Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এই মৌসুমে আর মাঠে নামতে পারবেন না রুবেল-শফিউল

ঢাকা, ২৯ মার্চ: জাতীয় ক্রিকেট দলের সামনেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে  সিরিজ। কিন্তু জাতীয় দলের ১৫ সদস্যের তালিকা চুড়ান্ত করতে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পেস বিভাগ। ইনজুরির কারণে পুরো মৌসুমের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন দলের প্রথম সারির দুই পেসার রুবেল হোসেন ও শফিউল ইসলাম।

 

একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়ের পেছনে বড় একটি ভূমিকা পালন করে পেসাররা। যার বড় প্রমাণ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫০তম ওভারে শাহদাত হোসেন ৬ বলে ১৯ দিয়ে দলকে পেছনে ঢেলে দিয়েছিলেন। অধিনায়ক মুশফিকের হাতের অস্ত্র পেসার নাজমুল ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন। এ কারণেই এমনটা হয়েছে।

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে এই পেস বিভাগ নিয়ে বলার মতো অনেক তথ্যই আছে। যেমন বিপিএল চলাকালে ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে যাওয়া পেসার রুবেল হোসেন এখনও মাঠের বাইরেই আছেন। আরেক পেসার শফিউল ভারতের বিপক্ষে ডান কাঁধে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাঠের বাইরে। যে কারণে এশিয়া কাপে দল সাঁজাতে পেসার শাহাদাত আর নাজমুল ছাড়া বিকল্প কোন পছন্দ নির্বাচকদের ছিল না। এক মাত্র ভরসা ছিলেন মাশরাফি। তিনিও প্রায় ১০ মাস পর ইনজুরি থেকে সেরে বিপিএল হয়ে এশিয়া কাপে খেলেছেন।

 

এতো সব ব্যাখ্যার মুল কারণ জাতীয় দলের সামনে ভয়াভহ দূর্দিন অপেক্ষা করছে। এমন তথ্যই পাওয়া গেলে বিসিবি’র চিকিৎক ড. দেবাশিষ চৌধুরীর কাছ থেকে। বিপিএল আর এশিয়া কাপের পরই আশংকা তৈরি হয়। সামনের সিরিজে জাতীয় দলের ভান্ডারে পেসার বলতে কারা আছে? কারা দলের পেস বিভাগে সার্ভিস দেবে! এমন প্রশ্ন আসার কারণ মাশরাফি ছাড়া এই মুহুর্তে অভিজ্ঞ কোন পেসারই জাতীয় দলের নেই।

 

গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ম্যাচে পেসার রুবেল ডান কাঁধে আঘাত পান এবং পরে মাঠে ফিরে আসেন। আর বিপিএলে সেই একই জায়গাতে আবারও আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাঠের বাইরে। অন্যদিকে পেসার শফিউল ইসলামের পায়ে ‘ক্যালোসিটি’ নামক এক ধরনের ইনজুরি তো সব সময় লেগেই আছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সদ্য এশিয়া কাপের ম্যাচে ডান কাঁধে আঘাত। তিনিও মাঠের বাইরে! আর পেসার নাজমুলের সুস্থ্ হতে আরো এক সপ্তাহ লাগবে মাঠে নামতে। ১৯ রানের কলঙ্কিত ওভারে পর তো নির্বাচকরা আর শাহদাতের উপর নির্ভর করবে না। এটাই তো স্বাভাবিক। সুস্থ থাকা মাশরাফির সঙ্গে ৩৮টি ওডিআই ম্যাচে ৪৪ উইকেট নেয়া নাজমুল হোসেন! এই দুই জন কী জাতীয় যথেষ্ট কিনা সেটাই ভাবার বিষয়।

 

জাতীয় লীগে ৩৫ উইকেট শিকারী আল আমিন আর সদ্য দলে ডাক পাওয়া আবুল হাসান রাজু জাতীয় দলের এখন ভরসার নাম। কিন্তু এ দুই জন কি ৩৭টি ওডিআই ম্যাচে ৪৮টি উইকেট শিকারী রুবেল আর ৪৫টি ম্যাচে ৫১টি উইকেট শিকারী শফিউলের বিকল্প হতে  পারবে!

 

তাই প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় দলের দুই বোলিং স্তম্ভ রুবেল-শফিউল কবে নাগাদ সুস্থ হয়ে দলে ফেরত আসবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি চিকিৎসক ড. দেবাশিষ চৌদুরী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন,“রুবেলের যখন গত বছর প্রথম ইনজুরি হল তখন আমরা এমআরআই করাই। এবং এবার বিপিএলে সেই একই ইনজুরি হলে আবারও এমআরআই করাই। দুই বারের রিপোর্ট দেখে বোঝা যায় দ্বিতীয় বারের ইনজুরিটা কঠিন। আর শফিউলের ইনজুরিও একই ধরনের। শফিউলেরও ‘এমআরআই’ করাই। এবং আমরা অর্থেপেডিক সার্জান নন্দ কুমারের সঙ্গে আলোচনা করে বুঝতে পারি এ দুই জনের অপারেশন দরকার। এ ছাড়া এরা পুরোপুরি সুস্থ হতে পারবে না। কিন্তু আমরা কোন ঝুঁকি নিতে রাজী নই। তাই সিদ্ধান্ত নেই আমরা এখানে অপারেশন করাবো না।”

 

তিনি আরো বলেন, “খোঁজ নিয়ে জানা যায় দ. আফ্রিকার সার্জান ড. ডিভিএস এর বিশেষ পারদর্শি। তার হাতে অনেক ভারতীয় ক্রিকেটার অপারেশন করিয়েছেন। তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। তিনি দুই জনের এমআরআই রিপোর্ট পাঠাতে বলেন। আমরা ডিএইচএলে এমআরআই রিপোর্ট পাঠিয়েছি। তিনি বলেছেন রিপোর্ট দেখে অপারেশনের ধরন ও সময় ঠিক করেন। তাছাড়া বিষয়টি এখনও বিসিবি অনুমতি নেয়া হয়নি। বোর্ড মিটিংয়ে এর অনুমতি নিতে হবে। এর সঙ্গে আমরা চাইছি ফিজিও ভিভাস সিং দ. আফ্রিকার লোক। রুবেল ও শফিউলের অপারেশনের সময় একজনকে থাকতে হবে। তাই ছুটির সময় যদি অপারেশন করানো হয় তাহলে ভিভাস সিং থাকতে পারবেন এবং সব প্রোগাম বুঝে আসতে পারবেন।”

 

তাহলে আপাতত সামনের সিরিজে রুবেল-শফিউল দলে নেই। তাহলে এরা কবে নাগাদ দলে ফেরা সম্ভব? জানতে চাইলে ড. দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, “এখন তো রুবেল আর শফিউল ম্যাচ খেলছেন না। তাই তাদেও আরও বড় রকমের ইনজুরির ভয় নেই। এদের অপারেশনের পর সুস্থ হতে কমপক্ষে ৬ মাস সময় লাগবে। এই মৌসুম নয়, বরং আমরা ওদের আগামী মৌসুমের জন্য সুস্থ করার চেষ্টায় আছি। আমরা ওদের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি। বর্তমান সিরিজ নিয়েও নয়।”

 

দেবাশিষের বক্তব্যে একটা বিষয় নিশ্চিত সামনে ওডিআই সিরিজে অভিজ্ঞ মাশরাফিকেই জাতীয় দলের বিশাল চাপ সামলাতে হবে। অবশ্য সঙ্গে হয় তো নামজুল, আবুল হাসান আর আল আমিনকে পাবেন। কিন্তু এরা কী রুবেল-শফিউলের বিকল্প হিসাবে সেই সার্ভিস দিতে পারবে? তাহলে বিসিবি পেসার তৈরির পাইপ লাইনের কি হল? বিসিবিসির পাইপ লাইনে কি তাহলে আবুল হাসান আর আল আমিনেই সীমাবদ্ধ! এর জবাব খুঁজতে প্রধান নির্বাচক আকরাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা চেস্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট