Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা পঞ্চগড় শহর রণক্ষেত্র

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: অপহৃত স্কুলছাত্র জুয়েল (১০)-কে অবশেষে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। অপহরণকারী সদস্যদের একজন মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে তাকে হত্যা করে। গতকাল সকালে রংপুর ক্যাডেট কলেজের সামনে কলিমউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়। জুয়েলকে হত্যা করে কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বের করে নেয়া হয়েছে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিকালে পঞ্চগড় সদর থানা ঘেরাও করে। তারা আটক মুন্নার পরিবারের লোকজনকে আক্রমণ করার জন্য থানা ঘেরাও করে। আটককৃতদের তাদের হাতে ছেড়ে দেয়ার জন্য দাবি জানায়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে শহরে তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে কয়েকটি দোকান ও ১০টি যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতি করা হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তাণ্ডবে দু’জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশত আহত হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই পঞ্চগড় থেকে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গোটা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ ২০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, পুলিশকে বারবার অনুরোধ করার পরেও অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধারে তারা তৎপর হয়নি।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, পঞ্চগড় ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র জুয়েল (১০) শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকার আবদুর রহিম খোকার ছেলে। রোববার সকালে বাড়ি থেকে স্কুল যাওয়ার পর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। রাতে তার পিতা সদর থানায় ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। রাতেই অপহরণকারীরা  মোবাইল ফোনে খোকার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি  করলে জানতে পারে তার ছেলে অপহৃত হয়েছে। পুরাতন কাপড় ও কলা বিক্রেতা খোকা নিজেকে গরিব মানুষ দাবি করলে অপহরণকারীরা এক লাখ টাকা নিয়ে তাকে একাই বগুড়া যেতে বলে। কিন্তু তিনি রংপুর গিয়ে টাকা দিতে চাইলে অপহরণকারীরা তাকে রংপুর মেডিকেল মোড়ে যেতে বলে। তাদের কথামতো খোকা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে রাতেই রংপুর যান। কিন্তু পরে অপহরণকারীদের মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পেয়ে তিনি পঞ্চগড় ফিরে আসেন। আবদুর রহিম খোকার বাড়ির ভাড়াটে রফিকুলের ছেলে মুন্না (১৭) এবং তার মা ও বোনকে সন্দেহজনক পুলিশ মঙ্গলবার সকালে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না অপহরণের কথা স্বীকার করে। পরে তাকে নিয়ে পুলিশ জুয়েলকে উদ্ধারে রংপুরে যায়। এরপর মুন্না রংপুর ক্যাডেট কলেজের সামনে কলিমউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে পুলিশকে নিয়ে গেলে সেখানে জুয়েলের লাশ পাওয়া যায়। মুন্নাকে আটকের খবর পাওয়ার পর মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারী জুয়েলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আটক মুন্না অপহরণ করে জুয়েলকে দিনাজপুরের সফিক, মুরাদ ও রুমেলের হাতে তুলে দেয়। পঞ্চগড় পুলিশ সুপার শাহরিয়ার রহমান বলেন, সকালে শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ওদিকে নিহত জুয়েলের ময়নাতদন্ত রংপুরে সম্পন্ন হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা পঞ্চগড় শহর রণক্ষেত্র

  1. অনির্বান

    April 13, 2012 at 3:56 pm

    কি শুরু হল আবার !