Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাংলাদেশী পুলিশের কাছে কোনো জবাব নেই: সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রিয়াদ, ৩ এপ্রিল: ঢাকায় সৌদি কূটনীতিক খালাফ আল আলি খুন হওয়ার পর প্রায় একমাস কেটে গেছে; কিন্তু এ খুনের রহস্য সমাধান করা কিংবা মামলাটির কোনো ধরনের অগ্রগতিতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এমন মন্তব্য করেছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আরব নিউজ-এর। প্রতিবেদনে বলা হয়, খুনের মামলাটির কিনারা না হলে সৌদি অভিবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের নিয়ে সংকট শুরু হতে পারে।

খুন তদন্তে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জন্য চার সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে জানিয়ে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাউদ্দিন আল আসকারি মঙ্গলবার আরব নিউজকে বললেন, ‘‘বাংলাদেশী নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখনো কাউকে গ্রেফতার বা মামলাটিতে সন্দেহভাজ কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি।’’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘খুনীদের তালাশে বাংলাদেশের পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। দেশটির পুলিশের যেন দেয়ার কিছুই নেই।. কারা খুনী… খুনের পেছনে কী অভিসন্ধি ছিল… পুলিশের কাছে স্রেফ কোনো জবাবই নেই।’’
অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা গত ৬ মার্চ রাতে ঢাকার গুলশানে সৌদি কূটনীতিক খালাফ আল আলিকে গুলি করে। আল আলি দেশটির ঢাকাস্থ দূতাবাসের কনুসলার বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন। মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হবার পরে মুমূর্ষু অবস্থায় শহরের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।
চারজনের প্রতিনিধিদল
সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘কূটনীতিক হত্যার এ তদন্তে বাংলাদেশী নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করার জন্য সৌদি কর্মকর্তাদের চার সদস্যের একটি দলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’’
প্রতিনিধিদলে কারা রয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের নিয়ে দলটি গঠন করা হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে অপরাধীদের শনাক্ত করা ও তাদের আইনের আওতায় আনা।’’
কোনো অগ্রগতি নেই
আরব নিউজ জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত ২১ মার্চ রিয়াদ সফর করে সৌদি সরকারকে জানান যে খুনের তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, তদন্তে কোনো কিছুই বাদ যাবে না এবং কোনো সম্ভাবনাই অবহেলা করা হবে না। ‘‘কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতিই অর্জিত হয়নি’’, মঙ্গলবার বললেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আল আসকারি বলেন, এ জঘন্য অপরাধের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের ধরার জন্য বাংলাদেশী পুলিশের প্রচেষ্টার মাত্রা বাড়ানো উচিত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুনের মামলাটির কিনার করার জন্য তিনি বাংলাদেশকে আহবান জানান।
বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে সংকট
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রায় বিশ লাখ বাংলাদেশী নাগরিক সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন। তাছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দাতা দেশ হচ্ছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ সরকার যদি সংক্ষিপ্ততম সময়ে আল আলীর খুনিদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ লাখ বাংলাদেশী অভিবাসীকে কেন্দ্র করে সত্যিকারের সংকট শুরু হতে পারে।
পত্রিকাটি মন্তব্য করে, সম্প্রতি বাংলাদেশ খুব অপরাধ প্রবণ হয়ে পড়ছে। মাস দুয়েক আগে দুইজন সুপরিচিত টিভি সাংবাদিক রাজধানী ঢাকায় তাদের নিজ বাসায় খুন হয়েছেন । কিন্তু এখনো খুনের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনা হচ্ছে বাংলাদেশে এখন নানা ধরনে অপরাধ হচ্ছে। এর মধ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধের মধ্যে রয়েছে মাদক পাচার, খুন, মুদ্রা পাচার, চাঁদাবাজি ও প্রতারণা। অন্যান্য অপরাধের মধ্যে রয়েছে মানব পাচার, দুর্নীতি, কালোবাজারি, রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও অপহরণ।
একইসঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোতে উৎপাদিত মাদক পাচারের প্রধানতম পথ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বা আইএনসিবি’র সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপে মাদক পাচারের সবচেয়ে প্রধান পথ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট