Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাংলাদেশের ১৭’শ একর জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা


মিরসরাই, ১৭ মার্চ: খাগড়াছড়ির আচালং মৌজার ১৭’শ একর জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের এই ভূমি ভারত অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। ।

গত বছরের ২০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের চূড়ান্ত সীমান্ত ম্যাপ স্বাক্ষর শুরু হলেও এ ভূসম্পদ উদ্ধারে বাংলাদেশের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার আচালং এলাকার সীমান্ত ম্যাপ চূড়ান্ত স্বাক্ষর হলে বাংলাদেশের এ ভূখণ্ড ফিরে পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। চূড়ান্ত সীমান্ত ম্যাপ স্বাক্ষরের আগে দেশের বিশাল এ ভূখণ্ড উদ্ধার করা না গেলে ভবিষ্যতে এ জায়গা নিয়ে আর দাবি করার সুযোগ থাকবে না বলে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন।

দফায় দফায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক হলেও এ বিশাল ভূ-সম্পদ উদ্ধার করতে পারেনি বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা মুখ খুলতে নারাজ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বাংলা-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মাটিরাঙ্গার এ বিশাল আয়তনের ভূমি জবর দখলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের এ বিশাল ভূসম্পদ ভারতের দখল থেকে উদ্ধার করতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নারাজ।

সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের জেআরসি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সফি উদ্দিন ও একজন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ মাটিরাঙ্গার আচালং ও পাশ্ববর্তী কাশেমটিলা এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

এ বিপুল ভূসম্পদ উদ্ধারে জেআরসিতে বিষয়টি উত্থাপনের উদ্যোগ নেয়ায় জেলার অধিবাসীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছিল। বাংলাদেশের এ সম্পদ ফিরে পেতে চায় এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং ইউনিয়নের তাইন্দং ও ১৮৩ নং আচালং মৌজার প্রায় ১৭’শ একর জমি ভারত ১৯৮৬ সালে জবর দখল করে নেয়। এর আগে সর্বপ্রথম ১৯৬২ সালেও ভারত এ বিশালায়তনের ভূমি জবর দখল নিয়েছিল।

পরে ১৯৬২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ইপিআর ও ভারতের বিএসএফ’র মধ্যে সংগঠিত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এ ভূমিটি উদ্ধার করা হয়। এ আচালং যুদ্ধে চার জন ইপিআর সদস্য শহীদ হন ও তাদের মাজার তাইন্দং এলাকায় রয়েছে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদক ওই এলাকা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মফিজ উদ্দিন, বর্তমান মেম্বার মোহাম্মদ রশিদ মিয়াসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা আচালং থেকে ১৯৮৬ সালে শান্তিবাহিনীর নাশকতামূলক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাবে সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে আনা হয়।

ফলে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার অমরপুর মহকুমার সীমান্ত ঘেষা আচালং এলাকাটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগে ভারত সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর তীরের বাংলাদেশের প্রায় ১৭’শ একর জমি দখল করে নেয়।

এলাকাবাসীরা আরো জানায়, ওই সময় বিএসএফ’র সহযোগিতায় সীমান্তের ও পাড়ের জলাইয়া গ্রামের লোকজন আন্তর্জাতিক সীমারেখা হিসাবে চিহ্নিত মূল ফেনী নদীর ২২৬২ বিপি সীমান্ত পিলার এলাকায় নদীতে বাঁধ দিয়ে এর স্রোতধারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের কয়েক হাজার গজ ভিতরে দিয়ে প্রবাহমান আচালং ছড়া ও খালের সাথে সংযোগ করে দেয়।

এতে মূল নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থিত ‘ফেনী নদীর’ ওই অংশ শুকিয়ে গেলে তারা মাটি, জঙ্গল ও আবর্জনা ফেলে নদীটি নিশ্চিহ্ন করে দেয়। পরবর্তীতে ভারতীয়রা বিএসএফর সহযোগিতায় মূল ফেনী নদী ও আচালং ছড়ার মধ্যবর্তী বাংলাদেশের প্রায় ১৭’শ একর চরভূমি দখল করে বিএসএফ’র দুটি স্থায়ী ক্যাম্প করে এবং আচালং ছড়াটি ফেনী নদী হিসেবে প্রচার করে। ভারত-বাংলাদেশের দখলকৃত এ বিশাল আয়তন ভূমির উপর বিএসএফ’র দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

এছাড়া জমির ওপর দিয়ে পিছঢালা বর্ডার রোড নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক পিলার স্থাপন করে বিদ্যুত লাইন সম্প্রসারণ করেছে। ভারতীয় কৃষকরা দখল করা এ জমি চাষাবাদ করে যাচ্ছে নিয়মিত। এর আগে ভারত ১৯৬২ সালের গোড়ার দিকে গভীর অরণ্য ঘেরা অরক্ষিত আচালংয়ের এ বিশাল ভূমি দখল করে।

পরে ১৯৬২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ইপিআর ও ভারতের বিএসএফ’র মধ্যে সংগঠিত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের (জুলিয়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত) মাধ্যমে ভারতের জবর দখল করে ভূমিটি উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন ইপিআর’র ক্যাপ্টেন সিআর দত্ত’র নেতৃত্বে সংঘটিত এ আচালং যুদ্ধে চার ইপিআর সদস্য শহীদ হয়। এদের কবর এখনও মাটিরাঙ্গার তাইন্দং বিডিআর বিওপিতে সংরক্ষিত হয়েছে।

এদিকে ১৯৯৫ সালের ৮ মে ভারতের ত্রিপুরার সাবরুমে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত দু’ দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে দখলকৃত জমি পুনঃ জরিপ এবং জরিপ রিপোর্ট চূড়ান্ত অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ভারতের দখলকৃত আচালংয়ের ওই ১৭’শ একর জমি অমীমাংসিত ভূমি হিসেবে এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার যৌথ সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ভারত এ সিদ্ধান্ত লংঘন করে দখলীয় ভূমির উপর পাকা রাস্তা, বিএসএফ ক্যাম্প নির্মাণ ও জমি চাষাবাদসহ সকল কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে এখনও।

এ দিকে ভারত দখল করে নেয়া ১৭ ’শ একর জায়গা উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো তৎপরতা না থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তাইন্দং বাজারের প্রবীন ব্যবসায়ী কোববাত মিয়া (৬২) বলেন, ‘‘আমাদের জায়গা তারা (ভারত) দখল করে রেখেছে। অথচ আমাদের দেশের সরকারের কর্তাদের মাঝে এ জায়গা উদ্ধারের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।’’ এলাকার বাসিন্দা হরিলাল নাথ, মোতালেব মিয়া, কমর উদ্দিনসহ সকলের দাবী সরকার যেন এ জায়গা উদ্ধারের ব্যপারে আগ্রহী হয়। এ ছাড়া তারা আরো অভিযোগ করেন, ‘‘ফেনী নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বগবান টিলাতে (পাহাড়) হলেও ভারতের বাসিন্দারা মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিনই পানি তুলছে। অথচ আমরা পানি ফেনী নদী থেকে পানি তুলতে গেলে তারা বিএসএফ আমাদের বাধা দেয়।’’

বার্তা২৪/আজা/জিসা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


5 Responses to বাংলাদেশের ১৭’শ একর জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা

  1. abu

    March 17, 2012 at 7:51 pm

    সৱকাৱ কি গৱুৱ ঘাস কাটছে?

  2. Arif ahmed

    March 17, 2012 at 8:23 pm

    Kibabe sarker dekhbe “Bed Room tow durer kotha Abar simante”…hahaha

  3. Afzal ahmed

    March 17, 2012 at 9:38 pm

    Ashole amader ki kisui korar nai ? Shorkar keno gumiy asee ? Doy kore bangladesh ke bachan.

  4. munni

    March 17, 2012 at 10:13 pm

    shakh hasina india mokko monti lokmuka soni.,saki ai jomi bangladesh k fereya deba?posnoti sobar kasa roilo?

  5. জাহিদ

    March 18, 2012 at 10:38 am

    ভারতের দালালদের হাতে ক্ষমতা থাকলে কখনই আমাদের এই জমি আমরা ফিরে পাবো না।