Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিচারের স্বাভাবিক নীতি ও সংবিধান হেয় করছে হাইকোর্ট: এএইচআরসি

ঢাকা, ২৭ মার্চ: ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক ও মৌলিক নীতি, বাংলাদেশের সংবিধান, বিশ্বজনীন বিচারিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতাকে হেয় ও খর্ব করেছে হাইকোর্ট বিভাগ। মঙ্গলবার এ অভিযোগ করেছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন। এশিয়া মহাদেশের প্রধানতম এ মানবাধিকার ফোরামটির অভিযোগ, হাইকোর্ট বিভাগে একটি আবেদনের শুনানি কালে ১৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগের একটি বেঞ্চ এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন- যা ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক ও মৌলিক নীতিকে হেয় করেছে।

সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগ একটি আবেদনের শুনানি করে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৪ জন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে মামলা করতে হবে। বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের দ্বৈতবেঞ্চ ৬ মার্চের ওই আদেশে বলেন, জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে উল্লেখ করে ‘ইতিহাস বিকৃতি’ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন উল্লেখ করেছে, আদালত এ শিক্ষকদের পাকিস্তানে পাঠানোর আয়োজন করতে বলেন শুনানিকালে ক্ষমতাসীন দলের দুজন সংসদ সদস্যকে। শুনানিতেই আদালত বলেন, এমন রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে এদের ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত।
আদালতের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে কমিশন বলেছে, এর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক ও মৌলিক নীতি এবং বাংলাদেশের সংবিধানকে হেয় ও খর্ব করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হবার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তকে নিরাপরাধ বলে ধরে নিতে আর সব আদালতের মতো হাইকোর্ট বিভাগও বাধ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ মার্চের ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ মারফত তারা এ আদেশের খবর জানতে পেরেছেন। নিউ এজের খবরে বলা হয়, আবেদনের শুনানিকালে হাই কোর্ট বিভাগের বেঞ্চ বলেন এ ধরণের অপরাধ রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত।
বাংলা দৈনিক নয়া দিগন্ত’র খবরে বলা হয় এ শিক্ষকদের উদ্দেশে ‘‘বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুকে উদ্দেশ করে বলেন, এদেরকে জাহাজে করে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেন মিস্টার মতিন খসরু। এটি এক ধরনের স্যাডিশন। যারা ছাত্রদের বিকৃত ইতিহাস শেখায়, তাদের পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। তবে অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এর কোনো উত্তর দেননি।
খবরে বলা হয়, ‘‘ওই সময় আদালতে উপস্থিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে উদ্দেশ করে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা করবেন কি? তারা তো বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। জবাবে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তখন আদালত বলেন, জাতীয় বিশ্বাসঘাতকদের ব্যাপারে কোনো ক্ষমা নেই। একাত্তরের পরাজিত শক্তি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের পরাস্ত করতে হবে।’’
পরে ১২ মার্চের শুনানিতেও আদালত একই ধরণের বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের বক্তব্য, ‘‘কোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ কর্তৃক আনা আবেদনের শুনানি করা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া পুরোপুরিভাবে হাই কোর্ট বিভাগের এখতিয়ারের অধীন। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে অভিযোগ প্রমাণিত হবার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তকে নিরাপরাধ বলে ধরে নেয়ার যে নীতি আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে (আইসিসিপিআর) স্বীকৃত ও বিশ্বজনীনভাবে গৃহীত; সেই নীতি মানতে বিচার বিভাগ মৌলিকভাবে বাধ্য।’’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘রায় দেবার আগেই, আবেদনের শুনানির সময় এ আদালত যেভাবে ঘোষণা করেছে যে বিবাদীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা উচিত। এটা বিচারের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে যায়।’’
কমিশন উল্লেখ করে, ‘‘আইনের সামনে সব নাগরিকের সাম্য আছে মর্মে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭তম অনুচ্ছেদে ঘোষিত মৌলিক অধিকার থেকে কোনো আদালত সরে আসতে পারে না।’’
বিবৃতিতে বলা হয়, ~হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এমন অবনমন বিষয়ে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। আইসিসিপিআর এর ১০ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্মগত ও অন্তর্নিহিত মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালতের সামনে বিচারের জন্য হাজির কোনো ব্যক্তির স্বীকৃত এ জন্মগত মর্যাদার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় এমন অমর্যাদাকর বক্তব্য আদালত ব্যবহার করতে পারে না। বিবাদীকে ফাঁসিতে ঝোলানো এবং অন্য দেশে পাঠিয়ে দেয়ার মত ‘ভীতিপ্রদর্শনের পর্যায়ে পড়ে। কাজেই এতে করে বিচারের স্বাভাবিক নীতি ও বাংলাদেশের সংবিধানকে হেয় ও খর্ব করা হয়।”
বা২৪/এমএ/এসএফ
Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট