Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লিমনের পঙ্গুত্ব বরণের এক বছর

ঝালকাঠি, ২৩ মার্চ: ২০১১ সালের এই দিনে র‌্যাবের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ার ইদুরবাড়ি এলাকার এইচএসসি পরিক্ষার্থী মেধাবী ছাত্র লিমন হোসেন (১৭)। র‌্যাবের এই নিষ্ঠুরতার সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী র‌্যাবের প্রতি ঘৃণার ঝড় ওঠে। নিষ্ঠুর এই আলোচিত ঘটনা স্থান পায় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। র‌্যাবের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে লিমনের এক বছর পূর্ণ হলেও সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে লিমন। অপরদিকে লিমনের মায়ের করা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা আজো আলোর মুখ দেখেনি। এক বছরেও বিচার হয়নি অভিযুক্ত র‌্যাবদের।

 

যেভাবে গুলিবিদ্ধ হয় লিমন

২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদ জমাদ্দরকে ধরতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি দল সাতুরিয়ার জমাদ্দার হাটে অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের ডিএডি লুৎফর রহমান। গোপন সংবাদে মোর্শেদ লাল জামা পরিহিত অবস্থায় থাকার কথা নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব ওই এলাকায় গরু নিতে আসা লাল গেঞ্জি পড়া লিমনকে ধরে নদীর পাশে নিয়ে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে।

 

যেভাবে পঙ্গু হয় লিমন

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এ মোর্শেদ জমাদ্দার নয়, এমনটা নিশ্চিত হয়ে এলাকাবাসীর রোষানল থেকে রেহাই পেতে র‌্যাব কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে লিমনকে ফেলে রাখে। দেড় ঘণ্টা পর লিমনকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে তাকে আশঙ্কাজনকভাবে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫ মার্চ তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২৭ মার্চ চিকিৎসকরা উড়ুর নিচ থেকে লিমনের বাম পা কেটে ফেলে।

 

লিমনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের মামলা

লিমন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই ২৩ মার্চ রাতে ডিএডি লুৎফর রহমান বাদী হয়ে লিমন ও সন্ত্রাসী মোর্শেদ জমাদ্দারসহ আট জনের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দান সংক্রান্ত রাজাপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। অস্ত্র মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজাপুর থানান এসআই আরিফুল ইসলাম তড়িগড়ি করে মামলার চার্জশিট দেন। একইভাবে সরকারি কাজে বাধাদান মামলায়ও চার্জশিট দেয়া হয়। দুই মামলায় পঙ্গু লিমন এখন পর্যন্ত ছয়বার করে মোট ১২বার ঝালকাঠি আদালতে হাজিরা দিয়েছে।

 

লিমনের মায়ের করা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা

১০ এপ্রিল লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় ডিএডি লুৎফর রহমানসহ ছয় র‌্যাবের বিরুদ্ধে লিমনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। অনেক গড়িমসির পর রাজাপুর থানা পুলিশ এই মামলা রুজু করলেও কাগজ কলমে লিপিবদ্ধ ছাড়া মামলার কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত নেই।  বৃহস্পতিবার ওই মামলার তারিখ থাকলেও থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি। ফলে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলায় লিমনের সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশায় গুড়ে বালিই রয়ে গেল।

 

লিমনের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ভাষ্য

গত ২০১১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কাঁঠালিয়া পিজিএস কারিগড়ি কলেজ থেকে লিমনের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও র‌্যাবের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে লিমনের আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি। এ বছর আবার লিমন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কলেজের পাশে একটি ছোট্ট ঘর ভাড়া করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

 

জানা গেছে, আগামী ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করবে।

 

লিমন জানায়, অনেক ঝড়-ঝঞ্জার মধ্যে আমার পরীক্ষা দিতে হবে জেনে ভলোই প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে খোঁড়া পা নিয়ে নিয়মিত ঝালকাঠি আদালতে গিয়ে মামলার হাজিরা দিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। পরীক্ষার মধ্যেই আবার একটি হাজিরার তারিখ রয়েছে। পা হারিয়ে সন্ত্রাসী মামলা থেকে রেহাই পেতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনসহ সরকারের প্রতি লিমন অনুরোধ জানিয়েছে।

 

লিমনের মায়ের ভাষ্য

“আমার ছেলের পা হারিয়েও শান্তি নেই। এখন প্রতিমাসে আবার হাজিরা দিতে হচ্ছে। আর আমাদের করা মামলার কথা রাজাপুর থানায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেই পুলিশ বলে সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। এই তদন্ত যে কবে শেষ হবে তার কোনো হিসেব নেই। আমি জানি র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচার তো পুলিশ কোনোদিনই করবেনা।”

 

থানা পুলিশের ভাষ্য

লিমনের মায়ের দায়ের করা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার আব্দুল হালিম তালুকদার বলেন, “ডিএডি লুৎফর রহমানসহ ছয় র‌্যাবের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের করা মামলা রাজাপুর থানায় লিপিবদ্ধ হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি তাই প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। তবে কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে বা আদৌও শেষ হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

বার্তা২৪/এটি

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট