Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ

লায়েকুজ্জামান: ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ। সদ্য বিভক্ত সিটি করপোরেশনের উত্তর-দক্ষিণ দু’পাশেই আওয়ামী লীগের একাধিক জাঁদরেল প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অনেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। দল মনোনয়ন না দিলেও নির্বাচন করবেন এমন আভাস পাওয়া গেছে বেশ কয়েক সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখে। স্থানীয় সরকারের এ অরাজনৈতিক নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ না থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন আর দলীয় দৃষ্টিকোণের বাইরে থাকে না। রাজনৈতিক দলগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী বাছাই করে, দলীয়ভাবে সমর্থন করেন, নেতানেত্রীরা তাদের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন, ভোট চান। সিটি করপোরেশন নির্বাচন অরাজনৈতিক হলেও দলীয় সমর্থন একটি বড় ফ্যাক্টর। আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা স্বীকার করলেন প্রার্থী বাছাইয়ে সংকটের কথা। বললেন, উত্তর-দক্ষিণ উভয় দিকেই সমস্যা, দলীয় একাধিক জাঁদরেল প্রার্থী, তারপরও আছে শরিক ১৪ দল। এটা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সিটি করপোরেশনের দক্ষিণে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তিন জন। সাঈদ খোকন, হাজী সেলিম এবং আওলাদ হোসেন। উত্তরে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আবুল বাশার, কামাল আহমেদ মজুমদার এবং ১৪ দলের শরিক জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তার।
দক্ষিণে সাঈদ খোকন ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পুত্র। সাঈদ খোকনের নানা মাজেদ সরদার ছিলেন ঢাকা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আদি ঢাকাইয়া হিসেবে পুরান ঢাকায় তাদের অধিপত্য দীর্ঘ দিনের। সাঈদ খোকনের ইমেজও অনেকটা ক্লিন, ব্যাপক কোন বদনাম নেই তার বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও আছে। তাছাড়া মোহাম্মদ হানিফের ছেলে বলে বাড়তি সুবিধাও আছে তার।
হাজী সেলিমও আদি ঢাকাইয়া মানুষ। এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা আছে। তার বিরুদ্ধে অনেক রকম অভিযোগ থাকলেও ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সিংহভাগ হাজী সেলিমের পক্ষে। নেতাকর্মীরা চান হাজী সেলিমের মনোনয়ন। এখানে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া আওয়ামী লীগের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে মোহাম্মদ হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন তুলনামূলক ভাবে ক্লিন ইমেজের অন্যদিকে এলাকার নেতাকর্মীদের প্রিয় হাজী সেলিম। দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে যেতে পারেন যে কেউই।
উত্তরে জোরেশোরে মাঠে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলের দুর্দিনের নেতা হিসেবে পরিচিত মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর যুবলীগ নেতা বায়রার সভাপতি আবুল বাশার ও ডাকসুর সাবেক ভিপি  মাহমুদুর রহমান মান্না। দলীয় মনোনয়ন চান মিরপুরের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারও। আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর পাশাপাশি দক্ষিণ থেকে উত্তরে সরে এসে প্রচারণা শুরু করেছেন ১৪ দলের শরিক জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর তিনি প্রচারণা শুরু করেন উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসবে। এখানে মোফাজ্জল হোসেন মায়া আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট চাওয়ার প্রচারণা শুরু করেছেন মিরপুর শাহ আলীর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের একজন মায়া। মহানগর আওয়ামী লীগকে দীর্ঘদিন ধরে সুসংগঠিত করে রেখেছেন তিনি। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আমলে ছেলের কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েন তিনি। সে বিতর্ক এখনও তার পিছু ছাড়েনি। উত্তরে মেয়র প্রার্থী আবুল বাশার- এখনও তার কোন বদনাম প্রকাশ্যে আসেনি। আবুল বাশার যুবলীগের মহানগর নেতা, বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে শেখ হাসিনার গুড বুকে আছে যুবলীগ। বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনার নিউক্লিয়ার্স বলে পরিচিত সাত নেতার তিনজনই যুবলীগের। জানা গেছে যুবলীগে শেখ হাসিনার কাছের লোক বলে পরিচিত নেতারা চাচ্ছেন আবুল বাশারকে মেয়র প্রার্থী করতে। মাহমুদুর রহমান মান্না সাধারণ ভোটারদের কাছে ফ্রেশ ইমেজের লোক। কিন্তু আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড নাখোশ তার ওপর।
উত্তরের দলীয় মনোনয়ন আরও জটিল হয়ে পড়েছে, মায়া দলের পরীক্ষিত নেতা অন্যদিকে আবুল বাশারের জন্য যুবলীগের চাপ। তাছাড়া মাহমুদুর রহমান মান্না ভোটারদের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য। আবার এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতির কারণে ১৪ দলের ঐক্য ঠিক রাখা আওয়ামী লীগের জন্যই বেশি প্রয়োজন। শরিকদের প্রার্থী শিরিন আক্তার, তিনিও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী।
আওয়ামী লীগের একটি অংশ মনে করে মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলেও তিনি নির্বাচন করতে পারেন এবং নাগরিক কমিটির ব্যানারে বিএনপি তাকে সমর্থন দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সিলমারা নেতাদের প্রার্থী করে পাস করানো কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী জাসদের শিরিন আক্তারকে দক্ষিণের বদলে উত্তরে প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সে পরামর্শ নিয়ে শিরিন আক্তার ২৬শে মার্চ মিরপুর বুদ্ধিজীবী  স্মৃতিসৌধ থেকে শপথ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন। শিরিন আক্তারকে উত্তরে প্রচারণা চালানোর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শকে জাসদ দেখছে ইতিবাচকভাবে।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি মানবজমিনকে বলেন, শিরিন আক্তার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে প্রধানমন্ত্রী তাকে দক্ষিণের বদলে উত্তরে প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি, আমরা দলীয়ভাবে আলোচনা করে শিরিন আক্তারকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ফলো করার কথা বলেছি। সে অনুসারে শিরিন আক্তার ২৬শে মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন মিরপুর থেকে। শিরিন আক্তার নিজেও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শকে সমর্থন পাওয়ার গ্রিন সিগন্যাল হিসেবে মনে করছেন।
ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সিংহ ভাগ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে। নেতাকর্মীরা মনে করেন, মেয়র নির্বাচনে মায়াই আওয়ামী লীগের সমর্থন পাচ্ছেন। মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম মানবজমিনকে বলেন, দলের হাই কমান্ডের সিগনাল পাওয়ার পরই তিনি মাঠে নেমেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আছে তার সঙ্গে। কি কারণে তিনি মনোনয়ন পাবেন না?
মেয়র প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সমর্থন চাচ্ছি, তবে এটা স্থানীয় নির্বাচন, দলীয় নির্বাচন নয়, দল সমর্থন দিক বা না দিক আমি নির্বাচন করবো বলে চূড়ান্ত করেছি।
ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের সভাপতি, বায়রার সভাপতি মেয়র প্রার্থী আবুল বাশার বলেন, সভানেত্রী শেখ হাসিনা যদি দলের সমর্থন দেন তা হলে আমি প্রার্থী।
হাজী সেলিম বলেন, আমি দলের রাজনীতিতে পরীক্ষিত লোক। বিএনপি জোট সরকারের আমলে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক নির্যাতনের শিকার হয়ে পরীক্ষায় পাসকরা লোক। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও আপস করিনি, জোট সরকার মামলার পর মামলা দিয়ে জীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছিল শুধু মামলাই দেয়নি মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, রক্তাক্ত করেছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শেখ হাসিনার পথ থেকে আমাকে সরাতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মেয়র নির্বাচনে দলীয় সমর্থন আমিই পাবো।
সাঈদ খোকন তার পারিবারিক, রাজনৈতিক ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগের ঘরে আমার জন্ম সেভাবেই আমি বেড়ে উঠেছি, আমার মরহুম পিতার রাজনীতি জীবন এবং আদর্শের কথা মানুষ জানে তিনি আজীবন বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার অনুসারী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আমি মাঠে আছি, কাজ করে যাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, সিটি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন খুবই জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপি যদি প্রার্থী দিয়ে মাঠে নামে তা হলে আমাদের হিসাব হবে এক রকম অন্যদিকে বিএনপি যদি সরসরি প্রার্থী না দিয়ে নাগরিক কমিটির নামে মাঠে থাকে তা হলে সে ক্ষেত্রে হিসাব অন্য রকম। তিনি বলেন, এখানে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি দলের প্রতি আনুগত্যতা ও দেখতে হবে সে হিসেব করে প্রার্থী ঠিক করতে হবে। তাছাড়া বিএনপি চেষ্টা করবে আমাদেরই ভাবাপন্ন কাউকে নাগরিক কমিটির নামে সমর্থন দিয়ে পাস করিয়ে নিতে, হয়তো পরবর্তী কালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন।
দলের নীতি-নির্ধারক মহলের এক নেতা বলেন, চূড়ান্ত বিচারে প্রার্থী ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা তবে অবস্থা যা মনে হচ্ছে তাতে একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং দলের প্রতি অনুগত্য প্রার্থী বাছাই করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে, তাছাড়া ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে দলের একাধিক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী এখানে সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে দলীয় সমর্থন দেবেন?

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট