Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ডিসিসি নির্বাচন: ফাঁকা মাঠ ছাড়তে নারাজ বিএনপি

ঢাকা, ১৭ মার্চ : ঢাকা সিটি করপোরেশন(ডিসিসি) নির্বাচনে ফাঁকা মাঠ ছাড়তে নারাজ বিএনপি। বিএনপি নেতারা বলছেন, ডিসিসি নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবেন না তারা। নারায়ণগঞ্জ অথবা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মতো ‘কৌশলী’ ভূমিকা নিতে পারে দলটি।

বিভক্ত ঢাকার বিরোধিতা করে হরতাল করলেও এখন মাঠ ছাড়তে চাচ্ছেন না মাঠ পর্যায়ে নেতারা। তারা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডিসিসি নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির আন্দোলনের প্রধান মাঠ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

দলের একটি সূত্র বলছে, ডিসিসি’র সাবেক মেয়রসহ অধিকাংশ কাউন্সিলর বিএনপি সমর্থিত থাকার কারণে নগরে বিএনপির একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে উঠেছে। এবার নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জিতে গেলে স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির ব্যাপক ক্ষতি হবে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দলটি মনে করে, ঢাকাবাসীরা সিটি কর্পোরেশন ভাগ করার বিরোধী। বিএনপির কোনো কোনো নেতার ধারণা, এটি আওয়ামী লীগের বিপক্ষে গেছে। তাই বিএনপির উচিত সুযোগটিকে কাজে লাগানো।

নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ ঢাকা বিভক্ত করে মনে করছে বিএনপি এ নিবার্চনে আসবে না। তারা বলছেন, ফাঁকে মাঠে আওয়ামী লীগকে গোল দিতে দেয়া হবে না। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোভাব দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবহিত করার পর সব কিছুর হিসাব-নিকাশ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এখন এ বিষয়ে তেমন কিছুই ভাবছে না দলটি। নিবার্চনী তফসিল ঘোষণা করার পর সার্বিক বিষয় পর্যলোচনা করে সিদ্ধান্ত দিবে দলের হাইকমান্ড।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “ডিসিটি নির্বাচন নিয়ে দল এ মূহূতে কোনো কিছু ভাবছে না। তফসিল ঘোষণা করার পরই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বসে সিন্ধান্ত নিবে।”

দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত- এই বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এ বিষয়টি নিয়ে এখন কোনো কথা বলতে চায় না।”

দলের কিছু নেতা বলছেন, “রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক রাখতে নির্বাচনে না যাওয়াই হবে ভালো। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম-এ সরাসরি বিরোধিতা করছে বিএনপি। অন্যদিকে ইসি বলছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনে সব কেন্দ্র ইভিএম ব্যবহার করতে চায়।
তাই ডিসিসি নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির আন্দোলনের প্রধান দুটি ইস্যু হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে মত দিচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আগে তফসিল ঘোষণা হোক তারপর বিএনপি বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ইভিএম নিয়ে আমাদের মূল বিরোধিতা, তাই এই বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিবার্চনে না যাওয়াই ভালো।”

দলের নেতারা বলছেন, “দশ বছর পর নিবার্চন হলেও গত সাড়ে তিন বছর ধরে মূলত আওয়ামী লীগ নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের চাদাঁবাজি, গুন্ডামি কারণে তারা ইমেজ সংকটে পড়েছে। এ সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর।”

তারা বলছেন, “আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা শুরু করলেও ভিতরে বিএনপি মাঠ দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বলছে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি কৌশলে নিবার্চনী প্রচারণা চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

বিএনপি একটি সূত্র জানায়, দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও ইতিমধ্যে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ দুটি সিটিতেই প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

সম্প্রতি ১২ মার্চসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের ছবি দিয়ে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে সাঁটিয়ে দিচ্ছেন নিজ নিজ এলাকায়। একই সঙ্গে দলীয় সমর্থন আদায়ের জন্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর শীর্ষ নেতাদের কাছে তদবির-লবিং শুরু করেছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবুল বাশার, মহানগর যুগ্ম আহবায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। এছাড়া কারাবন্দি বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এসএ খালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ সাহাবউদ্দিন, ৩৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হারুন অর রশীদের নাম শোনা যাচ্ছে।

উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যারা আলোচনায় আছেন তারা হলেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমএ কাইয়ুম, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু সাঈদ খান খোকন প্রমুখ।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে। এছাড়া যারা নির্বাচন করতে আগ্রাহী তাদের দল থেকে বহিষ্কারের কৌশল নিতে পারে দলটি। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান তাদের ব্যাপারে আপত্তি জানাবে না দলটি। লক্ষ্য যেভাবে হোক দলের প্রার্থীদের জয় চায় দলটি।।

সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর সঙ্গেকথা বলে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেবেন তারা। তাদের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনে গেলে ফল তাদের অনুকূলেই আসবে।

ঢাকা দক্ষিণের ২৯ নং ওয়ার্ড সাবেক কমিশনার (সাবেক ৬৫) শহিদুল ইসলাম বাবুল বার্তা২৪ ডটনেট কে বলেন, “আমি প্রায় দশ বছর কমিশনার ছিলাম। গত সাড়ে তিন বছরে সরকারি দলের নেতাদের অপকর্মের কারণে জনগণ আমাকে সমর্থন দিবে। দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো।”

বার্তা৩৪/এনএম/এসএফ

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট