Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সংসদে যাচ্ছে বিএনপি: পরিবেশ গরম হলে ওয়াক আউট


ঢাকা, ১৮ মার্চ: বিরোধীদল সংসদে যাবে। তবে তারা সংসদে থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে সরকারি দলের ওপর। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। পরিবেশ উত্তপ্ত হলে ওয়াক আউটের মতো ঘটনা প্রথম দিনেই ঘটতে পারে। আজ রোববার না গেলেও সোমবার অধিবেশনে যাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।

সংসদে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ রোববার বিকাল চারটায় জাতীয় সংসদের তৃতীয় তলায় বিরোধীদলীয় নেতার সভাকক্ষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে কখন তারা অধিবেশনে যোগ দেবেন। থাকবেন কি না নির্ভর করছে সরকারি দলের আচরণের ওপর।

এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যদের বক্তব্য খুবই পরিস্কার। তারা বলছেন, “সরকারি দল চায় না আমরা অধিবেশনে থাকি। সেজন্য আমরা প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তারা অধিবেশন কক্ষ তাদের দখলে রাখতে চাইবে। বিরোধীদলকে ওয়াক আউট করে বাইরে যাওয়ার জন্য তারা অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যও শুরু করবে। ফলে বিরোধীদল ওয়াক আউট করতে বাধ্য হবে।”

জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “সংসদে যাবো। তবে কখন যাবো তা ঠিক হবে বিকাল চারটার বৈঠকে।”

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এএইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমরা তো সংসদে যেতেই চাই। কিন্তু সরকারি দলতো চায় না যে আমরা সংসদে থাকি “

তিনি বলেন, “আজ রোববার বিকেলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠকে ঠিক হবে কখন আমরা অধিবেশনে যোগ দেব।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সংসদে কতদিন থাকবো তা নির্ভর করছে পরিবেশের ওপর। সরকারি দল কখনোই চায় না যে আমরা অধিবেশনে থাকি। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি। সেজন্যই আমরা অধিবেশনে যোগ দিলেই তারা সংসদের পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে। ফলে আমরা ওয়াক আউট করতে বাধ্য হই।”

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ৭৪ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকার পর গত বছর ১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। পরের অধিবেশনগুলোতে খালেদা জিয়া না গেলেও ২৪ মার্চ পর্যন্ত সংসদে ছিল বিরোধীদল।

পরবর্তীতে আর কোনো অধিবেশনে যোগ দেননি তারা। এ অবস্থায় বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ৮৩ দিন অনুপস্থিত রয়েছেন অধিবেশনে। এক টানা ৯০ কার্যদিবস স্পিকারের অনুমতি ছাড়া অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। এজন্য সদস্য পদ টিকিয়ে রাখতে হলেও বিরোধীদলকে সংসদে যেতে হবে।

সরকারি দল অভিযোগ করেছে, “দেশের মানুষের জন্য কথা বলতে না গেলেও বেতন ভাতা আর সদস্যপদ টিকিয়ে রাখার জন্য বিরোধীদল সংসদে যোগ দেবে।”

জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অভিযোগ করেছেন, “বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে যায় না সরকারি দলের আচরণের কারণেই। এমনকি স্পিকারও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করায় আমরা সংসদ বর্জন করতে বাধ্য হই।

তিনি বলেন, “আমরা বার বার বলে আসছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিল সংসদে পেশ করলেই আমরা অধিবেশনে যোগ দেব। কিন্তু সরকারি দল এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করছে না।”

ফারুক আরো বলেন, “আমরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কথা বলতে চাইলেই সরকারি দলের সদস্যরা হই চই করে অধিবেশন কক্ষের পরিবেশ নষ্ট করে তোলে। নোটিশ দিলে স্পিকার গ্রহণ করেন না। মূলতবি প্রস্তাব একটিও গ্রহণ করেনি “

এদিকে একটি সুত্রে জানা গেছে, রোববার অধিবেশনে না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সুত্র জানায়, রোববারের সংসদীয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সোমবার অধিবেশনে যোগ দেবে বিরোধীদল।

উলেস্নখ্য, বর্তমান সংসদে বিএনপি’র নির্বাচিত সদস্য রয়েছেন ৩০ জন। এর সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের পাঁচজন, জামায়াতের দুই জন, বিজেপি’র একজন ও এলডিপি’র একজন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম দুই আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জেলে রয়েছেন। অন্যদিকে অসুস্থতার জন্য বিদেশে চিকিৎসাধীন আছেন কুমিল্লা তিন আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের ৩৭ জন্য সদস্য এক সঙ্গে অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে তাদের ঢাকায় থাকতে বলা হয়েছে। তবে কোনো সদস্য যেন মিডিয়ার সঙ্গে নীতি-নির্ধারণী কোনো বক্তব্য না দেন সে নির্দেশও রয়েছে দলের হাই কমান্ডের। সে কারণে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রোববারের বৈঠকের বাইরে আর কোনো কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।

বার্তা২৪/এমএইচ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট