Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মাস্টার ছিল ঘুমিয়ে, সুকানি হুইল হাউজে

আহমেদ জামাল: মুন্সীগঞ্জের মেঘনায় লঞ্চ দুর্ঘটনার সময় এর মাস্টার আলী আশরাফ মিয়া ঘুমিয়ে ছিলেন। আর লঞ্চের সুকানি পরিবার নিয়ে অবস্থান করেছিলেন হুইল হাউজে। ওই দুর্ঘটনায় স্ত্রী
ও দুই সন্তানসহ সুকানি আবদুস সাদেক এবং ঘুমন্ত মাস্টার আলী আশরাফ মারা যান। গতকাল তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান। তারা বলেন, দুর্ঘটনার সময় এই দু’জন সজাগ বা সচেতন থাকলে হয়তো কিছু একটা করা যেতো। এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে রাতের বেলায় বিভিন্ন পণ্যবাহী কার্গো তেলের ট্যাঙ্কারসহ নিষিদ্ধ নৌযানের অবাধ চলাচলই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন খোদ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, নৌপথে চলাচলের সুনির্দিষ্ট আইন আছে। কিন্তু প্রয়োগ নেই। তাই প্রতি বছর নৌ-দুর্ঘনায় শ’ শ’ লোকের প্রাণহানি ঘটছে। তবে নৌ-দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেআইনি চলাচল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাবে এই বেআইনি চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। তারা বলেছেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ অনেক মন্ত্রী এমপি নৌযানের মালিক। তাদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নৌ চলাচল আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হয় না। কার্যকর করা যায় না নৌ-আদালতের মামলার রায়। ফলে ইচ্ছা থাকলেও রোধ করা যায় না নৌ-দুর্ঘটনা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১০ সালে দেশে বিভিন্ন নৌপথে ২৮টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১০৯ জন মারা যান। ২০১১ সালে নৌ-দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২১টি। মারা গেছেন প্রায় ৭০ জন। সব ক’টি দুর্ঘটনাই ঘটেছে রাতের বেলায় বালু অথবা পণ্যবাহী কার্গো কিংবা ট্যাঙ্কারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে। সর্বশেষ সোমবারের দুর্ঘটনার কারণও একই। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার সময় লঞ্চটির মাস্টার ছিলেন ঘুমে। আর পরিবার নিয়ে সুকানি ছিলেন হুইল হাউজে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই দু’জনই সমান অপরাধী। কারণ দু’জনের কেউ স্বীয় দায়িত্ব পালন করেননি। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী রাতের বেলায় নদীপথে কোন কার্গো অথবা ট্যাঙ্কার চলার অনুমতি নেই। কিন্তু এই আইনটিকে বরাবর উপেক্ষা করে অসংখ্য কার্গো ট্যাঙ্কার অবাধে চলাচল করছে। রিভার পুলিশ না থাকায় এসব নৌযানের বেআইনি চলাচলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় না। দেশে রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ সক্রিয় থাকলেও নৌ-পুলিশ নেই। অরক্ষিত নৌপথে যে কোন দুর্ঘটনার পর নৌযান মালিকদের বিরুদ্ধে নৌ-আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হলেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তারা বের হয়ে যান। সংস্থার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশের একমাত্র  নৌ আদালতে সাড়ে তিন হাজার মামলা বিচারাধীন। একটি মাত্র আদালতের মাধ্যমে এত বিপুল সংখ্যক মামলার কার্যক্রম চালাতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়া নৌ-আইনে সাজার পরিমাণও তেমন জোরালো নয়। ফলে অহরহ নৌ-দুর্ঘটনা ঘটছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট