Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পলোগ্রাউন্ড মহাসমাবেশের সাফল্য নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বাকযুদ্ধ

চট্টগ্রাম, ৩০ মার্চ : চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে দুই মাসের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলের মহাসমাবেশকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে বন্দরনগরীর রাজনীতি। নিজেদের জনসমর্থন যাচাই ও শক্তির জানান দিয়ে অবস্থান সুসংহত করতে মূলত এ মহাসমাবেশ আয়োজন করা হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা এখন উপস্থিতির দিক দিয়ে সমাবেশের কলেবর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে দুই দলের অতীত ও বর্তমান অবদান নিয়ে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী রোড়মার্চ শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পলোগ্রাউন্ড ময়দানে মহাসমাবেশ করেন বিগত ৯ জানুয়ারি। আর একই জায়গায় ১৪ দলের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন গত ২৮ মার্চ বুধবার।
দুটি মহাসমাবেশেই ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে। এ দুটি শো-ডাউনের মাধ্যমে দুই জোটের দুই প্রধান দল তাদের রাজনৈতিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনের পাশাপাশি ঝিমিয়ে পড়া নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করে দলে চাঙ্গাভাব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন।
৯ জানুয়ারি বেগম জিয়ার মহাসমাবেশ বেশ কিছুদিন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নানাভাবে আলোচনায় আসলেও ২৮ মার্চ শেখ হাসিনার মহাসমাবেশের পর শুরু হয়েছে এ দুই সমাবেশের তুলনামূলক আলোচনা। একই সাথে চলছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র স্থানীয় নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি ও বাকযুদ্ধ।
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা ‘২৮ মার্চ মহাসমাবেশ ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ’ বলে দাবি করার পরদিন আজ শুক্রবার সকালে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন ‘‘চট্টগ্রামের জনগণ যে প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করেছে তার প্রমাণ হচ্ছে জনসভার উপস্থিতি।’’
‘বিএনপি সমাবেশ করেছে শীতকালে লোকভাড়া করে আর আমরা করেছি চৈত্রের ভর গরমে’ জনসভার উপস্থিতির সংখ্যা আর কলেবর নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি প্রসঙ্গে এক  প্রশ্নের উত্তরে আমীর খসরু বলেন, ‘‘তাহলে তাদের বলুন শীতকালে আরেকটা মহাসমাবেশ করে আমাদের মহাসমাবেশের সমপরিমাণ লোক সমাগম করে দেখিয়ে দিতে।’’
উল্লেখ্য, বিএনপি নেতারা ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পলোগ্রাউন্ড মহাসমাবেশে ১৫ লাখ লোক সমাগম হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন
বুধবার অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ । বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, “২৮ মার্চের মহাসমাবেশ ছিল স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ। এতে কমপক্ষে ১০ লাখ লোক সমাগম হয়।”
এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে দলের উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম বলেন, ‘‘চট্টগ্রামে প্রথম উড়াল সেতুর নির্মাণ কাজ আওয়ামী লীগ আমলে শুরু হয়। এ রকম আরো পাঁচটি উড়াল সেতু নির্মানাধীন । চট্টগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে ঘোষনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন হবে এবং এটা হলে চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে ।’’
এতে আরো বলা হয়, ২৮ মার্চের মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি চট্টগ্রামের জনগণের পূর্ণ আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। গভীর সমুদ্রবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, আরো ফ্লাইওভার, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মার্ণের মতো  জাতীয় ও চট্টগ্রামের উন্নয়নের যে রোড়ম্যাপ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তাতে এ এলাকার মানুষ তার কাছে কৃতজ্ঞ। এ ঘোষণায় জনগণ উল্লসিত ও অনুপ্রাণিত বোধ করছে।
সাবেক মন্ত্রী ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বুধবারের মহাসমাবেশে লোকজনের উপস্থিতি প্রত্যাশারও বেশি হয়েছে। অবাস্তব ও কল্পনাবিলাসী প্রতিশ্রুতির চেয়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন সেগুলোর সফল সমাপ্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু, সাবেক সাংসদ রফিকুল আনোয়ার, ওয়াকার্স পার্টির জেলা সভাপতি এডভোকেট আবু হানিফ, জাসদের নগর সম্পাদক জসিমউদ্দিন বাবুল, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চু ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড় কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও মহানগর বিএনপি সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশকে দেউলিয়া করার পর চট্টগ্রামের জনসভায় জনগণকে মিথ্যাচার, বানোয়াট, শিষ্ঠাচার বহির্ভূত  ও কুরুচিপুর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে অস্তিত্ব বজায় রাখার যে সর্বশেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের জনসভা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ ।’’
তিনি বলেন, ‘‘ওই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর সাথে প্রতারণা করেছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী নিজ দায়িত্বে নিলেও জনসভায় তার বক্তব্যে উন্নয়নের কোনো ঘোষণা আসেনি যা চট্টগ্রামবাসীকে হতাশ করেছে। তিনি সমস্যা সমাধানের কথা না বলে অপরের প্রতি বিষোদগার করেছেন।’’
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা ও এর বাস্তব রূপায়নে বন্দর, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে দাবি করে আমীর খসরু বলেন, “উড়াল সেতু, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু ও এলজিইডি ভবন ইত্যাদি প্রকল্পের কাজ বিএনপি সরকারের আমলে শুরু করা হয়েছে। অথচ প্রধানমনত্রী এগুলোর কিছু কাজ সমাপ্ত করে এ সরকারের আমলে করা উন্নয়ন কাজ বলে জাহির ও উদ্বোধন করে মূলত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।”
আমীর খসরু বলেন, “প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রামবাসী বিদ্যুতের তীব্র লোড-শেডিং, গ্যাসের চরম সংকট ও পানির জন্য হাহাকার করছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী যখন পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন তখনও চট্টগ্রামের ব্যাপক এলাকায় লোডশেড়িং চলছিল।”
ডিজিটাল দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে অসংখ্য ডিজিটাল ব্যানার উপহার দেয়া ছাড়া প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সমাবেশে আর কিছুই উপহার দিতে পারেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “সারা দেশে গ্যাস , বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ। গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য বিএনপি কিছুই করেনি বলা হলেও সে সময় তো সংযোগ বন্ধ ছিল না। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের নামে সরকারি তহবিল থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের নামে দলীয় নেতাদের পকেটভারি করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া করে দিয়েছেন।” তার মতে , “ইট হ্যাজ বিকাম এ ক্রনি ক্যাপিটালিস্ট কান্ট্রি।”
খসরু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের ব্যাপক প্রচারণা, টাকা, শাড়ি বিতরণ, বিভিন্ন জায়গায় মেজবানির আয়োজন, মিল কারখানা- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ,  সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, বিরোধীদলীয় নেতাদের গণগ্রেফতার, হয়রানি, এবং প্রশাসনকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা সত্ত্বেও সমাবেশ সফল না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা হতাশ। তাই প্রধানমন্ত্রী উল্টা-পাল্টা, মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।”
সমাবেশে ১০ লাখ লোকের উপস্থিতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘‘আমি সংখ্যা মেনশন করবো না । তবে বিকাল ৪টা, সাড়ে ৪টা ও সাড়ে ৫টার জনসভাস্থলের ছবি আমাদের কাছে আছে। গণমাধ্যমকে চাপের মুখে রেখে নানা কায়দায় কিছু বিশেষ স্পটের ছবি ও খবর দেখানো হয়েছে।’’
বিএনপি সমাবেশ সফল করতে টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করেছে এমন অভিযোগের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘‘বেগম খালেদা জিয়া যখন বক্তৃতা করছিলেন তখনও জনসভাস্থলের দিকে লোক আসছিল আর তাদের মহাসমাবেশে লোক আসার আগেই চলে যাচ্ছে। এতে কি প্রমাণ হয়? ’’
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য বেগম রোজী কবির , নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রকিকদল নেতা এ এম নাজিমুদ্দিন , বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, শামসুল আলম, যুবদল নেতা আবুল হাশেম বক্কর, কাজী বেলাল, ছাত্রদল নেতা আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল উপস্থিত ছিলেন।
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট