Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংসদে মওদুদ-তোফায়েলের বাগযুদ্ধ

ঢাকা, ২০ মার্চ: সরকারের ব্যর্থতা-সফলতা বর্ণনায় সংসদে বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমেদ ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মুখোমুখি হয়েছেন। মওদুদ আহমেদ সরকারকে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে সরকারকে সতর্ক করে দেয়। অন্যদিকে তোফায়েল আহমেদ সরকারকে সর্বক্ষেত্রে সফল বলে উল্লেখ করে দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে বলে বিএনপিকে জানিয়ে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় প্রধান দুই দলের এ দুই সিনিয়র নেতা এ সব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘‘এতোদিন আপনারা বলেছেন বিএনপিকে সংসদে আসার জন্য। এখন আমাদের অন্তত ২০ জন এমপিকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দিয়েই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য শেষ করেছেন। এরমধ্য দিয়ে আপনারা আমাদের সহায়তা করেননি। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’’

স্পিকার মওদুদ আহমদকে সাড়ে ১২ মিনিট সময় দিলে বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ জয়নাল আবদিন ফারুক এ সময় বাড়িয়ে ১৫ মিনিট করার দাবি জানান। পরে স্পিকার তা মেনে নিলেও মওদুদ তা ২০ মিনিট করার দাবি জানান। পরে স্পিকার বিরোধী হুইফের অনুমতিক্রমে তা ২০ মিনিটে উন্নীত করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিতর্ক নিরসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি ভাল প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন। আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, জাতীয় স্বার্থে আমরা সব ধরনের সহায়তা দিব। ভারত বড় দেশ। তারা কোনোদিন আমাদের মূল্যায়ন করেনি। ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে লাভ নেই। তাদের সঙ্গে আলোচনা রেখে কূটনৈতিক সম্পর্ক রেখে বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে যাওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করবো। ভারত এরি মধ্যে অন্তত অভিন্ন ৩শ নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তিও সরকার সংসদে উপস্থাপন করেনি। অর্থচ সকল চুক্তি সংসদকে জানিয়েই করতে বাধ্য সরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ ৫৪টি নদীর পানি আমাদের প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আমাদের সবগুলো নদীর পানির ওপর ন্যায্য অধিকার রয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর আলোচনা হওয়া দরকার। এটা একটি স্ববিরোধী সংশোধন। এ সংশোধনীতে শহীদ জিয়াকে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার করা বহুদলীয় গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আল্লাহর ওপর আস্থা, ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম রেখে স্ববিরোধীতা করেছেন। এটা না মৌলিক, না কৃত্রিম। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা জনগণকে ভালভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন। সংবিধানের এ সংশোধনী কখনো পরিবর্তন করা যাবে না- সম্বলিত (খ) ধারা রেখে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। অথচ জনগণই সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিয়েছে। একদিন না একদিন এ সংসদ পঞ্চদশ সংশোধনীতে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বাতিল করা হবে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের সরকারের সময় চালের দাম ৪০ টাকা ছিল বলে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ এটা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। কিন্তু জনগণ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে মিথ্যা কথা শুনতে চায় না। এর চেয়ে অসত্য কথা আর কি হতে পারে।’’

এ সময় সরকার দলীয় এমপিরা শোরগোল শুরু করে দিলে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘‘আস্তে হৈচৈ করেন। সহ্য করতে হবে। আমাদের ডেকে এনেছেন সহ্য করার জন্য।’’

পরে স্পিকার সরকার দলীয় এমপিদের শোরগোল করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলে তারা হৈচৈ বন্ধ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন না হলে আমরা নির্বাচনে যাবো না। আসুন গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। গণতন্ত্রে কোনো ধরনের গোড়ামির সুযোগ নেই।’’

এর পর ফ্লোর নিয়ে তোফায়েল আহমদ মওদুদ আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘মিয়ানমারের সঙ্গে যেভাবে আমরা সমুদ্রসীমার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি, ভারতের সঙ্গেও একইভাবে আমরা এ অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। এ ব্যাপারে আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি। মওদুদ আহমেদ বলেছেন সংসদে তাদের কথা বলতে দেয়া হয় না। কিন্তু আপনাদের বৈঠক শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আসতে বলা হলেও আপনারা আসেননি। আসলে আপনাদের যে এমপিরা কথা বলতে পারেননি, তারাও কথা বলতে পারতেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘মওদুদ আমাদের সময়ে কতজন খুন হয়েছে, তার একটা হিসেব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন, তার সরকারের সময়ে খালেদার সরাসরি নির্দেশে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে অন্তত ৪৭ জন লোককে হত্যা করেছে। কত নির্মম ছিলেন তারা! ২০০১ সালের নির্বচানের পর তারা কি পরিমাণ নির্যাতন আওয়ামী লীগের ওপর করেছে। তার হিসেব নেই। মওদুদ আহমদ তা ভুলে গেছেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমি শিল্পমন্ত্রী ছিলাম। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কেউ শিল্প জেটি ব্যবহার করতে পারে না। আমরা ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর কথা নির্বাচনী অঙ্গীকারে বলিনি। এটা বানোয়াট। কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যা বলার জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে, তার জন্য খালেদা জিয়াকে এ পুরস্কার দেয়া যেতে পারে।’’

তিনি বলেন, ‘‘স্পেন, গ্রীস, বেলজিয়াম, ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অবস্থা নড়বড়ে। জার্মানি ছাড়া ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। চীন ও প্রতিবেশী ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা। এতোকিছুর পরেও আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। ৬ থেকে ৭ প্রবৃদ্ধি হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি দিয়েছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে, শিক্ষাখাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জাতিসংঘের ১৪৫টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। বিগত তিন বছরে রিজার্ভ ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘গতকাল সংসদের বৈঠকে বিদ্যুৎ নিয়ে ম্যারাডোনা ও মেসির কথা বলা হয়েছে। আমি আজ আর এ নিয়ে কোনো কথা বলব না। চীন থেকে নয়, বরং বিদ্যুতের জন্য যন্ত্রপাতি আমরা ইউরোপ থেকে এনেছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘মওদুদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের কথা বলেছেন। অথচ তিনি নিজেই স্বৈরাশাসক, সামরিক শাসকের সঙ্গী ছিলেন। আপনারা ১২ তারিখে ঢাকাকে তাহরির স্কয়ার বানাতে চেয়েছেন। কিন্তু পারবেন না।’’

এ সময় বিরোধী দলীয় এমপিরা তোফায়েলের বক্তব্যের বিরোধীতা করে শোরগোল শুরু করে।

তোফায়েলের বক্তব্য চলাকালে মওদুদ পাশ থেকে কথা বলতে থাকলে তোফায়েল তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘মওদুদ সাহেব আপনার বক্তব্য চলার সময়ে আমি কথা বলিনি। আমি আপনাকে ভদ্রলোক হিসেবে জানি। আজকে জনকণ্ঠ পত্রিকায় শাহরিয়ার কবির আপনার সম্পর্কে লিখেছেন। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও গ্রেটব্রিটেনে সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেভাবেই আমাদের দেশের নির্বাচন চলবে।’’

এ সময় মওদুদ উত্তেজিত হয়ে পড়লে তোফায়েল তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘আপনি এভাবে এতো উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন কেন? আলটিমেটাম দিব আমরা। আপনারা এগুলো ভাবতে পারবেন না। ওইদিন আপনাদের জীবনে আসবে না।’’

বার্তা২৪/ওয়াইই/জিসা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট