Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ব্যাটিংয়ে ছন্দপতন টাইগারদের

ঢাকা, ২২ মার্চ: এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের দেয়া ২৩৭ রানে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৬৮ রানে পরপর দুই উইকেট পতনের পর ৮১ রানে তামিম ইকবাল বিদায় নিয়ে প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে রয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যানই ক্যাচ আউট হন। তিনটি ক্যাচই নেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ইউনিস খান। ৩২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১৫/৩।

 

নাসির হোসেন ৮ এবং সাকিব আল হাসান ২৮ রান নিয়ে ক্রিজে রয়েছেন।

 

৮১ রানে এশিয়া কাপের এবারের আসরে টানা চতুর্থ অর্ধশতক হাঁকানো তামিমকে বিদায় করে দেন উমর গুল। সেই সাথে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। ৬৮ বলে ৬০ রান করে উমর গুলের বলে ইউনিস খানের তালুবন্দী হন তামিম। আটটি বাউন্ডারি হাঁকান তামিম।

 

৬৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় টাইগাররা। ওয়ানডাউনে নামা জহুরুল ইসলামকে ইউনিস খানের তালুবন্দী করেন স্পিনার সাঈদ আজমল। জহুরুল কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।

 

উদ্বোধনী জুটিতে ভাঙন ধরান পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। ১৬ রান করা ওপেনার নাজিমুদ্দিনকে সাজঘরে ফেরত পাঠান আফ্রিদি। আফ্রিদির বলে ইউনিস খানের ক্যাচে পরিণত হন নাজিমুদ্দিন। দলীয় রান তখন ৬৮।

 

এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ফাইনালে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান করে পাকিস্তান। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন পড়ে ২৩৭ রানের।

 

এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ভুল করেই আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মুশফিক। সে ম্যাচে ২১ রানে হেরে যায় মুশফিকরা। আর পরের দুই ম্যাচে ভারত আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই ম্যাচেই জয়ী হয়েছে মুশফিকরা। সে কারণে আর সেই আগের ভুল নয়।

 

ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল তা বোঝা যায় পাকিস্তানের মতো দল ১৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে মাত্র ৫৬ রান সংগ্রহ করলে। শ্রীলঙ্কারকে হারানোর ম্যাচে যেভাবে মাশরাফি আর নাজমুল দুই প্রান্ত দিয়ে চেপে ধরেছিল আজও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। পাকিস্তানের দুই ওপেনার নাসির জামশেদ আর মোহাম্মদ হাফিজ যেভাবে ভারতীয় বোলিংকে তুলধুনো করেছিল তেমন কিছু করার কোনো সুযোগই মাশরাফি-নাজমুল দেয়নি। যে কারণে পাকদের বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে পেসার মাশরাফি এ যাবতকালে ১৬টি ম্যাচ খেলেছেন। যার মধ্যে উইকেট দখল করেছিলেন ১৬টি এবং সেরা বোলিং ছিল ৬৫ রানে ৪ উইকেট। আজ মাশরাফি ১০ ওভারে শিকার করেন ২ উইকেট। আরেক পেসার নাজমুলের এটা পাকদের বিপক্ষে দ্বিতীয় সাক্ষাত। আগের একটি ম্যাচে নাজমুলের পকেটে একটি মাত্র উইকেট দখলে ছিল। আজ নাজমুল ৮ ওভারে ৩৬ রানে ১ উইকেট। পাকিস্তানের মতো দলকে ৯ উইকেটে ২৩৬ রানে বেঁধে ফেলার মিশনটা আসলে শুরু করেছেন মাশরাফি আর নাজমুল। সেই পথে হেটেছেন স্পিনার রাজ্জাক আর সাকিব। রাজ্জাক আর সাকিব ২টি করে, রিয়াদ ১টি উইকেট দখল করেন।

 

পাক দলের তখনো ৫ম ওভার শেষ হয়নি। আঘাতটা প্রথম হানেন মাশরাফি। পাকদের দলীয় ১৬ রানে ওপেনার নাসির জামসেদকে (৯) রিয়াদের ক্যাচে পরিণত করে মিরপুরের ২৪ হাজার দর্শকের আনন্দ করার উপলক্ষ্য তৈরি করে দেন মাশরাফি।

 

এরপর ইউনুস খান এলেন আর গেলেন। ১৬ থেকে ১৯ রান যেতে মাত্র ৩ রান যোগ হবার পর পেসার নাজমুলের ডেলিভারিতে ইউনুস খান (১) এলবি’র ফাঁদে কাটা পড়েন। ৫.২ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেটের পতন এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে! মাশরাফি প্রথম স্পেলে ৬ ওভারে ২২ রান দিয়ে শিকার করে ১টি আর নাজমুল ৫ ওভারে ২১ রানে ১টি উইকেট দখল করেন।

 

মাশরাফি-নাজমুলের পরিবর্তে আক্রমণে স্পিনার রাজ্জাক আর পেসার শাহাদাত। এই দুই বোলারের আক্রমণ সামলে ওপেনার মোহাম্মদ হাফেজ অবিচল। তিনি জুটি বাঁধেন অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের সঙ্গে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এ দুইজন বেশ দেখেশুনেই খেলছিলেন।

 

১৪.৫ ওভারে মিসবাহ শাহাদাতের বল আলতো হাতে ঢেলে দিলেন। বল সরাসরি ফিল্ডার নাসিরের হাতে। বল ঢেলে দিয়ে দৌড় দেয়া মিসবা মাঝ পথে মুহূর্তের জন্য থেকে যান। কিন্তু নন স্ট্রাইকে থাকা হাফিজ তখন অর্ধেক ক্রিজ পার হয়ে গেছেন। বাধ্য হয়েই মিসবাহ আবারো দৌড় দেন। তবে নাসিরের থ্রোর সঙ্গে পেরে উঠেননি তিনি। নাসিরের থ্রো সরাসরি স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেয়। তৃতীয় আম্পায়ার রাভী আউটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে স্কোর দাঁড়ায় ৫৬ রানে ৩ উইকেটে।

 

চতুর্থ উইকেট জুটিতে হাফিজ আর উমর আকমল ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ স্বাছন্দেই ব্যাট করা শুরু করেন। তাহলে কি পাকদের মিডল অর্ডার বড় স্কোরের দিকে হাটা ধরেছে। তাহলে কি ৪ উইকেটের জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে! আগের ম্যাচে বলে কয়ে সেঞ্চুরি করা হাফিজ কী তাহলে আজ সেঞ্চুরির দিকে চলেছেন। এমন ভাবনাগুলো যখন পেয়ে বসেছে তখনই মিরপুর আবারও চিৎকার করার সুযোগ পায়। আর এই সুযোগটি তৈরি করেন স্পিনার রাজ্জাক।

 

পাকদের স্কোর ২১.২ ওভারে মাত্র ৭০। ৮৭ বলে ৭০ রানে হাফিজ আর ওমর আকমল ৪ রানে অপরাজিত। রাজ্জাকের ডেলিভারি সোজা ব্যাটে মাটি কামড়ানো শট খেলতে চাইলেন হাফিজ। কিন্তু বল মাটির উপরেই ছিল। বল মাটি স্পর্শ করার আগেই নাজমুলের তালুতে জমা হয়ে যায়। পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেটের পতন! এশিয়া কাপের ফাইনাল কী তাহলে একতরফা ম্যাচে রূপ নিতে চলেছে। বাংলাদেশ কী হেসে খেলেই এশিয়া কাপ জিতে নেবে?

 

কিন্তু পঞ্চম উইকেটে উমর আকমল এবং হাম্মাদ আজম পাকিস্তানের স্কোরকে টেনে তোলার দায়িত্ব কাধে তুলে নেন। প্রায় খাদের কিনারায় দাঁড়ানো পাক দলের ব্যাটিংকে দাঁড় করানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন এই দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। টেনে নেন ২৯ ওভার পর্যন্ত। স্কোর ১০২, ৩২ রানে পার্টনারশীপ গড়ে উঠে। তবে আশঙ্কার বিষয় ছিল ২৯ ওভারের শেষ বলে ডেলিভারি দিতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন পেসার নাজমুল। তিনি ডান পায়ের আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাঠের বাইরে চলে যান।

 

এই উইকেট জুটিকে ভেঙ্গে না দিতে পারলে পাকদের রান কোথায় যায় সেটাই আসল কথা। তবে সে নিয়ে চিন্তা করার আগেই সাকিবের স্পিনের বিপরীতে পুল খেলতে গেলেন সেট ব্যাটসম্যান হাম্মাদ আজম। বল মাথার উপরে সাকিব নিজেই নিজের বলে ফিল্ডিং করলে পাকদের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১২৯।

 

হাম্মাদ ৩৭ বলে ৩০ রানে বিদায়ের এক ওভার পরই আঘাত হানেন রিয়াদ। দলীয় ১৩৩ রানে থাকা পাকিস্তানের মিডল অর্ডার মেরামত করার গুরু দায়িত্ব পালনকারী উমর আকমলের ব্যাড-প্যাড হয়ে বল মুশফিকের গ্লাভসে জমা হয়। আম্পায়ার আউটের আবেদনে আঙ্গুল তুলে দিলেন। সাঁজ ঘরে যাবার পথে প্রচন্ড উত্তেজিত আকমল কি যেন বলতে বলতে যাচ্ছিলেন। টিভিতে আকমলকে যথেষ্ট উত্তেজিত ভঙ্গি করতে দেখা যায়।

 

এরপর আফ্রিদি ক্রিজে এসেই দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন। সেটা তখন মুশফিকদের জন্য আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আফ্রিদিকে ফেরানোর দায়িত্ব সাকিব নিজেই নিলেন। ৪১.৩ ওভারে সাকিবের বলে আফ্রিদি বিগ হিট করলেন। বল অনেক উঁচুতে ছিল। আর তৈরি ছিলেন ফিল্ডার নাসির। হাতে বল জমা করলেন নাসির। বিদায় নেন বুমবুম আফ্রিদি। আফ্রিদী তখন ২২ বলে ৩২ রানে সাঁজ ঘরের পথে হেটে চলেছেন।

 

৭ উইকেটে ১৭৮ থেকে পাকিস্তানের স্কোর ২৩৬ পর্যন্ত যেতে পেসার শাহদাতের বাজে বোলিং আর ফিল্ডিংই দায়ি ছিল। ইনিংসের শেষ ওভারটি শাহাদাত ব্যয়বহুল করেন। সরফরাজ আহমেদের ৫২ বলে অপরাজিত ৪৬ আর আইজাজ চিমার ১১ বলে অপরাজিত ৯ রান পাকদের ২৩৬ রানে নিয়ে যায়। আর পাকদের সেরা ওভার বলতে ছিল ৫০ম ওভারে শাহাদাতের বলে ১৯ রান সংগ্রহ।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট