Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ

ঢাকা, ৩০ মার্চ: আগামী তিন বছরের মধ্যে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সব কার্যক্রম সম্পন্ন  করতে মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল বা এসপিআই’র সঙ্গে চুক্তি করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি।

 

চুক্তি মতে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে বাংলাদেশের কমপক্ষে ১১ মিলিয়ন ডলার খরচ বাঁচবে। একই সঙ্গে দেশের মধ্যে আরো ৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সংস্থান হবে।  আর এর মাধ্যমেই দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রসঙ্গত,  বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসপিআই’র চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিটিআরসি’র পক্ষে চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. জিয়া আহমেদ এবং এসপিআই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রুস ডি ক্রাসিলসকি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

 

এ সময় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোস, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেন মাজেনা, বিটিআরসি’র কমিশনার সুধীর চন্দ্র মল্লিক ও এসপিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রুস ডি ক্রাসিলসকি বক্তৃতা করেন।

 

এদিকে চুক্তি অনুসারে তিন বছরের মধ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্যে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা এবং অন্যান্য সব আয়োজন করবে এসপিআই। এ জন্যে তারা পাবে সাড়ে ৮২ কোটি টাকা।

 

অপরদিকে চুক্তি উপলক্ষে বিটিআরসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নানা সম্ভবনার কথা জানান পরামর্শক ও সরকারের পদস্থ ব্যক্তিরা। শুধুমাত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তারা। তারা নিজস্ব স্যাটেলাইটের নানা সম্ভাবনার দিক তুলে ধরেন।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই এসপিআইয়ের ব্রুস ডি ক্রাসিলসকি বলেন, “বর্তমানে (২০১০) গোটা বিশ্বে স্যাটেলাইটের অর্থনীতি ১০১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের। ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ৯৩ বিলিয়ন ডলারের। দিন দিন এই অংক বাড়ছে প্রচণ্ড সম্ভবনা জাগিয়ে।”

 

তিনি জানান, বাংলাদেশ বছরে ১১ মিলিয়ন ডলার খরচ করে স্যাটেলাইটের পেছনে। আগামী ১৫ বছরে এক্ষেত্রে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে। নিজেদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। তাছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এখনই দেশের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি হবে। ১৫ বছরে যে অংক সাড়ে সাতশ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে।

 

অনুষ্ঠানের অপর একটি উপস্থাপনায় দেখানো হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে। প্রতিঘণ্টায় যা ছয় হাজার ৭০০ মাইল গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে। চুক্তি অনুসারে ২০১৪ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হওয়ার কথা। মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু অবশ্য প্রত্যাশা করেন নির্ধারিত সময়ের আগেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শেষ হবে।

 

অন্যদিকে সচিব সুনীল কান্তি বোস মনে করেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়েও আরো এক বছর বেশি সময় লাগতে পারে। তবে সময় যতটাই লাগুক না কেনো গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে এসপিআইকে হুশিয়ার করে দেন তিনি।

 

সচিব আরো বলেন, “অনেক দেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেও তা দিয়ে কোনো কাজ করতে পারেনি। বরং মহাকাশে সেগুলো মুখথুবড়ে পড়ে আছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে তেমনটি মেনে নেয়া হবে না।”

 

হাসানুল হক ইনু বলেন, “এই সরকার সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন মহাকাশেও আমাদের উপস্থিতি এবং অধিকার নিশ্চিত করবে।” তিনি মনে করেন, বর্হিবিশ্বে দেশের সুনাম বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্যে এই কার্যক্রম অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

 

ডেন মাজেনা বলেন, “স্যাটেলাইটের এই কার্যক্রম ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে যেমন সন্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হবে তেমনি নানা আন্তর্জাতিক কার্যক্রমেও এই দেশ এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে ৪০টিও বেশি দেশের বর্তমানে নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। সব মিলে মহাকাশে উৎক্ষেপিত স্যাটেলাইটের সংখ্যা কয়েকশ। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে তিন’শ থেকে চার’শ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

 

সচিব জানান, আশির দশকেই সরকার মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করে। একই সময়ে পাকিস্তানও নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। বর্তমানে এশিয়ায় ১৯টি এবং আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় পাঁচটি করে নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে।

 

এর আগে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩১টি আবেদন পড়ে। এর মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় যুক্ত হয়। পরে পাঁচটি কোম্পানি কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। যার মধ্য থেকে গত ১২ মার্চ সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীপরিষদ এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট