Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং

রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকার একটি বেসরকারি ভবনের জেনারেটর অপারেটর মোতাহের হোসেন । জেনারেটর চালু আর বন্ধ করার হিসাব কষেই তিনি জানালেন দিনে অন্তত আটবার লোডশেডিং হয় এই এলাকায়। এখন প্রতিবার এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। মোতাহের জানান, জেনারেটর চালাতে প্রতি ঘণ্টায় ২৫ লিটার করে জ্বালানি তেল লাগে। প্রতিদিন লাগে ২০০ লিটার তেল। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।
মিরপুরের বিদ্যুৎ বাসিন্দা নুর ইসলামের অভিজ্ঞতা অন্যরকম। তিনি জানান, ওই এলাকায় একেবারে নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ যায়। প্রতি এক ঘণ্টা পর পর। আগে এক ঘণ্টা পরে। রাতেও এখন এ নিয়মেই বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। ঢাকার অনেক এলাকায় এখন লোডশেডিংয়ের এমন অবস্থা। ঢাকার বাইরেও এলাকাভেদে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গরমের শুরুতেই এমন অবস্থা হলে সামনে পরিস্থিতি কেমন এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ গ্রাহকরা। গ্রাহকদের এমন দুর্ভোগের মধ্যেই গতকাল আবার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম।
বিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চাহিদার অনুপাতে লোডশেডিং সবচেয়ে কম হয় ঢাকা অঞ্চলে চাহিদার শতকরা ১২ ভাগ। ন্যাশনাল গ্রিড ডেসপাচ সেন্টারের গতকালের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যন্য অঞ্চলে মোট চাহিদার ১৬ শতাংশ করে লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী গতকাল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ৫৮৫০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে দিনে সর্বনিম্ন চাহিদার সময় উৎপাদন হয় ৩৮৯৯ মেগাওয়াট। আর সর্বোচ্চ চাহিদার সময় উৎপাদন হয় ৫০১০ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ৮৪০ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং ছিল ৭৪৮ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগ কাগজে-কলমে উৎপাদন ও লোডশেডিংয়ের এ হিসাব দিলেও গ্রাহক পর্যায়ে পরিস্থিতি ভিন্ন। দিনে চাহিদার ১২ বা ১৬ শতাংশ লোডশেডিং হলে প্রতি ৬ বা ৮ ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হওয়ার কথা, কিন্তু এখন দিনে সাত থেকে ৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে এলাকাভেদে। বিদ্যুৎ খাত সংশিষ্টদের মতে সরকারিভাবে বিদ্যুতের চাহিদা এবং লোডশেডিংয়ের যে হিসাব দেয়া হয় তা সঠিব নয়। এখন বিদ্যুৎ চাহিদা অন্তত ৮ হাজার মেগাওয়াট। সামনে এ চাহিদা আরও বাড়বে।
ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি ডেসকো’র আওতাধীন এলাকায়। তবে ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকায়ই প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে বলে গ্রাহকরা জানিয়েছেন। ধানমন্ডি, বনানী, গুলশান, ইস্কাটনের মতো এলাকায়ও একই নিয়মে লোডশেডিং হচ্ছে। বিতরণ সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রামাঞ্চলে রাতে পরিস্থিতি কিছুটা ভাল হলেও দিনের বেলা সেই এক ঘণ্টার নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে।
এদিকে তেলভিত্তিক রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও জ্বালানির ব্যবহার কম রাখা এবং ব্যয় সঙ্কোচনের কারণে এসব কেন্দ্র দিনের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে। শুধু সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে এসব কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ নেয়া হচ্ছে। গত ২২শে মার্চ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার সময় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ ৬০৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এদিন বেসরকারি খাতে স্থাপিত কেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ নেয়ার সঙ্গে দু’টি সার কারখানা বন্ধ রেখে সরকারি কেন্দ্রে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এরপর আর বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০০০ মেগাওয়াটে উঠেনি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট