Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সরকারের সমালোচনায় মুখর চারদলীয় এমপিরা


ঢাকা, ১৯ মার্চ: সংসদে সরকারের সমালোচনায় ফেটে পড়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদীয় জোটের এমপিরা। তারা বর্তমান সরকারের আমলে শেয়ারবাজার ধ্বংস, বিদ্যুত খাতের দুর্নীতি, সীমান্ত হত্যা, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সাংবাদিক দম্পতি হত্যায় ব্যর্থতা নিয়ে সরকারের সমালোচনায় সংসদ গরম করে তোলেন।

সোমবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনকালে এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে সম্প্রতি শান্তির জন্য ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার দেয়া হয়েছে। অথচ তিনি বলেন তিনি নাকি শেয়ারবাজার বুঝেন না, এ কথা বলে তিনি শেয়ারবাজারকে আরো অস্থির করে তোলেন। এজন্য তাকে ‘ডেস্ট্রয় পদক’ দেয়া দরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘মহান সংসদের কাছে আমি কিছু ডিজিটাল দুর্নীতির কথা বলতে চাই। শেয়ারবাজার থেকে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়া দরবেশের কথা এখন বাচ্চারাও জানে। শেয়ারবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া দরবেশের সঙ্গে তার মুরিদদেরও বিচার হয়নি।’’ দরবেশকে তিনি শেয়ারবাজারের ম্যারাডোনা বলেও অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘‘সৌদি কূটনীতিবিদ মারা গেছে, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ২০ লাখ বাংলাদেশীকে পাঠিয়ে দিলে রাস্তায় বসতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘উপদেষ্টারা বলেন শেয়ারবাজার বুঝি না, রাষ্ট্রের এমন কোনো দায়িত্বে কাউকে বসানো উচিত নয়, যিনি বলেন, তিনি এটা বুঝে না। তাকে এটা বুঝতে হবে। কারণ এর সঙ্গে অন্তত এক কোটি লোকের জীবন সম্পৃক্ত।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। দুই একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হওয়ার অর্থ কিন্তু জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নয়। ইভিএম নিয়ে সরকার কথা বলে কেন। এটা নিয়ে কথা বলবে নির্বাচন কমিশন। দেখা গেলো ইভিএমে বরিশালে ভোট দিল নৌকায়, তা পড়ে গেল গোপালগঞ্জে ধানের শীষে।’’

তিনি বলেন, ‘‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কোনো দিন হবে না, হলে দেশ কিন্তু আরো খারাপের দিকে যাবে। মিডিয়া নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হলে মিডিয়ার সম্মান হালকা হয়ে যায়। আমাদের উচিত মিডিয়াকে সম্মান জানানো। হানিফ বলেছেন, সরকারের বিকল্প হলো আওয়ামী লীগ। সাগর-রুনির ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়িত্ব দেয়নি বলে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’’

তিনি বলেন, ‘‘১২ মার্চের ঘটনায় দেখা যায় বিরোধী দলের সমাবেশ নিয়ে সরকারের ভূমিকা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। এটা কিসের গণতন্ত্র! একটু যদি আত্মসমালোচনা শোনার ধৈর্য্য না থাকে তাহলে কিভাবে গণতন্ত্র চলবে।’’

বিএনপির রাশেদা বেগম হীরা বলেন, ‘‘হিটলার রাষ্ট্র ধ্বংস করলেও সংবিধান পরিবর্তন করেননি। কিন্তু এ সরকার সংবিধানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আন্তঃনদী সংযোগের কারণে সারাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। এদেশের মানুষ পিন্ডির পরিবর্তে দিল্লির জন্য দেশ স্বাধীন করেনি।’’

তিনি সরকারি দলের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘নৌকা প্রতীক পরিবর্তন করুন। নয়তো এ দেশের মানুষ নৌকা প্রতীক গঙ্গায় ভাসিয়ে দিবে।’’ উর্দু আর ইংরেজির সংমিশ্রণে গঠিত ‘আওয়ামী লীগ’ শব্দটিও পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের এমপি বেগম নাজমা আক্তার বলেন, ‘‘বিরোধী দলীয় এমপিদের বারবার জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে সম্বোধন করায় আমাদের সঙ্গে দর্শকরাও লজ্জিত হচ্ছেন।

বিএনপির এমপিদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘‘এভাবে ঘোষক ঘোষক না বলে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে রাস্তায় নামুন। দেখুন জনতা কিছু ভিক্ষা দেয় কিনা?’’

তিনি বলেন, ‘‘এ মাসে বেশ কিছু কেলেংকারির খবর শোনা যায়। আন্তর্জাতিকভাবে এ মাসে বাংলাদেশ নিয়ে স্ক্যান্ডাল হলো বিএনপি আইএসআই থেকে পাঁচ কোটি টাকা নিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হয়ে কিভাবে খালেদা জিয়া আইএসআইয়ের কাছ থেকে টাকা নিলেন।’’

বিএনপির এমপি সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া বলেন, ‘‘পাকিস্তানের সুর আর আওয়ামী লীগের সুর যখন একই হয়, তখন মানুষ ভাবে দেশ কোথায় যাচ্ছে? রাষ্ট্রপতির সংসদে দেয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। যত্রতত্র পড়ে থাকা লাশের সংখ্যা যত্রতত্র পড়ে থাকছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে বারবার টাকা ছাপিয়ে মুদ্রাস্ফীতি দুই ডিজিট ছাড়িয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির খেলা, শেয়ারবাজার লুটপাটের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে আসেনি। তাই আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না বলে আমি দুঃখিত।’’

পরে মেরুদণ্ডহীন রাষ্ট্রপতি শব্দটি স্পিকার এক্সপাঞ্জ করে নেন।

তিনি বলেন, ‘‘এ সংসদে আমরা যখন ছিলাম না তখন আওয়ামী লীগের এমপিরা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, জিয়ার অবদান নিয়ে যা ইচ্ছে তাই বলেছেন। তখন কোথায় ছিলেন গতকাল ভাল ভাল কথা বলা আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যারা নিষিদ্ধ পল্লীর বাসিন্দা তারাই ভাল জানেন নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা কি রকম।’’

বার্তা২৪/ওয়াইই/জিসা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট