Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টিকিট যেন সোনার হরিণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বার্তা২৪ ডটনেট

ঢাকা, ২১ মার্চ: অনেকটা ‘মেঘ না চাইতে বৃষ্টি’র মতো ঘটনা। বৃষ্টি যখন এসেছে তখন সাধারণ মানুষ শরীর বাঁচাতে আশ্রয় খুঁজবে এটাই স্বাভাবিক। এই উপমাটা আসলে কালকের এশিয়া কাপ ফাইনালের টিকিটের বেলায় প্রযোজ্য।

এশিয়া কাপ শুরু আগে কেউ কল্পনাও করেনি বাংলাদেশের মত দল ফাইনালে খেলবে। বাংলাদেশ যোগ্যতর দল হিসেবেই ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। উপমহাদেশ তথা বিশ্ব ক্রিকেটের দুই শক্তিধর ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে এই প্রথম এশিয়া কাপের মতো বড় আসরের ফাইনালে বাংলাদেশ। ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

বাংলাদেশ ফাইনালে পৌঁছায় সবাই এখন মাঠে বসে খেলা দেখতে চাইছে। তা ক্রিকেট বুঝুক আর নাই বুঝুক। মিরপুরের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা চাই-ই চাই। টিকিট যতো দামই হউক না কেন। আর সুযোগ নিয়েছে কালোবাজারীরা।

তবে ঢাকার মানুষের কালকের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের চাহিদা মেটাতে না পেরে অনেকেই আজ মিরপুর এলাকা থেকে সরে গেছে। যাদের মিরপুর এলাকার আশপাশ এলাকায় প্রতিদিনই টিকিট কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

একটি ২০০ টাকার গ্যালারির টিকিট মিরপুরে রীতিমত সোনার হরিণ হয়ে উঠেছে। চারিদিকে টিকেটের জন্য হাহাকার। ২০০ টাকার টিকিট দুই হাজার টাকা দিতেও রাজি সাধারণ দর্শক! বুধবার সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম গেটে টিকিট সন্ধানীদের ভিড়। যে করেই হোক একটি টিকেট চাই তাদের। অথচ টিকিট নেই। সন্ধ্যার পর থেকে প্রতি মুহূর্তে ভিড় বাড়ছে স্টেডিয়াম এলাকায়। পুরো স্টেডিয়ামকে অবশ্য ঢেকে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা চাদরে।

স্টেডিয়ামে টিকিট বিক্রির কোনো কেন্দ্র নেই। সব ম্যাচের টিকেট বিক্রি হয়েছে সিটি ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে। নিয়ম অনুয়ায়ী ম্যাচের আগে কিছু টিকিট রাখা হয় বিক্রির জন্য। তাহলে এই টিকিট গেল কোথায়! মিরপুরেরই ছেলে আশেক মাহমুদ আর তানভীরুল ইসলাম। টিকেটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন দুজন। টিকিট নেই জেনেও এসেছেন। যদি ‘ব্লাকে’ কোনো টিকিট পাওয়া যায়।

সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তানভীর বলেন, ‘ইতিহাস গড়তে চলেছে দামাল ছেলেরা, আমি তার অংশ হতে চাই। বিদ্যুতের কোনো ঠিক নেই, কখন আসবে-যাবে কেউ জানে না। এই খেলা ‘মিস’ করা যাবে না। যে করেই হোক, যত টাকা লাগুক টিকেট আমার চাই।’

ওদিকে সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে স্টেডিয়াম পাড়ায় চলে আসেন স্নেহাশীষ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কাল খেলা বলে আজ টিকিটের আশায় আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়েছি। আশা করছি একটা টিকেট যোগাড় করে ফেলতে পারবো। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর থেকেই ফাইনালের টিকিট খুঁজছি।’

ছেলে-মেয়ে বায়না ধরেছে খেলা দেখবে। মানা করতে পারেননি বাবা আহসান হাবিব। কিন্তু ব্যাঙ্কে গিয়ে শুনেন টিকিট নেই। কার কাছে যেন শুনেছেন একটু বেশি টাকায় হলেও স্টেডিয়াম গেটে টিকেট পাওয়া যায়। বিকেল ৫টার দিকে এসে সেই যে খুঁজছেন রাত ৮টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধানই মেলেনি। তিনি বলেন, ‘টিকেট নয়, এ যেন সোনার হরিণ। ভাবছি সন্তানদের গিয়ে কি বলবো।’

প্রিয়জনদের কী বলবেন বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অসংখ্যা ফোন, দাবি একটাই ফাইনালের টিকেট চাই। না পেরে অনেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন।

আর বিসিবি পরিচালকদের অবস্থা আরো বেগতিক। কারণ সরকারি মন্ত্রী আর এমপিদের টিকিটের চাহিদার মেটাতে দিনভর ফোন রিসিভ করতে হয়েছে তাদের। আর সন্ধ্যায় তো বিসিবি কার্যালয়ে মন্ত্রীর লোকজন, সংসদ সদস্যের পিএস আর সেনাবাহিনীর গাড়ির লাইন লেগে যায়। সবার টিকিট চাই। কিন্তু টিকিট কোথায়?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টিকিট কমিটির প্রধান জিএস হাসান তামিম স্বীকার করেছেন সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

বার্তা২৪ ডটনেট/জেবি/এমএকে

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট