Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ওরা কি ছিনতাইকারী?

নরসিংদীর পাঁচদোনা ড্রিম হলিডে পার্ক থেকে মাইক্রোবাসে করে মদনগঞ্জের রাস্তা ধরে যাচ্ছিল ওরা। পথে সামনে-পিছনে দু’দিক থেকে তাদের গাড়ি আটক করে র‌্যাব। কাছ থেকে গুলি করা হয় তাদের। র‌্যাব-এর  অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীর ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলে তারা গুলি চালায়। র‌্যাব পাল্টা গুলি চালালে নিহত হয় ৬ ছিনতাইকারী। সরজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে এ অভিযোগ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন শোনা যায়।

জনমনে সন্দেহ, নিহত ৬ জন কি আসলেই ছিনতাইকারী ছিল? সোমবার র‌্যাবের গুলিতে নিহত দুই ছাত্র নাহিদ ও আরিফের পরিবারে মাতম থামছে না। তারা দু’জনেই এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আরিফ  নরসিংদীর শিবপুর উপজেলাধীন কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। নাহিদ শহরের সাটিরপাড়া মীর ইমদাদ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র। কলেজে ভর্তির আগে তারা পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় ছিল। র‌্যাবের গুলি তাদের সে অপেক্ষার চির অবসান ঘটিয়েছে।
গতকাল নিহত আরিফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ভাইয়ের মরদেহ জড়িয়ে বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন আরিফের বড় বোন আঁখি। তিনি বলেন, দেশে এ কেমন আইন যে রাস্তায় গুলি করে একজনের বুক ঝাঁজরা করে দেয়া হবে? আরিফের বিরুদ্ধে কোন থানায় মামলা নেই বলে জানান তিনি। আঁখি অভিযোগ করেন, আমার ভাই গাড়ি থেকে নেমে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করেছে র‌্যাব। এ ঘটনা অনেকেই দেখেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আরিফের বোনজামাই মানিক বলেন, র‌্যাব এত বড় একটা অন্যায় করলো কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আরিফের পরিবারের সদস্যদের আহাজারি আর মাতমে শোকাচ্ছন্ন বাড়িতে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। নিহত আরিফ এসএসসি পরীক্ষা শেষে শহরের ভেলানগর বাজারে ফটোকপি ও কম্পিউটার কম্পোজের ব্যবসা শুরু করে। সে ভেলানগর এলাকার আবদুল হাশিমের বড় ছেলে। র‌্যাবের গুলিতে নিহত অপর ছাত্র নাহিদের বাড়িতেও  শোকের মাতম।  নাহিদের মা নাছিমা বলেন, সোমবার দুপুরে নাহিদের এক বন্ধু তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর  সে আর ফিরে আসেনি। বিকালে লোকমুখে শুনি  আমার ছেলেকে র‌্যাব গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, দেশে কি কোন আইন নেই? আইন থাকলে তো আমরা বিচার পেতাম। নাহিদের বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা নেই বলে দাবি করেন নাছিমা বেগম। নিহত নাহিদের চাচাতো বোন সানিয়া বলেন, আমার ভাই যদি কোন অপরাধ করে থাকে তা হলে পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করলো না? কেন তাকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হলো? এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা। সোমবার র‌্যাবের গুলিতে নিহত ৬ জনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল বিকালে লাশ দাফন করা হয়। ওদিকে এ ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব।
ঘটনার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস র‌্যাবের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায়। মাইক্রোবাসের চালক মোশারফের বুকও গুলিতে ঝাঁজরা হয়। তার গুলিবিদ্ধ দেহ পরে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে টেনে বের করা হয়। মোশারফ সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের কুড়েরপাড় গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আওয়ালের পুত্র। তার পরিবাবের দাবি মোশারফ অপরাধী ছিল না। গাড়ি চালিয়ে সে যা আয় করতো তা দিয়েই চলতো সংসার। ৭ সন্তানের জনক মোশারফ। মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল হালিম খান জানান, মোশারফের বিরুদ্ধে কোনদিন কোন অভিযোগ আসেনি। সে এলাকায় ভাল ছেলে হিসেবে পরিচিত।
সোমবার যে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় তাদের বাকি ৩ জন সদর উপজেলা মাধবদী কান্দাপাড়া এলাকার জজ মিয়া, তার ছোট ভাই শামীম এবং নারায়ণগঞ্জ ভুলতা গাউছিয়া এলাকার জামাল। এ ঘটনায় আরও ৪ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন শিবপুর কুমরাদি এলাকার মাসুম, সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকার মনির, রায়পুরা উপজেলার পিরিজকান্দি এলাকার অমর বিশ্বাস ও নরসিংদীর বিলাশদি এলাকার শাওন। আহত শাওন নরসিংদী শহরের বিলাসদী মোল্লাপাড়া এলাকার। সে মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। তার পিতা হারুন অভিযোগ করেন, আমার ছেলের কাছে কোন পিস্তল ছিল না। সে পরিস্থিতির শিকার। আমার ছেলেকে র‌্যাব ২টি গুলি করেছে। তাকে এখন পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসা করাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা নেই। ওদিকে এ ঘটনায় র‌্যাব কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। গতকাল যোগাযোগ করা হলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, এক্ষেত্রে কোন তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে না। তবে সেখানে গুলি চালানো যৌক্তিক ছিল কিনা বা কি পরিস্থিতিতে তারা গুলি চালিয়েছে ইত্যাদি বিষয় জানিয়ে ব্যাটালিয়ন একটি রিপোর্ট সদর দপ্তরে পাঠাবে। সেটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবো। এছাড়া অন্যান্য বিষয় আইন অনুযায়ী এগিয়ে যাবে। র‌্যাব ১১-এর অধিনায়ক আবু হেনা মোস্তফা বলেন, আরিফ ও নাহিদ নামের যে দু’জন ছাত্রের কথা বলা হচ্ছে তাদের দু’জনের বিরুদ্ধেই মামলা আছে। নাহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও আরিফের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে দায়ের করা নন জিআর মামলা আছে। তিনি বলেন, তারা ভাল ছেলে হলে তো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে থাকতো না। ছাত্র হলেই যে তারা অপরাধী নয় তা বলা যাবে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট