Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক বাংলাদেশ


তালহা বিন নজরুল: শাবাশ বাংলাদেশ ! শাবাশ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল! খেলোয়াড়দের অদম্য মনোবল, জয়ের উদগ্র বাসনা আর পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা দলকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়। দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব মানুষকে আরও একবার এক কাতারে দাঁড় করিয়েছেন তারা। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলা উপভোগ করেছেন সবাই। বাংলাদেশ দলের করুণ হারেও সবাই ছিলেন সমব্যথী। নরসিংদীতে হারের বেদনা সামলাতে না পেরে একজনের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। খবর পাওয়া গেছে, হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ারও। দুখ-শোকে অনেক শিশু ও তরুণ রাতের খাবার না খেয়েই শুয়ে পড়ার কথাও বলেছেন অনেক অভিভাবক। এশিয়া কাপের ফাইনাল ছিল কাল টক অব দ্য কান্ট্রি। টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। বিশ্বের সব প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশীরা তো বটেই ক্রিকেট যেসব দেশে জনপ্রিয় সেসব দেশেও আলোচনার খোরাক যোগায় এশিয়া কাপের ফাইনালটি। আবালবৃদ্ধবণিতার কথোপকথনের অনেকটা জুড়েই ছিল এক ক্রিকেট ম্যাচ। কি শিশু, কি বৃদ্ধ, এমন কি মেয়ে মহলের আলোচনাতেও ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচ। যে ম্যাচে ছিল না জয়ের কোন আনন্দ, ছিল কেবল পেয়েও না পাওয়ার বেদনা। তবে বেদনা থাকলেও ছিল না কোন হতাশা। সবার কণ্ঠেই ঝরেছে ক্রিকেটারদের প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসা এবং সমবেদনাও। কি ছিল না এ ম্যাচে! একটি আদর্শ ক্রিকেট ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরদিন। স্মৃতির পাতায় ধুলা জমতে পারে কিন্তু রেকর্ডবুক থেকে এ ম্যাচ মুছে ফেলার নয়। মানবজমিনের ছিল নানামুখী পর্যালোচনা আর বিশ্লেষণ। অনুবীক্ষণ যন্ত্রের মতো তারা বাংলাদেশের হারের কারণ বের করার চেষ্টা করেছেন। তবে কেউ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ঢালাওভাবে সমালোচনা করতে পারেননি। সবার তীর ছিল তিন জনের দিকে। তবে বেশি বিদ্ধ হয়েছেন ফাস্ট বোলার শাহাদাত হোসেন। তার পরে ব্যাটিংয়ে ধীরে রান নেয়ার জন্য নাজিম উদ্দীন ও নাসির হোসেন। তবে ওই দু’ব্যাটসম্যান উৎরে গেছেন বিচার দণ্ডে। তাদের অমন ব্যাটিং সময়েরই দাবি ছিল বললেন সাবেক এক অধিনায়ক। তারা একপ্রান্ত আগলে খেলেছিলেন বলেই শেষ দিকে এসে মরণ কামড় দেয়ার শক্তি পেয়ে যায় বাংলাদেশ। না হয়, হারের ব্যবধানটা আরও বেশিই হতো। আর শাহাদাতের খরুচে বোলিং-এর বিষয়টি খেলারই অংশ। নাজমুল পায়ে ব্যথা পওয়ায় এবং অন্য বোলারদের কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় মুশফিকের সামনে বিকল্প ছিলেন স্পিনার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আর এজন্যই মুশফিক শাহাদাতকে বল দেয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন। স্লগ ওভারে পৃথিবীর নামকরা বোলারদের অহরহই খেই হারিয়ে ফেলতে দেখা যায়।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ নতুন এক চেহারায়, নতুন এক শক্তিতে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছে বিশ্বের কাছে। দলের হঠাৎ এ পরিবর্তনে অনেকে বিস্মিত হলেও হননি অস্ট্রেলিয়ান কোচ স্টুয়ার্ট ল’। তিনি এর কৃতিত্ব দেন গত মাসেই অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল)। ওই আসরে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের অনেক নামকরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে সাহস, মনোবল ও অভিজ্ঞতা সবই সঞ্চয় করতে পেরেছেন। তারই প্রতিফলন দেখা গেল এশিয়া কাপে। তিনি দলের কাছ থেকে যা পেয়েছেন তাতে অনেক খুশি। তবে এ কথাটিই বারবার বলে গেছেন তার উত্তরসূরি আরও দু-অস্ট্রেলিয়ান, ডেভ হোয়াটমোর ও জেমি সিডন্স। এর আগে বাংলাদেশের ক্রিকটে ইতিহাসে যে সাফল্য এসেছে তার সিংহভাগই হোয়াটমোরের আমলে। তিনি সবসময়ই বলতেন একজন দু’জনের পারফরমেন্সে ভাল ফল সম্ভব নয়, এজন্য সবাইকে দল হিসেবে ভাল করতে খেলায় তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এবার কেবল দল হিসেবেই ভাল করেননি বজায় রেখেছিলেন ধারাবাহিকতাও।
সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা যাই বলুন, বোদ্ধারা কিন্তু গতকাল অনেক সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা এ হারকে শিরোপা জয়ের চেয়েও দামি মনে করলেও বলেন, একে ধরে রাখতে হলে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হতে হবে ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের। তারা জোর দেন ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় করার ওপর। এখন যে প্রতিযোগিতাগুলো হয় তার বেশির ভাগই দায় সারতেই করা হয়। বিশেষ করে জাতীয় ক্রিকেট লীগ ও ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের ওপর আরও জোর দিতে হবে। জাতীয় লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে পারলে আরও অনেক খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে। এখন আমাদের সামনে ব্যাকআপ খেলেয়াড়ের বড় অভাব। একসঙ্গে দুটি জাতীয় দল গড়ার মতো খেলোয়াড় তৈরি রাখতে পারলে সফলতার হার আরও বাড়বে। নাজমুল-শাহাদাত ছিলেন বলেই রুবেল-শফিউলের জায়গাটা পূরণ সম্ভব হয়েছে।
সাবেক অধিনায়ক ফারুক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এচিভম্যান্টে আমরা কি চাই, এতদিন বলি আমরা ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে চাই। আমরা ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলছি, তবেই কিন্তু ম্যাচ জিতার পরিমাণ বাড়বে। এটা কিন্তু আমরা পুরোপুরি করতে পেরেছি। আমাদের বাংলাদেশে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছে এটা বড় একটা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য। বলাররা খুব ভাল বল করেছে, ব্যাটিংয়ে তামিম, সাকিব ভাল করেছে। আমরা যে ধরনের পারফরমেন্স আসা করেছি, সে ধরনেরই হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ডমেস্টিক যে স্ট্যাটাস আরও ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। কারণ, আমাদের সাকিব আল হাসান একজন ভাল খেলোয়াড়, ভাল কিছু পারফরমার পেয়েছি। এটা আমরা মনে করবো না। আমাদের আরও কিছু ব্যাকআপ খেলোয়াড় দরকার। কোন কারণে সাকিবের একটা একসিডেন্ট হতে পারে। মুশফিকের একসিডেন্ট হতে পারে, সে কারণে আমাদের কিছু ব্যাকআপ খেলোয়াড় থাকা দরকার। এই যে বাংলাদেশ টিম আজকে চ্যাম্পিয়ন হয়নি তার পরিবর্তে বাংলাদেশ টিম এক শ’-তে একশ নম্বর পেয়েছে। আমাদের যে ম্যানেজমেন্ট আছে আমি আবারও বলি, আপনারা কোনভাবেই এ দলটির কমবিনেশন নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। এইভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট এগিয়ে গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে বলে তার প্রত্যাশা।
পাকিস্তানের কাছে এত কম ব্যবধানে আর কখনও হারেনি বাংলাদেশ। ১৯৯৯-এ প্রথম বড় কোন দল হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেলেও এরপর আর কখনও তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। বরং ওই হারের পরের ম্যাচেই ২০০০ সালের জুনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পাকিস্তান বাংলাদেশকে হারায় ২৩৩ রানের ব্যবধানে। গত ১২ বছরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের ফলের ব্যবধান রানের হিসেবে ৫০ এর নিচে নেমেছিল মাত্র তিনবার। তার দুবার হলো ৪৯ ও ৪২। আর কাছাকাছি বলতে ২৩ রানের হার। সেটি ২০০৮-এর এপ্রিলে লাহোরে। পাকিস্তানের কাছে ৩০টি হারের মধ্যে শতাধিক রানের ব্যবধান থেকেছে ৮ বার। ৫ উইকেটের বেশি ব্যবধানে হারও রয়েছে বেশ কয়েকবার। ৮, ৯ এবং ১০ উইকেটের হারও রয়েছে। সেই পাকিস্তানের কাছে একই টুর্নামেন্টে ২১ রানের পর ২ রানের হারই বলে দেয় এ এক অন্য বাংলাদেশ। এ যে কোন চমক নয় তা ক্রিকেট বিশ্বের সব বোদ্ধাই একমত হবেন। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দলকে হারিয়েছে এ আসরেই, পরপর দু’ম্যাচে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট