Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংসদে হাতাহাতির উপক্রম


সংসদে ফিরেই উত্তাপ ছড়িয়েছে বিরোধী দল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপি দলীয় এমপি রেহেনা আক্তার রানুর দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরে তা হাতাহাতির উপক্রম  হয়। এ সময় সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপিরা টেবিল চাপড়ানির পাশাপাশি নানা ধরনের কটূক্তি করতে থাকেন। কেউ কেউ শিস দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গি করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদে উপস্থিত ছিলেন। পরে সরকারি ও বিরোধী দলের সিনিয়র এমপিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। টানা তিন অধিবেশন অনুপস্থিতির পর গতকাল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের এমপিরা সংসদে যোগ দিলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
যেভাবে ঘটনার শুরু
শুরুতে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আলোচনায় ফ্লোর দেয়া হয় বিরোধীদলীয় এমপি রেহেনা আক্তার রানুকে। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ কালনাগিনী ও ডাইনির কবলে পড়েছে। ’৯১ সালে গোলাম আযমের পা ছুঁয়ে সালাম করেছিল আপনাদের নেত্রী। তার এ বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সরকার ও বিরোধীদলীয় মহিলা এমপিরা তর্কাতর্কি, হৈ চৈ ও হট্টগোল শুরু করেন। সরকারদলীয় এমপি ফজিলতুন্নেছা বাপ্পী চিৎকার করে হাত উঁচিয়ে ‘চুপ চুপ, থাপ্পড় মারবো’ বলে দাঁড়িয়ে যান। জবাবে একই ভঙ্গিতে আসন থেকে উঠে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় এমপি শাম্মী আক্তার। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলতে থাকে ওই দুই মহিলা এমপি’র তর্কাতর্কি। এ সময় তাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের মহিলা এমপিরা। পরিস্থিতির আরও কিছুটা অবনতি হলে ছুটে আসেন দুই দলের সিনিয়র এমপিরা। স্পিকার অসহায় অবস্থায় বসে থাকেন। চার-পাঁচ মিনিট পরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম ও বিএনপি’র শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও নিলোফার চৌধুরী মণি দুই সারির মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে দু’দিক থেকে ছুটে আসেন সরকার ও বিরোধী দলের দুই চিফ হুইপ। তিন-চার মিনিট পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ সময় সরকারকে কটাক্ষ করে রানু তার বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশী ভাইদের উলঙ্গ করে নির্যাতন করছে আর মন্ত্রী বলছেন কিছুই হয়নি। ভবিষ্যতে যদি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীকে লুঙ্গি তুলে পেটানো হয়, তবে দেশের ইজ্জত বাড়বে না। তিনি বলেন, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার পর তাদের নেতা কে? উত্তর দিতে পারবে না। এ জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা তারেক রহমানকে একটি মিথ্যা মামলায় সাজা দিতে সাদা চামড়ার শয়তান বুড়িকে সাক্ষী আনা হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় আমেরিকায় মাতলামি করার দায়ে সাজা ভোগ করেছেন। এখন সেখানে তিনি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছেন। মানুষ জানতে চায়- এই টাকা কোথায় পেলেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের জের টেনে রানু বলেন, মঈন উ আহমদের কোলে করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। রেহেনা আক্তার রানু বলেন, আইন-আদালত এখন প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগে ঢুকে পড়েছে। টাকা নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। এক বিচারপতি যে কোন বিষয়ে আবোলতাবোল বকে থাকেন। উনাকে নাকি মাঝে মাঝে ভূতে ধরে। ঝাড়ু দিয়ে সে ভূত ছাড়াতে হবে। আদালতে বসে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি কি কি করেন, তা আমরা জানি। এ জন্য সরকারকে তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের লোকজন ও আইন প্রতিমন্ত্রী কাপড়-চোপড় নিয়েও পালাতে পারবে না। এর আগে দীর্ঘ বিরতির পর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয় বিরোধী দল। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে বৈঠক শেষে বিকাল ৫টা ১৪ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন বিরোধীদলীয় এমপিরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া একই সময়ে অধিবেশন কক্ষে ঢোকেন।
এক বছর তিনদিন পর
টানা ৮৩ কার্যদিবস অনুপস্থিতির পর সংসদে ফিরলেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে এক বছর তিন দিন। শেষ হয়েছে নবম জাতীয় সংসদের নবম, দশম ও একাদশসহ  তিনটি অধিবেশন। গতকাল তিনি সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে যোগ দেন। সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৫ই মার্চ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২৪শে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি সংসদে থাকলেও আর সংসদে আসেননি বিএনপি চেয়ারপারসন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদের বেতন-ভাতা অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ায় এসবের জন্যও সংসদে যেতে হয়নি খালেদা জিয়াকে। এমনকি এ সময় সংসদ ভবনে খালিই থেকেছে বিরোধী দলের নেতার দপ্তর। গত রমজানে দু’টি ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে জাতীয় সংসদের এলডি হলে গেলেও নিজ দপ্তরে যাননি খালেদা জিয়া। এদিকে ‘সংসদ চলমান’ বলে গতকাল সকালে জিয়া ট্রাস্ট মামলাতেও আদালতে হাজিরা দিতে যাননি তিনি।
ভারত ও আইএসআই-এর টাকা লেনদেনের তদন্ত দাবি
বিরোধীদলীয় এমপি শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, আইএসআই-এর টাকা নিয়ে সম্প্রতি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তানের হাইকোর্টে দেয়া সে হলফনামায় বাংলাদেশ বা বিএনপি’র প্রসঙ্গে কোন উল্লেখ নেই। বিষয়টি আরব আমিরাতের খালিজ টাইমসে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি ওই সংবাদটি বিস্তারিত পড়ার জন্য সরকারি দলের এমপিদের প্রতি আহ্বান জানান। এ্যানী বলেন, বিএনপি কখনও টাকা দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। বরং বিশ্বখ্যাত ইকনোমিস্ট-এ প্রকাশ পেয়েছে- ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগই ভারতের কাছে বস্তা বস্তা টাকা নিয়েছে। জোটের শরিক দল বলেছে, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারতো না। এমনকি আওয়ামী লীগ নেতারাই বলছেন, মন্ত্রীরা ডিজিএফআই-এর এজেন্ট। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে লংড্রাইভে গিয়ে কে কত টাকা লেনদেন করেছিলেন তা তৎকালীন মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বইয়ে উল্লেখ আছে। এ সময় সরকারদলীয় এমপিরা হৈ চৈ শুরু করলে তিনি বলেন, আমরা মঈন উ’র হাত ধরে এখানে আসিনি। তাদের চ্যালেঞ্জ করেই সংসদে এসেছি। হতে পারি সংখ্যা ৩৭ জন। তবে আমরা বিরোধী দল। সে নির্বাচনে জনগণ আমাদের ৩৭ ভাগ ভোট দিয়েছিল। এ সংখ্যা তিন বছরের মাথায় কোথায় উন্নীত হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে আপনারা টের পাচ্ছেন না। শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, আজকে সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিরা যে ভাষায় বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তা শুনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা মনে পড়ে। তিনি একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, সময়টা আজ বড্ড ইতর হয়ে গিয়েছে। তবে আমরা তার জবাব দিতে আসিনি, প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। তিনি বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি দায়িত্বশীল পদ থেকে বক্তব্য এসেছে- সরকার কারও বেডরুম পাহারা দিতে পারে না। এর ক’দিন পর একটি বিদেশী কূটনীতিক খুন হয়েছে রাস্তায়। এখনও তার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। অথচ দেশবাসীর জানমাল পাহারা দেয়ার দায়িত্ব সরকারেরই। তিনি বলেন, গণমিছিলে আমার জেলায় পুলিশ গুলি করে দুই কর্মীকে হত্যা করেছে। আমাদের কি গণতান্ত্রিকভাবে তার প্রতিবাদের সুযোগ নেই? আমরা ১২ই মার্চ শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের আয়োজন করলে সরকার তরফে কেন সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু জনগণ সেটা মানেনি। খালেদা জিয়া চাইলে লাগাতার কর্মসূচি দিতে পারতেন, তিনি তা না করে সরকারকে সময় দিয়ে গণতন্ত্রকে সম্মান দিয়েছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, গণমিছিল, রোড মার্চসহ নানাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করেছি। জনগণ আমাদের ভরসা দিয়েছে। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি এখন বিএনপি’র নয়, জনগণের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবের ভিসা পেলেন না কেন?
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মহাজোট সরকারের শরিক জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল বিরোধীদলীয় এমপিদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের ভাষা ও সংসদীয় রীতিনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জবাব দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সরকারের শেষ সময়ে এসে সরকারের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে মন্ত্রী হওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন সৌদি সরকার ভিসা দিলো না- এ জন্য লজ্জা হয়। আর কয়েক দিন পর জনগণ প্যাকেট করে এদের সবাইকে ভারতে পাঠিয়ে দেবে। এরপরই ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুশ শহিদ বলেন, লজ্জা হয় ৯০ দিনের আগে সংসদ সদস্য পদ রক্ষা ও বেতন-ভাতার জন্য সংসদে এসেছেন। এরপর তিনি অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যগুলো এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। এ সময় স্পিকার বলেন, অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যগুলো আগেই এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।
এর আগে বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংসদ অধিবেশনে যোগদানের সিদ্ধান্ত হয়। অধিবেশনের শুরু থেকেই তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদে যোগ দেন। সংসদীয় দলের সভায় বিএনপিসহ জামায়াতের শামসুল ইসলাম ও হামিদুর রহমান আযাদ, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট