Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মুজাহিদের বাবাকে বঙ্গবন্ধু পুরস্কৃত করেন: ব্যারিস্টার কবির

ঢাকা, ২ এপ্রিল: আলী আহসান মো. মুজাহিদের সঙ্গে রাজনীতি করলেও যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকার ছিলেন  এমন কোনো অভিযোগ কখনো করেননি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন যুক্তি তুলে ধরে আলী আহসান মো. মুজাহিদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আনা আবেদনের উপর শুনানি করেন তার আইনজীবী।

 

সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় আটক জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে তার আইনজীবী এ কথা বলেন।

 

তিনি দীর্ঘ সাত বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করলেও তাকে কখনো তিনি যুদ্ধাপরাধী বলেননি বলে যুক্তি উপস্থপন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মুন্সী আহসান কবির।

 

শুনানিতে তিনি বলেন, “ফরিদপুরে তার সঙ্গে দেখা হতো এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারে দাবিতে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোরনের সময় মুজাহিদ ছিলেন সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ওই কমিটির সভাপতি।”

 

তিনি বলেন, “মুজাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও তার বাবা আব্দুল আলী ছিলেন তৎকালীন ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও পিসকমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠিত রাজাকার তবুও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ করেনি কেউ।”

 

স্বাধীনতার পরে তার ভালো কাজের জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমান এ্যওয়ার্ড  দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। কিন্তু তার ছেলে মুজাহিদ তার বাবার আদর্শে বড় হয়ে ওই সময় কোনো প্রকার অপরাধ না করেও তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অপরাধ  প্রমাণ করতে পারবেন না। কারণ মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি দেশত্যাগ করেননি। যারা দোষী ছিলেন তারা ঠিকই দেশ ত্যাগ করেছেন। তিনি একদিনের জন্যও পালিয়ে যাননি।”

 

এ সময় তার আইনজীবী বলেন, “জামায়াতের রাজনৈতিক শক্তি বিবেচনার করেই আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদের বিরুদ্ধে ও তাদের নেতাদের উপর মানবতাবিবোরাধী অপরাধের অভিযোগ এনেছেন ট্রাইব্যুনালে।”

 

প্রথম ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানি ১১ এপ্রিল ধার্য করেন।

 

এর আগে গত ২০ মার্চ মুজাহিদের অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর ২২ মার্চ মুজাহিদের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

 

এর আগে তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম সময় আবেদন করলে ২ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল ২৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করেছিল।

 

গত ২৬ জানুয়ারি মুজাহিদের অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৩ ফেরুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছিল ট্রাইব্যুনাল।

 

২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুজাহিদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে যথাযথ ভাবে উপস্থাপিত হয়নি মর্মে ফেরত দিয়ে পুনরায় ১৬ জানুয়ারির মধ্যে তা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টারের কাছে সুবিন্যস্তভাবে দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আলী আহসান মো. মুজাহিদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আবার ১৬ জানুয়ারি দাখিল করেন।

 

আলী আহসান মো. মুজাহিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্রে ১০৯ পৃষ্ঠার ৩৪টি অভিযোগে বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।

 

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদকে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ট্রাইব্যুনালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট