Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

৩৪ চাঞ্চল্যকর মামলা ৭ বছরে রহস্য উদঘাটিত হয়নি একটিরও


নুরুজ্জামান: মামলা চাঞ্চল্যকর, অথচ হত্যা রহস্য উদঘাটিত হচ্ছে না দীর্ঘদিনেও। তদন্ত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বারবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হওয়ায় খুন রহস্য উন্মোচনে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রকৃত আসামিদের বাঁচানোর জন্যই তদন্তে গতি নেই। কয়েকটি মামলায় দশবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩৪টি চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব, সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশ। কয়েকটি মামলা ঝুলে আছে ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে। ৫ বছরেও হত্যাকাণ্ডের মোটিভই উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ডাবল মার্ডারসহ চাঞ্চল্যকর ৩টি হত্যা মামলার তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মামলাগুলো হচ্ছে- মীর হাজীরবাগ এলাকায় পরিবহন ব্যবসায়ী জুয়েল হোসেন ও তার বন্ধু পোশাক ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন টুটুল হত্যাকাণ্ড, এডভোকেট খোরশেদ আলম বাচ্চু ও তুর্কি এসোসিয়েটস-এর পরীবাগ অফিসে রমজান আলী হত্যা মামলা। নিহতের স্বজনরা জানান, দীর্ঘ ৮ বছরেও এডভোকেট খোরশেদ আলম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ৭ বছরেও উদঘাটন করতে পারেনি তুর্কি এসোসিয়েটস লি.-এর পরীবাগ অফিসে রমজান আলী হত্যার রহস্য। একইভাবে ৫ বছরেও শনাক্ত করতে পারেনি মীর হাজীরবাগে দু’বন্ধু হত্যাকাণ্ডের মোটিভ। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে জুয়েল ও টুটুলকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। চাঞ্চল্যকর এ জোড়া হত্যাকাণ্ড তদন্ত করতে গিয়ে ১০ বার তদন্ত কর্মকর্তার বদল ঘটে। এতে সঠিকভাবে এগুতে পারেনি তদন্ত কর্মকাণ্ড। মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান হোসেন মানবজমিনকে বলেন, বার বার তদন্ত কর্মকর্তার বদল হওয়ায় এখন পর্যন্ত এ জোড়া খুনের কোন কূল-কিনারা হয়নি। মামলার তদারকি কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মো. হায়াতুজ্জামান বলেন, সমপ্রতি মামলার তদন্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে দু’জন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ জানা যায়নি। তবে হত্যার নেপথ্যে গাড়ি কিংবা মাদক ব্যবসার কোন্দল ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তুর্কি এসোসিয়েটস লি.-এর পরীবাগ অফিসে রমজান আলীকে হত্যার ঘটনায় ২০০৬ সালের ১৪ই মে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করা হয়। মামলা নম্বর-৫২। বর্তমানে তদন্ত করছেন মহানগর গেয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. শফিউদ্দিন শেখ। মামলাটি পুলিশ সদর দপ্তরে মনিটরিং উপ-কমিটিতে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের একাধিক সভায় আলোচিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই। একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তার বদল হওয়ায় তদন্তে স্থবিরতা নেমে আসে। একই ঘটনা ঘটছে এডভোকেট খোরশেদ আলম বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। ২০০৫ সালের ১৭ই মে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়। মামলা নম্বর-৫৫। বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের ডাকাতি ও দস্যুতা টিম তদন্ত করছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুল হক বলেন, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। তাই অগ্রগতির বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না।
এদিকে র‌্যাব-এর তদন্তাধীন দু’টি মামলারও কোন অগ্রগতি নেই। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. আবদুল বাকী মির্জা হত্যা মামলার প্রথমদিকে তদন্ত করেন সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই মনিরুল ইসলাম। বর্তমানে র‌্যাব-১২ এর এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডল তদন্ত করছেন। তিনি এখন পর্যন্ত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেননি। গত ২রা এপ্রিল মেহেরপুরে বোমা মেরে মিজানুর রহমান রিপনকে খুন করে সন্ত্রাসীরা । এ ঘটনায় মেহেরপুর থানায় মামলা হয়। মামলা নম্বর-২। তদন্তে শম্বুক গতি চলছে জয়পুরহাটে দালাল কর্তৃক মানবদেহের কিডনি ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার। গত ২৯শে আগস্ট মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যামে প্রকাশ হয়ে পড়ায় জয়পুরহাট জেলার কালাই থানায় একটি মামলা হয়। মামলা নং-১১। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০১০ সালে মতিঝিলের শাহজাহানপুর আমতলা জামে মসজিদের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাউসার আলী হত্যা মামলা, ২০০৮ সালের বিএনপি’র ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান শিবলী হত্যা মামলা, ২০০১ সালের গোপালগঞ্জের গীর্জায় বোমা বিস্ফোরণ মামলা, রমনা থানায় হাইকোর্টের বিচারপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলা, পল্টন ময়দানে সিপিবি’র অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণ (অধিকতর তদন্তাধীন) মামলার তদন্ত কর্মকাণ্ডে কোন অগ্রগতি নেই। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক মামলা হওয়ায় সরকারের অভিপ্রায় অনুযায়ী একেক সরকারের সময় একেক রকম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। এতে করে পুরনো ওই মামলাগুলোর আসামিদের শাস্তির বিষয়টি ঝুলে যায়। রংপুর বদরগঞ্জে ৩য় শ্রেণীর ছাত্র মাহমুদুল হাসান পাপ্পু খুন, মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী কর্তৃক আবাসন কোম্পানি শেল্‌টেক-এর কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ হত্যা ও গুলশানে শিশু আলিফ হোসেন হত্যা মামলার তদন্তেও কোন অগ্রগতি নেই বলে সূত্র জানায়। ২০০৪ সালের সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের বাসার গৃহ পরিচারিকা বিলকিছ বেগম হত্যা, ১৯৯৯ সালে যশোর কোতোয়ালিতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণে ১০ জন হত্যা মামলা, ২০০২ সালে রমনা থানাধীন ইঞ্জিনিয়ার এসএম শফিক-উল-মওলা হত্যা মামলা, ২০০৭ সালের রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র হারিসুল ইসলাম বিপ্লব হত্যা মামলা, ২০০৫ সালে তেজগাঁও থানাধীন এডভোকেট খোরশেদ আলম বাচ্চু হত্যা ও ধানমন্ডিতে সাবেক শিক্ষিকা কাজী সুহিন নাহার হত্যা মামলা, ২০০৬ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আফতাব আহমেদ হত্যা মামলা, ২০০৭ সালে বগুড়া তালোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলা, যশোরে দৈনিক রানার পত্রিকার সম্পাদক প্রয়াত সাইফুল আলম মুকুলের ছেলে তানভীর হাসান অঞ্জন হত্যা মামলা, ২০০৯ সালের পিরোজপুরের কাউখালীতে এডভোকেট গিয়াসউদ্দিন খান (মাসুদ) হত্যা মামলা, মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও তার ছেলে তমহর ইসলামকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলা, খুলনায় শহীদ ইকবাল বিথার হত্যা মামলা, দাউদকান্দির অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫১ টাকা চুরি মামলা, ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ফারুক হোসেন হত্যা মামলা, আদাবরে ওয়াহিদুজ্জামান রুমিজ হত্যা মামলা, চট্টগ্রামে এইচআরসি শিপিং লি.-এর জাহাজ এমভি বঙ্গবিরাজের থার্ড অফিসার মুসা বিন সিরাজ হত্যা মামলা, আদাবরে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রকিব নেওয়াজ শেখর হত্যা মামলা, গফরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম ওরফে দুলাল ডাক্তার হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ২০১০ সালে শেরেবাংলা নগর থেকে মো. ইউসুফ আলী (সুজন) অপহৃত হয়। এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট