Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শেখানো সাক্ষ্য দিয়েছেন রুমি: বাবরের আইনজীবী

চট্টগ্রাম, ৪ এপ্রিল: চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র আটক এবং চোরাচালান মামলা দুটির অন্যতম সাক্ষী প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদেক হাসান রুমির জেরা শেষ হয়েছে।

বুধবার দুপুর থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো তার অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

চট্টগ্রাম স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে এই মামলার কার্যক্রম শুরু হয় বুধবার বেলা সোয়া ১২টায়।  দুইটা ৩০ মিনিট থেকে তিনটা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতির পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত জেরা চলে।

মামলার কার্যক্রম শুরুর আগে জামায়াত নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আটক ১১ আসামিকে কড়া প্রহরায় দ্বিতীয় দিনের মতো আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত আগামী ১৭ এপ্রিল মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। ওইদিন এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. এনামুর রহমান চৌধুরীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

বুধবার জেরার সময় মামলার অন্যতম আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফরজ্জামান বাবরের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, মফিজুল হক ভূইয়া ও মাহবুব আলম বলেন, “শোনা কথায় সিআইডির চাপের মুখে শেখানো সাক্ষী দিয়ে জেনারেল রুমি। তাদের মক্কেল বাবরকে এ মামলায় ফাঁসাতে চেষ্টা করেছেন।”

জবাবে রুমি ‘‘এটা সত্য নয়’’ বলে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবারের অসমাপ্ত জেরায় এ মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আহসান ও অ্যাডভোকেট কামরুল  ইসলাম সাজ্জাদ শুরুতেই সাদেক হাসান রুমিকে ডিজিএফআই দায়িত্ব থাকাকালীন  সিইউএফএল ঘাট পরিদর্শন, পরেশ বড়ুয়ার সম্পৃক্তার বিষয়টি গোয়েন্দা জীবনের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পেরেছিলেন কিনা মেজর জেনারেলের পদ মর্যাদার একজন অফিসার স্কট করে লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার অফিসারের কাছে যেতে পারেন কিনা প্রশ্ন করা হলে  উত্তরে রুমি নেতিবাচক জবাব দেন।

রুমিকে উদ্দেশ্য করে আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, “রেজ্জাকুল হায়দারের সঙ্গে উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়ার যোগাযোগ আছে।” জবানবন্দীর দেয়া বক্তব্য উল্লেখ করে আইনজীবী তাকে আরো বলেন, “রেজ্জাকুল হায়দারের কাছে তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলেও তিনি জানাননি।” এ সময় আইনজীবী ‘‘তিনি কি পেশাগত জেলাসি ও বর্তমান সরকারের প্রেসারে এসব কথা বলেছেন কিনা প্রশ্ন করলে রুমি না বলে উত্তর দেন।”

আইনজীবী মাহবুবরের এক প্রশ্নের উত্তরে রুমি বলেন, “তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া কাউকে কিছু বলেননি।” এরপর আইজীবী রুমিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, “সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর যে আপনাকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে বারণ করেছিলেন তা আপনি প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তাও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বলেননি। বলেছেন সাক্ষী দেয়ার সময় আদালতে।” তখন রুমি বলেন, “মনে পড়ছে না।”

এ পর্যায়ে আইনজীবী ঘটনার দীর্ঘদিন পর মামলাকে সাজানোর জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বানোয়াট কল্পকাহিনী সৃষ্টি করেছেন কিনা প্রশ্ন করলে রুমি সত্য নয় বলে উত্তর দেন।

এরপর দুপুরে বিরতির সময় লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবি আব্দুস সোবহান তরফদার সাংবাদিকদের জানান, ‘‘শোনা কথায় সাদেক হাসান রুমি আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে যা বলেননি তা দীর্ঘ সময় পর এসে আদালতে বলেছেন। এটি অবশ্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’

বিকালে আসামি লিয়াকতের আইনজীবী ডিজিএফআই’র সুপারিশ ছাড়া বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কেউ কাজ করতে এবং কালো তালিকাভুক্ত কেউ বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে যেতে পারেন কিনা প্রশ্ন করলে জেনারেল রুমি না বোধক উত্তর দেন। এসময় আদালত প্রশ্ন করেন ‘‘ডিজিএফআই’র সার্টিফিকেটের ওপর দেশ চলবে নাকি?’’

বুধবার দিনভর আসামি পক্ষের আট আইনজীবী জেনারেল রুমিকে জেরা করেন।

ইতিপুর্বে এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও শিল্পসচিব ড. শোয়েব আহমদ চৌধুরী, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, সিএমপির তৎকালীন সহকারী-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুর রহমান সাক্ষ্য দেন।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল গভীর রাতে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল এর জেটিতে খালাসকালে অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটকের ঘটনায় অস্ত্র ও চোরাচালান আইনে দুটি মামলা হয়।

অবৈধ অস্ত্র আটক বিষয়ে মামলার আসামিদের মধ্যে নিজামী, বাবর, রেজ্জাকুল রহিমসহ ১১ আসামি আটক থাকলেও মূল ও সম্পুরক চার্জশিটভূক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব নুরুল আমীন ও আসাম ভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এখনো পলাতক রয়েছেন।

বিগত জোট সরকারের আমলে করা তদন্তে মূল আসামিদের বাদ দেয়া হয়েছে এ অভিযোগে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেয়া অধিকতর তদন্তের আদেশ মোতাবেক সাড়ে তিন বছর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন চট্টগ্রাম সিআইডি আদালতে ওই মামলা দুটির সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। ২০১১ সালের ১৫ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে এবং একই বছরের ২৯ নভেম্বর কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ আলোচিত মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট