Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পত্রিকা ও টেলিভিশনগুলো সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে যা ইচ্ছা বলছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৯ মার্চ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পত্রিকা ও টেলিভিশনগুলো এখন সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে যা ইচ্ছা বলছে। আমরা তো কিচ্ছু বলছিনা। বিএনপির সময় আপনারা তো এটা পারতেন না। আমরা জানি আমার সাংবাদিক বন্ধুরা তা ভুলে যাননি।’’

 

শেখ হাসিনা বলেন, যখনই মিডিয়া ক্যু ও ভোট কারচুপি হতো তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার ছিল। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এমনকি আমাকেও জেলে নেয়া হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক বাতিল হাইকোর্টের রায়। আমরা এ রায় কার্যকর করার চেষ্টা করেছি। ওরা হাইকোর্টের রায় না মানলে আমার কিছু করার নেই। আমরা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’’

 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে সংসদ নেতার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, ‘‘পুরোপুরি বিদ্যুৎ সমস্যা কেটে গেলে মানুষ তো ভুলেই যাবে লোডশেডিং কি? লোডশেডিং থাকলে মানুষ বুঝছে এটা কি। আমরা এখন ঢাকা থেকে গ্রামে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। গ্রামের মানুষদেরও বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছি ঢাকায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করে গ্রামে বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় স্পিকার আপনার ধৈর্য্য দেখে আমি আশ্চর্য হই। আমিও বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলাম। আমাকে কথা বলতে দেয়ার চেয়ে সে সময়ের স্পিকার বেশি কথা বলতেন। আমাদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো নিয়মিতভাবে বৈঠক করছে। কাজেই কেউ সংসদকে অকার্যকর বললে কিচ্ছু আসে যায় না।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি দেশকে সন্ত্রাস ও বাংলা ভাইয়ের দেশে পরিণত করেছে। আমরা তা কঠোর হস্তে দমন করেছি। আজকে আমরা জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে বিএনপি এসে বলবে দোষ সরকারের। আমাদের দায়িত্ব জনগণের জানমাল রক্ষা করা।’’

 

 

বিরোধী দলের কাজ ছিল সংসদে এসে তাদের বেতন ভাতা রক্ষা করা, তারা তা করেছে। বিরোধী দল আমাদের সরকারের এমপিদের উপর তেড়ে গিয়েছে, স্পিকারকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলেছে, এটা জাতি প্রত্যাশা করে না, তারপরও আমরা চাই বিরোধী দল সংসদে আসুক।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির দুই দল সাভারে মারামারি করেছে, রাস্তায় আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করছে, তাদের ব্যথাটা কোথায়, আমরা বুঝি। ক্ষমতার বাইরে থেকে দুর্নীতি করতে পারছে না ও আমাদের একটার পর একটা উন্নয়নকে মানতে পারছে না বলেই এসব করছে।’’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের প্রায় ১৮ হাজার সৈনিক আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে। তাদের এ অবদান ভোলার নয়। আমরা বিভিন্ন সম্মাননা দিয়ে বন্ধুদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পৃথিবীর কোনো দেশে মিত্র দেশকে সহায়তা করার পর নিজ দেশে চলে যায় না। কিন্তু জাতির পিতার আহবানে ইন্দিরা গান্ধী তার সৈন্যদেরকে ফিরিয়ে নেন। এটা ইতিহাসের অন্যতম উদাহরণ। এটা বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়চেতার ফসল।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে। ’৭৫ এর ঘটনার পর জিয়া ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেয়। যারা জেলে ছিল তাদের ছেড়ে দেন। নবম জাতীয় নির্বাচনে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম। আমরা এ বিচার করতে সক্ষম হবো।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ সালে রায় হবে। জনগণ ভোট দিলে ইনশাআল্লাহ আমরা ভারতের কাছ থেকেও আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবো। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে জনগণের উপর।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘সংসদ কার্যকর রয়েছে। বিরোধী দল কেন সংসদে আসে না, আমরা জানি না। বিরোধী দল সংসদে এসে যেভাবে কথা বলে আমরাও সে সুযোগ পাই না। কিন্তু বিরোধী দল থাকাকালে আমার উপর গ্রেনেড হামলার পরও তারা আমাকে সংসদে কথা বলতে দেয়নি। তারপরও তারা যদি বলে কথা বলতে দেয়া হয় না, তা হবে হাস্যকর।’’

 

তিনি বলেন, ৫২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র তিন বছরে নির্মাণ করা সহজ কথা নয়। অতীতে কোনো সরকার এটা করতে পারেনি। আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে তিন বছরে তিন হাজার ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। অতীতে তা কেউ পেরেছে কিনা আমাদের জানা নেই।’’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাপী খাদ্য দ্রব্যের দাম বাড়ছে। সেটা লক্ষ্য করে আমরা সবার বেতন বাড়িয়ে দিয়েছি। গার্মেন্টস কর্মী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা, সবার বেতন বেড়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যমূল্যও কমিয়ে দিয়েছি। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও আমরা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছি। রিজার্ভ ১০ হাজার বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।’’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট