Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঢাবির কুয়েত-মৈত্রী হলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি খেয়ে অর্ধশত ছাত্রী অসুস্থ

ঢাকা,২৩ মার্চ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত-মৈত্রী হলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি পানে প্রায় অর্ধশত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গুরুতর অবস্থায় দুই ছাত্রীকে ইতোমধ্যে মহাখালীর আইসিডিডিআরবি কলেরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক ইতিহাস বিভাগের এক ছাত্রী জানান, খাবার পানিতে ময়লা, দুর্গন্ধ এবং কেঁচো পাওয়ার পর হল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ছাত্রীদের আবাসিক শিক্ষকরা জানিয়ে দেন, পানি পরীক্ষা করে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

 

শুধু কুয়েত মৈত্রী হলেই নয় বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের ছাত্রীদের কাছে একই রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদেরকে পানি ফুটিয়ে খাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে বলে জানান হলের বেশ কয়েজন ছাত্রী।

 

তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে পানির সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়ে গেছে। অবহেলার কারণে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়নি। পানির সমস্যার ব্যাপারে ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হলের আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা ডেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

গত চারদিনে কুয়েত মৈত্রী হলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান করে প্রায় অর্ধশত ছাত্রী অসুস্থ হয়েছে। হল সূত্র জানায়, দূর্গন্ধযুক্ত পানি পান করে ডাইয়েরিয়া, পেটে ব্যাথা, জ্বরসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে অসুস্থ প্রায় পঞ্চাশ জন ছাত্রী। এ নিয়ে পুরো হলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হল ছেড়ে বাসায় যাওয়া শুরু করছে অনেকেই।

 

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত চার দিনে মৈত্রী হলের অন্তত ৭০ জন ছাত্রী বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও মহাখালীর আইসিডিডিআরবি কলেরা হাসপাতালেও ভর্তি রয়েছে দুই ছাত্রী।

 

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক হলের একাধিক ছাত্রী বলেন, ‘‘হলের পানির লাইনে যে পানি  আসে তাতে খাবার ও গোসলসহ রান্নার কাজ করতে হয়। কয়েকদিন ধরে পানির রঙ পর্যন্ত ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। এমনকি খাবার পানিতে কেচোও পাওয়া গেছে।’’

 

তারা বলেন, ‘‘হল প্রভোস্টকে জানানো হলেও তিনি বিষয়টি উড়িয়ে দেন। পানির কারণে সমস্যা সর্ম্পকে কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের বলেন, পানির কোনো সমস্যা । পানি খাওয়ার উপযোগী।’’

 

হল সূত্র জানায়, গত ২০ মার্চ প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পর অন্যত্র থেকে বিশুদ্ধ পানি আনার আশ্বাস দেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে গাড়িতে করে সকাল-সন্ধা দু’বেলা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু যে পানি ক্যাম্পাস থেকে আনা হয় তাতে সংকুলন হয় না বলে ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

 

পানির সমস্যা সম্পর্কে কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ফরিদা বেগম বলেন, “গত বছর যে নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল তাতে পুরাতন পাইপ লাগানো হয়। সম্ভবত, সে পাইপ ছিদ্র হয়ে বাইর থেকে পানি আসছে বলে এসব সমস্যা হয়েছে।’’

 

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করছে। নলকূপ সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজস্ব ব্যবস্থায় সকাল-সন্ধ্যায় দু’বার পানি এনে শিক্ষার্থীদের দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

 

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘কুয়েত-মৈত্রী হলের দুইজন শিক্ষার্থীর অসুস্থ্ হয়েছিল। তবে তারা বর্তমানে হলেই আছে। আর কলাভবন থেকে তাদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

 

বার্তা২৪/এইচকেএ/এসএফ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট