হয় না।’’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট