Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সমুদ্রসীমা নির্ধারণে হঠাৎ আলোচনায় আগ্রহী ভারত

১৭ মার্চ: সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলা বিরোধের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সমাধানের আগ্রহ জানিয়েছে ভারত। অভিন্ন ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা কমিশনের রায় বাংলাদেশের পক্ষে যাওয়ার তিনদিন পর ভারত এ আগ্রহ জানালো।

 

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা জানিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে ৩৮ বছর ধরে আলোচনা করে কোনো সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ আদালতে গিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী একাধিকবার জানিয়েছেন।

 

পঙ্কজ সরেন শনিবার সন্ধ্যায়  প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেই সমাধান সম্ভব। প্রতিবেশীদের সঙ্গে যেসব বিষয় নিয়ে কথা হয়, তার সব আলোচনা টেবিলেই রয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। আমরা এই পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যেসব বিষয় রয়েছে, তা নিয়ে কাজ করতে আমি অপেক্ষায় আছি।’’

 

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দিতে চাই না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটি আমার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাত।  এ প্রক্রিয়ার সব বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছি।’’ সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নেরও একই জবাব দেন হাইকমিশনার।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘ ৩৮ বছর আলোচনার চেষ্টা চালানোর পর ২০০৯ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমার ও ভারতকে নোটিশ দেয়া হয়। ঢাকাস্থ মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ও ভারতের হাইকমিশনারকে একইদিনে একই সময় ডেকে পাঠানো হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুনানিতে অংশ নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে চলে মামলার প্রক্রিয়া। এই মামলায় রায় হয় গত বুধবার। সেখানে মিয়ানমারের দাবি খারিজ করে দেয় আদালত।

 

ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারনের নির্দেশ দেয়া হয়। ভারতের সঙ্গে মামলায়ও একই ন্যায্যতার দাবি বাংলাদেশের।

 

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক জানান, ‘‘মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে আদালতে যাওয়ার আগে একটি বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেই সমাধানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। মিয়ানমারও তাতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু ভারতের পরামর্শে মিয়ানমার সেখান থেকে পিছিয়ে আসে। বাংলাদেশের সঙ্গে অসহযোগিতা শুরু করে মিয়ানমার। পরে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত ও মিয়ানমারের একই আইনজীবীদল লড়াই করছে। এতেই স্পষ্ট হয় যে ভারত মিয়ানমারকে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্ররোচিত করেছিল।’’

 

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের মামলাটি ছিল জাতিসংঘ সমুদ্র আইন-১৯৮২ (আনক্লজ)-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত ইটলস-এ। আর ভারতের মামলাটি সুইজারল্যান্ডের হেগের স্থায়ী সালিস ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হবে। হেগের আদালত নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভারতের বেশি আগ্রহ কাজ করেছে।

 

বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলায় বাংলাদেশ তার দাবি-দাওয়াসহ ‘মেমোরিয়াল’ গত বছরের ৩১ মে ট্রাইব্যুনালের কাছে জমা দিয়েছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ভারত পাল্টা মেমোরিয়াল জমা দেবে। এ বিষয়ে সব লিখিত ও মৌখিক শুনানি শেষে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ওই মামলার রায় পাওয়া যাবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র কর্মকর্তারা।

 

বার্তা২৪/জিসা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট