Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এবার পলোগ্রাউন্ডে শেখ হাসিনার মহাসমাবেশ, টার্গেট ১০ লাখ


চট্টগ্রাম, ২১ মার্চ: আগামী ২৮ মার্চ চট্টগ্রামের বিশাল পলোগ্রাউন্ড ময়দানে মহাসমাবেশ করবে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ। মহাসমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৯ জানুয়ারির সাড়া জাগানো পলোগ্রাউন্ড মহাসমাবেশের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ অনুরূপ শোডাউন করে নিজেদের জনসমর্থন ও শক্তির জানান দিতে এ মহাসমাবেশের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।

মঙ্গলবার দলের এক জেষ্ঠ্য নেতা জানান, পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশ মহা জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। কমপক্ষে ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানো হবে এ মহাসমাবেশে।
এর আগে ৪ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী রোডমার্চের শেষে ৯ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত মহাসামবেশে স্থানীয় বিএনপি নেতারা ১৫ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেদিনের সমাবেশে অভাবিত সংখ্যক লোকের উপস্থিতি ঘটায় বিএনপি নেতারা পরবর্তীতে দাবি করেছিলেন তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি লোক সে মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এদিকে ২৮ মার্চের মহাসমাবেশ ১৪ দলের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে মর্মে ঘোষণা দেয়া হলেও আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর কোনো তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান নয়।

স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নাম ও ফটো সম্বলিত বিলবোর্ড, বিশাল আকারের ডিজিটাল ব্যানার, রঙ্গিন পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়গুলো। প্রতিদিন দলের উচ্চ থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতারা প্রস্তুতিমূলক নানা কর্মসূচি আয়োজন করছেন। রাত দিন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ মোড়ে ও জায়গায় মাইকিং চলছে। বাজানো হচ্ছে দেশাত্ববোধক গান ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ।

আগেভাগে মাঠ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদি সুনিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে আয়োজিত ২০তম আন্তর্জাতিক শিল্প ও বাণিজ্য মেলা সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের চারদিন আগেই গুটিয়ে নিতে হয়েছে। যদিও আরো এক সপ্তাহ মেলা চালু রাখার স্বার্থে মহাসমাবেশের তারিখ পিছিয়ে দেয়ার জন্য ব্যবসায়ী নেতা ও মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমুহের আবেদন-নিবেদন অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

২৮ মার্চ মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দৃশ্যত কিছুটা ঝিমিয়ে পড়া চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে এখন বেশ চাঙ্গাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কোন্দল-বিবাদ ভুলে উভয় ধারার নেতারা এখন একাট্টা হয়ে কাজ করছেন ২৮ মার্চের মহাসমাবেশ সফল করতে।

বিগত দুই বছর ধরে সুষ্পস্ট দুই ধারায় বিভক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ নেতারা । ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানগুলোও এ সময়ে দুই গ্রুপের নেতারা পৃথক পৃথকভাবে পালন করে আসছিলেন। এমনকি নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকগুলোতেও উভয় গ্রুপের নেতারা একসঙ্গে বসতেন না। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের কেন্দ্রীয় অনেক সিনিয়র নেতাকে দিয়ে চেষ্টা চালিয়েও বিবাদ-গ্রুপিং কমানো যায়নি।

মহানগর আওয়ামী লীগের এক ধারায় ছিলেন সাবেক মেয়র ও নগর সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইনামুল হক দানু। অন্যধারায় ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন ও কোতোয়ালী আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি।

২৮ মার্চের মহসমাবেশকে সফল করতে মঙ্গলবার মুসলিম ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশ ছিল গত পৌনে তিন বছরের মধ্যে ব্যতিক্রমী। এসময়ে প্রথমবারের মতো বিবাদমান উভয় গ্রুপের নেতারা এক মঞ্চে বসেছেন, বক্তব্য দিয়েছেন। একমাত্র সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি ছাড়া উভয় গ্রুপের নেতারা ওই কর্মীসমাবেশে একসুরে বক্তব্য দিয়ে এ মহাসামবেশ যেকোনো মূল্যে সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশে পরিণত করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ সভায় সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

কর্মী সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন ‘‘পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশ সফল করে আমরা আবারো প্রমাণ করতে চাই দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। স্বাধীনতার মাসে শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। এমন সাফল্য অর্জনের পর ১০ লাখ লোক সমাগম কঠিন কিছু নয়।’’

আন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন বলেন, ‘‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২৮ মার্চের মহাসমাবেশ সফল করতে হবে। বিরোধী দল রাজপথে ও সংসদে আস্ফালন করছে। মহসমাবেশ সফল করে এ আস্ফালনের সমুচিত জবাব দেয়া হবে।’’

বার্তা২৪/এটি

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট