Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাক-স্বাধীনতা সংকোচনে উচ্চ আদালতের ভূমিকায় ২৩ জন বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্বেগ প্রকাশ

গত ১২ মার্চ একটি বেসরকারী টেলিভিশনে রাজনৈতিক বিশ্লেষনমূলক বক্তব্য প্রদান করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রুল জারির ঘটনায় ২৩ বিশিষ্ট নাগরিক উদ্বেগ জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আসিফ নজরুল বহু বছর ধরে রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়ে লেখালেখি করছেন এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চের অনুষ্ঠানটিতে তিনি দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধ ও তিক্ততার সমালোচনা করেন এবং এটি অব্যাহত থাকলে দেশে আবারো ১/১১ ধরনের শক্তির উদ্ভব হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন। এ’ধরণের আশংকা প্রকাশ দুই প্রধান দলের সাংঘর্ষিক রাজনীতির প্রেক্ষিতে অযৌক্তিক নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক সংকটকালে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা হিসেবে বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের জন্য সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। সাংবিধানিকভাবে দেশের উচ্চ আদালতের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের বাকস্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকার সংরক্ষন করা এবং এর প্রতি যে কোন হুমকির বিরুদ্ধে নাগরিকদের রক্ষা করা। আদালত উল্টো একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বাকস্বাধীনতা প্রয়োগের জন্য কেন আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হবে না তা জানতে চেয়ে তার এবং স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি ও ঢাকার পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে রুল জারি করায় উচ্চ আদালতের এধরনের পদক্ষেপ জনগনের মুক্ত মননশীলতা, চিন্তা ও বাক-স্বাধীনতার চর্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বতপ্রণোদিত হয়ে বা আবেদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতের একই বেঞ্চ থেকে গত কয়েকমাসে এ’ধরনের আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যা জনগনের মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। এরআগে উচ্চ আদালতের উক্ত বেঞ্চ আরেকটি বেসরকারী চ্যানেলের টক-শো’তে অংশগ্রহনকারীদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে আদালতে তলব করেছিল। সাগর-রুনি মামলায় উচ্চ আদালতের উক্ত বেঞ্চ-এর রুল দেশের সাংবাদিক মহল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অন্তরায় বলে আখ্যায়িত করেছিল এবং আদালতের নির্দেশনা না মানার ঘোষণা দিয়েছিল। আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে জারি করা রুলটিও গনমাধ্যমে বাক-স্বাধীনতা চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ।
উচ্চ আদালতের এধরনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ বাক-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকাকে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলছে। বাক-স্বাধীনতা রক্ষার পরিবর্তে উচ্চ আদালত যদি  নাগরিকদেরকে রুল জারী করে ফৌজদারী বিচারের সম্মুখীন করার উদ্যোগ নিতে থাকে তাহলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে উচ্চ আদালত তার শক্তি ও গ্রহনযোগ্যতা বহুলাংশে হারিয়ে ফেলবে। এ’ধরনের পরিস্থিতি গণতন্ত্র চর্চা এবং বিভিন্ন নির্বাচনী অঙ্গীকার পালনের ক্ষেত্রে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পথকেও রুদ্ধ করবে। উচ্চ আদালত যাতে মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি আরো সংবেদনশীল ও সহানূভূতিসম্পন্ন ভূমিকা পালন করে তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন জানানো হয় বিবৃতিতে। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ছিলেন, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ব্যারিষ্টার মানজুর  হাসান, মাহমুদুর রহমান মান্না,  অধ্যাপক সালাউদ্দিন আমিনুজ্জামান, ড. শাহদীন মালিক, নূরুল কবীর, অধ্যাপক পিয়াস করিম, অধ্যাপক  আমেনা মোহসীন, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, অধ্যাপিকা সুমাইয়া খায়ের ,ড. ফষ্টিনা পেরেরা, অঞ্জন রায়, ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমান, রুবানা হক,অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ডা. জাফরুলøাহ চৌধুরী, শিরিন হক, মিজানুর রহমান খান, আবু সাঈদ খান, মনির হায়দার প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট