Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ডেসটিনি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে দুদকের কমিটি

 মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ২ সদস্যের টিম শিগগিরই মাঠে নামছে। প্রতারণার  মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদারকে প্রধান করে গতকাল একটি টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অপর সদস্য হলেন- সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। প্রয়োজনে এ টিমের সংখ্যা আরও বাড়বে। দুদক কমিশনার এম বদিউজ্জামান মানবজমিনকে এ তথ্য জানান। অন্যদিকে ডেসটিনি’র বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর-এর সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেল থেকে প্রতিষ্ঠানটির ১২টি অঞ্চলে সোমবার চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে- সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ডেসটিনি কোন কর ফাঁকির ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা। আর ঘটলে তার পরিমাণ কত। তবে গতকাল পর্যন্ত এনবিআর-এর প্রধান কার্যালয়ে এ জাতীয় কোন তথ্য আসেনি বলে সূত্র জানিয়েছে। তাছাড়া প্রধান কার্যালয়ে পক্ষ থেকে আলাদা একটি ইউনিট এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। শাখা কার্যালয় থেকে তথ্য আসার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা জোরদার করা হবে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান জানান, আমরা কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লক্ষ্য করছি ডেসটিনির রিরুদ্ধে শ’ শ’ কোটি টাকার কর ফাঁকি, অবৈধ ব্যাংকিং, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং অবৈধভাবে টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তররের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। পত্রপত্রিকার এসব খবরকে আমরা আমলে নিয়েছি। এর ভিত্তিতে দুদক স্বপ্রণোদিতভাবে কাজ শুরু করেছে। দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই দু’জন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুদক গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে। অপরাধী যিনিই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদকের অবস্থান কোন মাল্টি লেভেল কোম্পানির বিরুদ্ধে নয়। আমাদের বিবেচ্য বিষয় মানি লন্ডারিং এবং দুদকের তফসিলভুক্ত অন্যান্য অপরাধ। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেসটিনির অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন দুদকে এখনও আসেনি। বিষয়টি নিয়ে দুদক প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করবে বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন গোলাম রহমান। পাশাপাশি তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, টাকা খরচ করলে দুর্নীতির মামলা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা যায়। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাইলে আগে বিচার ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। প্রয়োজন আইনের ফাঁকফোকর দূর করা। দুদক কমিশনার এম বদিউজ্জামান বলেন, এটি একটি বড় ধরনের কাজ। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেড়িয়ে যেতে পারে। আমরা মূলত মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ডেসটিনির প্রতারণার ও জনস্বার্থবিরোধী কাজের প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশে ব্যাংক ২০০৪ ও ২০০৫ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়কে পৃথক চিঠি দিয়েছিল। ২০১১ সালে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। আমরা ওইসব চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চাইবো। কি কারণে ডেসটিনির বিরুদ্ধে এতদিন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। তিনি জানান, আগে আমরা ডেসটিনির প্রতারণার বিষয়টি খুঁজে বের করবো। পরে দেখবো প্রতারণার মাধমে অর্জিত অর্থ কোথায় গিয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কাউকেই ছাড় দেবো না। অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুদক উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার জানান, বিষয়টি নিয়ে যে আমাকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা এখনও আমি জানি না। আমার কাছে এখনও অর্ডার আসেনি। তাছাড়া আমি ১২ই এপ্রিল পর্যন্ত রেস্ট অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ছুটিতে আছি। অপর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম জানান, কমিশনের আদেশ এখনও পাইনি। এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে আগামীকাল (আজ) হয়তো আদেশ পাবো।

সোর্স মযমিন

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট