Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সাদ্দামের হাত থেকে বাঁচতে ২২ বছর গর্তে বসবাস

লন্ডন, ১৯ মার্চ: ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের নিষ্ঠুর মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে এক ব্যক্তি তার জীবনের ২২টি বছর কাটিয়েছেন ঘরের মেঝের নিচে একটি গর্তের ভিতর লুকিয়ে।

জাওয়াদ আল সাম্মারি নামের ওই ইরাকির ১৯৭৯ সালে মৃত্যুদণ্ড হয়। তার বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী ইসলামিক দাওয়া পার্টির সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এ দণ্ড থেকে বাঁচতে সাম্মারি তার মাকে সঙ্গে নিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

অবশেষে সাদ্দামের সেনাদের হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় না পেয়ে তার মা তার জন্য নিজ ঘরের মেঝের নিচে একটি গর্ত তৈরি করে দেন। এবং সাম্মারি ওই গর্তের ভিতর লুকিয়ে থাকতে শুরু করেন।

মাত্র আধা মিটার প্রস্থ এবং ‍দুই মিটার গভীর এ গর্তে তার সঙ্গে ছিল একটি পুরনো ছোট কম্বল, কিছু রান্নার সরঞ্জাম, একটি রেডিও, কোরআন শরিফ।

সাম্মারির মা গর্তে একটি প্লাস্টিকের টিউবের ব্যবস্থা করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি বাতাস পেতেন। পাশাপাশি কিছুদিন পর পর তার পরিবার তার সঙ্গে দেখা করতো এবং তাকে খাবার ও পানীয় সরবরাহ করতো।

এএফপিকে সাম্মারি জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে এ গর্তে অবস্থান করা ছিল এক দুঃসহনীয় ব্যাপার। এমনি কি এ সময়ে তার ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড হলেও তিনি তার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

তিনি জানান, একবার তার মা অসুস্থ হলে তখন কোনো খাবার ও পানি না পাওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন যে ছোট গর্তটিই তার কবর হবে।

তিনি জানান, গর্তে থাকতে থাকতে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। মাত্র কয়েক বছরেই সব দাঁত পড়ে যায়।

তিনি বলেন, “গর্তের ভিতর যে জিনিসগুলো আমাকে একটু সুখ দিয়েছিল তা হলো আমার নামাজ, আমার কোরআন পড়া আর রেডিওতে সংবাদ শোনা।”

অবশেষে ২০০৩ সালে আমেরিকার হাতে সাদ্দামের পতন হলে তিনি এ গর্ত থেকে বেরিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, “আমি কখনো আশা করিনি আমি এই গর্ত থেকে বের হয়ে সাধারণ জীবনে ফিরে আসতে পারবো। মাঝে মাঝে নিজেকে একজন মৃত মানুষ মনে হতো। সবকিছু অন্ধকার মনে হতো।”
এখন সাম্মারি ৫০ বছর বয়সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন অনেকেটাই ছোটখাটো সেলিব্রেটির মতো। তিনি আজ থেকে সাত বছর আগে গর্তের বাইরে আসেন এবং একটি চাকরি যোগাড় করেন। গর্তের বাইরের জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে থাকেন।

তবে দুঃখের বিষয় হলো ইরাকি সরকার এখনও তাকে সাজা থেকে মুক্তি দেয়নি। এমনকি তাকে একজন রাজনৈতিক বন্দি হিসাবেও স্বীকৃতি দেয়নি।

তিনি বলেন, “আমার এ কষ্টময় ইতিহাসের একমাত্র সাক্ষী আমার মা। তাই তিনি ছাড়া আমার কাছে তেমন কোনো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। সূত্র: ডেইলি মেইল।

বার্তা২৪ ডটনেট/এএম/জাই

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট