Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জয় কঠিন, অসম্ভব কিছু নয়: মুশফিক

ঢাকা, ২১ মার্চ: মুশফিকের দল এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলবে। আর সেই ফাইনালের আগে মুশফিক তার দল নিয়ে অনুশীলনে নামবে। তার জন্য অপেক্ষা। কারণ ফাইনালের আগে অধিনায়ক মুশফিক কী বলেন, সেটা শোনা।

 

বুধবার দুপুরে মিরপুরে পা রাখা মুশফিকের দলের জন্য সকাল থেকেই মিরপুরে সাংবাদিকরা অপেক্ষা করছেন।

 

অনুশীলনে নামার আগেই মুশফিক মিডিয়ার সামনে এলেন। তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন, ‘‘কঠিন, তবে অসম্ভব কিছু নয়।’’ শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর আনন্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আনন্দ তো হয়েছেই। ভারত আর শ্রীলঙ্কার মতো দলকে পর পর ম্যাচে হারানোর পর আনন্দ তো হবেই। তবে আনন্দের চেয়েও বড় বিষয় কাল ফাইনাল। আশা করছি ফাইনালে জিতে আবারো আনন্দ করব।’’

 

এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার চাপ প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, ‘‘এই আসরের শুরুতেই আমরা বলেছি আমরা এমন দল হইনি যে শ্রীলঙ্কা, ভারত আর পাকিস্তানকে বলে কয়ে হারাবো। বলেছি, আমরা ভাল খেলতে চাই। আমাদের একটা টার্গেট ছিল প্রতিটি ম্যাচে আমরা ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করবো, ফাইট করবো। আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে হেরেছি। পরের ম্যাচে ফাইট করে জয় পেয়েছি। আর শেষ ম্যাচে আরো ভাল করেছি। আসলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে এভাবে খেলতে থাকলে এক পর্যায়ে আমরা দুই বা তিনটা ম্যাচে জিতে যাব। এখন আমাদের আত্মবিশ্বাসটা অনেক ভাল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পুরো আসরে আমাদের যে পাঁচজন পারফর্মার আছেন, তারা পারফর্ম করছেন। তিন বিভাগেই আমরা ভাল করেছি। অতীতে আমরা এক জন বা দুইজন ভাল খেলেছি। বাকিরা করতে পারেননি। এই আসরে তা হয়নি। আশা করছি ফাইনালেও সেই ধারা বজায় রেখে জয় পাবো। হিসাব অনুযায়ী আর একটা ম্যাচ আছে। আশা করছি সম্ভব হবে।’’

 

প্রতিপক্ষ পাকিস্তান সম্পর্কে জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, ‘‘ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওদের ম্যাচ উইনার আমাদের চেয়ে বেশি। ওদের এতো ক্রিকেটার আসে যায়, তারপরও তাদের কোনো সমস্যা হয় না। বিশ্ব ক্রিকেটে এমন দল আর নেই। তবে আমরা এই আসরে যেভাবে খেলে এসেছি এই ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে তাহলে ফাইনাল ম্যাচটা কঠিন হবে। আমরা যে তিনটা ম্যাচ খেলেছি তার চেয়ে কালকের ম্যাচে অবশ্যই একটু বেশি ভাল খেলতে হবে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, তারা এই আসরে ফেভারিট দল কথাটা মনে রাখা উচিত। হারানো অসম্ভব কিছু নয়। তবে তাদের চেয়ে আমাদের আরো ভাল খেলতে হবে।’’

 

লঙ্কার বিপক্ষে বোলিং শেষ করে দলের সকলের সঙ্গে অধিনায়কের কথা বলার নিয়ম। কিন্তু মঙ্গলবার মাশরাফি কথা বলেছেন। এই ইস্যুতে মুশফিক বলেন, ‘‘এই আসরের শুরুতেই আমি বলেছিলাম মাশরাফি ভাই এমন একজন ব্যক্তি যিনি দলে থাকুক না থাকুক দল সব সময় উৎসাহ পাই তার কাছ থেকে। তিনি থাকলে দলটা অনেক চাঙ্গা হয়ে উঠে। তিনি সব সময়ই আমাদের হেল্প করেন। দলে আমি, সাকিব বা রিয়াদ কথা বলে থাকি। কিন্তু গতকাল তাকে বলা হয়েছিল আপনি কিছু একটা বলেন। ম্যাচ শেষে তিনি নিজেই মাঠে কিছু একটা বলতে চেয়েছিলেন। মাশরাফি ভাই বলেন, ‘যে সুযোগটা এসেছে সেটা সব সময় আসে না। আমরা এই সুযোগটা যেন গ্রহণ করি। কারণ ২৩২ রান খুব বেশি বড় স্কোর নয়। আবার খুব যে সহজ তাও নয়। যারা শুরু করবে তারা যেন বড় ইনিংস খেলে।’ আর মাশরাফি ভাই নিজেও জানেন তিনি কত উঁচু মাপের বোলার। তিনি যা খেলেছেন আমরা এর চেয়ে কম আশা করিনি।’’

 

কালকের ম্যাচে টস জিতে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, ‘‘সব সময় তো আমরা টস জিতব না। কাল হয়ওতো আমরা আগে ব্যাট করতে পারি। তাহলে যদি ২৭০ বা ২৮০ রান করতে পারি তাহলে হয়তো পাকিস্তানকে হারানোর পথ তৈরি হবে। আর যদি আমরা টস জিতে ওদের ব্যাটিং করাতে পারি তাহলেও পরিকল্পনা থাকে ২৭০ বা এর আশপাশে আটকে রাখা। আসলে পুরো আসরে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। কিন্তু এতো দূর আসার পর আমাদের পাবার অনেক কিছুই আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারলে আমাদের হারাবার কিছু নেই। তবে আমরা কাছাকাছি গিয়ে আর হেরে যাইনি। এটাই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারতকে হারাবার পর অনেকেই ফোন করেছে ‘ভাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততেই হবে। বিষয়টা এমন যে শ্রীলঙ্কা স্কটল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের মতো দল! এটা ভুলে গেলে চলবে না। তবে প্রত্যাশা তো থাকেই। ফাইনালের চাপ যেমন আছে, তেমনি আমাদের দলে পারফর্মারও আছেন।’’

 

কালকের ম্যাচে জয়ের জন্য পাক দলের কোন দিকটা নিয়ে বেশি অনুশীলন করছেন? মুশফিক বলেন, ‘‘পাকিস্তানের বোলিং বিভাগটা অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের টপ অর্ডারও বেশ শক্তিশালী। আমরা যদি তাদের টপ অর্ডারের কয়েকটা উইকেটের দ্রুত পতন ঘটাতে পারি তাহলে তাদের চাপে ফেলতে পারব। আর যদি সাঈদ আজমলকে ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারি তাহলে আশা করছি ফাইনালে জিতে যাব।’’

 

নিজেদের উন্নতি সম্পর্কে পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, ‘‘জেতা হারা বড় প্রশ্ন নয়। কিন্তু যেভাবে আমরা ফাইনালে এসেছি তাতে পরিষ্কার আমরা উন্নতি করছি গত তিন সপ্তাহে। শুধু পারফর্মেন্সই নয়, মানসিকতাতেও আমরা উন্নতি করেছি। আমার জানা মতে এশিয়া কাপে এ পর্যন্ত বড় কোন দলকে হারানোর ইতিহাস নেই। এতো দূর আসার পর কেউ পেছনে থাকতে চাইবে না।’’

 

বার্তা২৪ /জিসা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট