Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জাপার প্রেসিডিয়াম পদ নিয়ে বিতর্কিত সোহেল রানা

ঢাকা, ২৫ মার্চ: জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ গ্রহণ করে বিতর্কিত হলেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা)। তিনি ২০০৯ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডিয়াম মেম্বার ঘোষণা করেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

 

সোহেল রানার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন একাধিক প্রেসিডিয়াম মেম্বার। তাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, জিয়াউদ্দিন বাবলু, সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা, গোলাম হাবিব দুলাল, ফকির আশরাফসহ অধিকাংশ প্রেসিডিয়াম মেম্বার। এই ক্ষোভ থেকে বিরত থাকেননি দলীয় সংসদ সদস্যরাও। বের হয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ নেতারা সাবেক সেনাশাসক এরশাদ, পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও এরশাদের প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভরায়ের নাম ধরে বিরুপ মন্তব্য করেন।

 

তবে এ বিষয়ে সোহেল রানা বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমি এখন শুধু রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাচ্ছি। নির্বাচনের বিষয়টি আপাতত ভাবছি না। আমার চলচ্চিত্রের যে অর্জন রয়েছে সেটি আমি রাজনীতিতে কাজে লাগাতে চাই।”

 

ছাত্রলীগের এক সময়ের তুখোড় এ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ আমাকে মূল্যায়ন করেনি, তাই আমি জাতীয় পার্টিতে সক্রিয় হচ্ছি।”

 

তিনি বলেন, “যে পার্টিতে (আওয়ামী লীগ) থেকে রাজ্জাক ভাইয়ের মতো সিনিয়র নেতাকেও ধার-দেনা করে মরতে হয়েছে সেই পার্টিতে আর কেউ থাকলেও আমি নেই।”

 

“আওয়ামী লীগের উচিত ছিল, অনেক আগেই খসরু ভাই (চিত্রনায়ক), মন্টু ভাই ও আমাকে অনেক আগেই মূল্যায়ন করা। আমরা মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম। আমাদের অবদান কি ভুলে যাওয়ার মতো? আমরা কি কিছুই করিনি?”- ক্ষোভ ঝরে সোহেল রানার কণ্ঠে।

 

নিজেকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিতে শীর্ষ নেতাদের অনুষ্ঠান ত্যাগ করার বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, “আসলে আমি পার্টির সব নেতাকে চিনি না। আমার বক্তব্যে যা বলেছি তা সত্য বলেছি।”

 

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সোহেল রানা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আব্দুল হামিদ ভাষানীসহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন, “জয় বাংলা স্লোগানটি একসময় ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালির, এখন তা সাড়ে ষোল কোটি মানুষের। এটি কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়।”

 

 

অনুষ্ঠানে সোহেল রানার নেতৃত্বে নায়ক শাকিব খানসহ ঢালিউডের একঝাঁক তারকা যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তারা কেউ আসেননি। তবে সোহেল রানার অনুষ্ঠান হিসেবে তার ক’জন শুভাকাঙ্ক্ষী এসেছেন।

 

তাদের মধ্যে নবাগত নায়ক জায়েদ খান বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আসলে আমরা কেউই জাতীয় পার্টিতে যোগ দেইনি। মাসুদ পারভেজ যেহেতু চলচ্চিত্রের সিনিয়র পারসন, তাই তাকে সম্মানিত পদ দেয়ায় আমরা অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে গিয়েছি।”

 

তবে সোহেল রানার নেতৃত্বে চলচ্চিত্রের দেড় শতাধিক লোক রোববারের অনুষ্ঠানে পার্টিতে যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেন এরশাদের প্রেস ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায়।

 

ক্ষুব্ধ প্রেসিডিয়াম মেম্বাররা জানান,  দলের নীতিনির্ধারনী ফোরাম প্রেসিডিয়াম বৈঠকে কোনো আলোচনা ছাড়াই চিত্রনায়ক সোহেল রানাকে পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার হিসেবে ঘোষণা দেয়া ঠিক হয়নি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের বাবুগঞ্জ- উজিরপুর আসন থেকে হোসেল রানা জাপার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওই আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার গোলাম কিবরিয়া টিপু। কিন্তু তার সঙ্গে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও এরশাদের প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভরায়ের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।

 

বিশেষ করে রুহুল আমিন হাওলাদার আগামী নির্বাচনে গোলাম কিবরিয়া টিপুকে দলীয় মনোনয়ন দিতে বিরোধী বলে জানা গেছে। তিনি চান ওই আসনে সোহেল রানা পার্টি থেকে মনোনয়ন পাক। এজন্যই মূলত সোহেল রানাকে প্রেসিডিয়ামের পদে বসানো হয়েছে।

 

বার্তা২৪/কেএমআর/জিসা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট