Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পাল্টে যাচ্ছে দুই জোটের হিসাব-নিকাশ

ঢাকা, ১৬ মার্চ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠিত দু’টি জোটের চেহারা ফের পাল্টে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নিজেদের নতুনভাবে গড়তে সক্রিয় হয়েছে। চলছে দর কষাকষি ও নানা মাত্রার মেরুকরণ।

চারদলীয় জোট বিলুপ্ত হয়ে গত ১২ মার্চ বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে ১৬ দলীয় নতুন জোটের ঘোষণা আসার কথা ছিল। কিন্তু দলগুলো নিয়ে জোট সম্প্রসারণের বিষয়টির লিখিতরূপ চূড়ান্ত না হওয়ায় বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া ওইদিন ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেননি। এতে বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়।

এর পাশাপাশি মহাজোটকেও সম্প্রসারিত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতমাসে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে সামনে রেখে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ হয়। মহাজোটের বাইরে থাকা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকেও (সিপিবি) জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সংলাপে উঠে আসে।

সর্বশেষ গত সপ্তাহে জাতীয় পার্টির একাংশের (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সঙ্গেও বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বে আসন্ন নতুন জোটে থাকছে জামায়াতে ইসলামী, বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, জাগপা, এনডিপি, এনপিপি, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, ইসলামিক পার্টি ও মুসলিম লীগ।

এছাড়া এই জোটে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা, আ স ম আবদুর রবের জেএসডিসহ ছোট ছোট কয়েকটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করাতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৎপরতা চালালেও শেষ পর্যন্ত এসব প্রান্তিক দল জোটে আসার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ১২ মার্চের মহাসমাবেশের মঞ্চে এলডিপির কর্ণধার কর্নেল অব. অলি আহমেদ ছিলেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরো চাঙ্গা করতেই মহাজোট সরকারের বিপরীতে নতুন একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীর গত জুলাই মাস থেকে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেন। তিনি ছোট ছোট দলের নেতাদের বাসা ও অফিসে গিয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণও জানানো হয় তাদের।

এদিকে, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে মহাজোট থেকে বের হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন জোটের অন্যতম শরিকদল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রংপুরে তিস্তা অভিমুখে লংমার্চের শেষ পর্বের ভাষণে এরশাদ বলেন, “সময় হলেই অ্যাকশন।”

সম্প্রতি জোট ছাড়া না ছাড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, “সময় সব বলে দেবে।”

অন্যদিকে এরশাদের এমন বক্তব্যে তাকে এখন যেকোনোভাবেই ধরে রাখতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারই অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ ১৪ দলের জনসভায় যোগ দিতে গত ৩ মার্চ এরশাদকে গণভবনেও ডেকেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, সেখানে এরশাদকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের বিশেষ দূত হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। জবাবে এরশাদ ‘না’ বলেন।

এছাড়াও এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঢাকা সিটি করপোরেশনের দু’টি মেয়র পদের একটি চেয়ে আবদার করে বসেন। কিন্তু এতে প্রধানমন্ত্রী সাড়া দেননি। পরে এরশাদও ১৪ মার্চের অনুষ্ঠানে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু না বলে ফিরে আসেন। পরে আর ওই সমাবেশে জাতীয় পার্টি যোগ দেয়নি। এ সময় এরশাদ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন।

মূলত মহাজোটের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার পর থেকেই নানা বিষয়ে হিসাব মিলছে না জাতীয় পার্টির। এজন্য জোট ছেড়ে জীবনের শেষ নির্বাচনটি এককভাবেই করবেন বলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন এরশাদ।

সব মিলিয়ে দেশের আগামীদিনের রাজনীতিতে কী ঘটতে যাচ্ছে সেটি নির্ভর করছে দুটি জোটের নতুন চেহারার ওপর।

বার্তা২৪/ কেএমআর/জবা

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to পাল্টে যাচ্ছে দুই জোটের হিসাব-নিকাশ

  1. AZAM

    March 16, 2012 at 10:44 pm

    I WANTS -2 FORMULA TO ESTUBLISH FOR BANGLADESH.