Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘আমি নাকি বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলেছি’

বামমু আল আমীন: গত পাঁচ দিন থেকে কারাগারে বিস্কুট ও পানি ছাড়া কিছু খেতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কারাগার থেকে আমি নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলেছি। এ কারণে আমাকে কিছু খেতে দেয়া হচ্ছে না। পাঁচ দিন ধরে উপোস আছি। ব্লেড ও শেভিং ক্রিম দেয়া হয়নি। আমি শেভ করতে পারিনি। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি এসব কথা বলেন। লুঙ্গি পরা, গায়ে সোয়েটার ও চাদর জড়ানো এবং খোঁচা খোঁচা দাড়ির সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, আমার হাঁটু কাঁপছে। দাঁড়াতে পারছি না। দেখুন, আমি কি পরে আছি। পরে তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আহসানুল হক। তিনি চার্জগঠন না করার পক্ষে যুক্তি উত্থাপন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে জেয়াদ আল মালুম চার্জ গঠনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ই ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করে। সালাহউদ্দিন কাদের ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আমি আপনাদের কাস্টডিতে আছি। আইনজীবী কারাগারে আমার সঙ্গে দেখা করতে গেছে। কিন্তু তাকে আমার কাছে পৌঁছতে দেয়া হয়নি। আমার পরিবারকেও আমার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, এখানে আমার সঙ্গে আইনজীবীর দেখা করতে নাকি মাসে দেড় লাখ টাকা দিতে হবে। পরিবারের জন্য এর পরিমাণ নাকি ১০ হাজার টাকা। বলা হয়েছে, ‘উপরে দিতে হবে’। কিন্তু আমি তো ‘উপর’ বলতে শুধু ট্রাইব্যুনালকেই বুঝি। আমি বলি, এটা কি নিলামে উঠেছে নাকি। নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৩ মাসে আমাকে ৭ জেলে  ঘোরানো হয়েছে। আমাকে বর্তমান জেলে রাখবেন না। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালে এনে কাঠগড়ায় বেঁধে রাখুন। আমি আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ সময় তার বক্তব্য মুখে না বলে আইনগতভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০০৯ সালের সংশোধনকে বর্তমান সরকারের জন্য বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়ার মতো বলে মন্তব্য করেন আহসানুল হক। তিনি বলেন, এই আইনটি যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হয়ে যাওয়ার পর দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। যারা কোন বাহিনীর সদস্য ছিলেন না, তাদের বিচারের জন্যই ওই আইন হয়েছিল। দালাল আইন থাকতে বেসামরিক কোন নাগরিকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিচার হতে পারে না। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে ‘গুডস হিলে’র কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি ছিল একটি আশ্রয়কেন্দ্র, টর্চার সেল নয়। সব এলিট ওখানে গিয়ে অবস্থান নিতেন। ‘গুডস হিলে’ নির্যাতনের অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বানোয়াট ও প্রভাবিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, সালাহউদ্দিন কাদের চট্টগ্রামের পাহাড়ের মালিক ছিলেন। পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল। আসল কথা হলো, তিনি ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে। এটাই তার অপরাধ। নিজের ‘উচ্চকণ্ঠ’ই সালাহউদ্দিন কাদেরের সমস্যা। তিনি একটা কথা বললেই ‘কিছু’ হয়ে যায়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, বড় গলা নয়, উচ্চকণ্ঠ। আইনজীবী হেসে বলেন, হ্যাঁ। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এনেছে একতরফাভাবে। কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়নি। আহসানুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার হিন্দু সমপ্রদায়ের মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু হিন্দুদের মারতে সেখানে যেতে হবে কেন। উনার বাড়ির পাশেই তো অনেক হিন্দুর বাড়ি আছে। প্রসিকিউটর রানা দাশশুপ্তের বাড়িও উনার বাড়ির পাশে।  তিনি বলেন, এখানে অন্য যারা অভিযুক্ত, তারা একবার বা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু কেয়ারটেকার বলুন আর নন-কেয়ারটেকার বলুন, ১৯৭৯ সাল থেকে উনি এ পর্যন্ত ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমি ট্রাইব্যুনালকে বলতে চাই, এত খারাপ হলে সেই এলাকা থেকে উনি কিভাবে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। বিএনপি অন্যান্য আসনে হারলেও উনার আসনে জিততো। যেখানে মানুষ অন্যকে চা খাইয়েও পলিটিক্স শেখায়, সেখানকার মানুষ কি এত অসচেতন। একজন খারাপ মানুষ না হয় একবার নির্বাচিত হয়, বারবার কিভাবে নির্বাচিত হয় এটাই আমার প্রশ্ন। উনি খারাপ মানুষ হলে নির্বাচনের সময় এলাকার জনগণ কি তা দেখেনি। তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উনি শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় ‘নাই’ উল্লেখ করলেন, এখন তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাও লিখলেন উনি ‘আইএ পাস’। এটা তদন্ত কর্মকর্তার কত বড় পক্ষপাতমূলক আচরণ। তিনি কিভাবে জানলেন। আইনজীবী বলেন, উনারা কিভাবে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, তা একটু বুঝেও দেখেননি। উনাদের এই তদন্ত প্রতিবেদনই উনাদের বিরুদ্ধে যাবে। এগুলো বলার সময় নিশ্চয়ই আসবে। তখন বলবো। এ সময় ট্রাইব্যুনালের কনিষ্ঠ বিচারপতি বলেন, তাহলে তো আপনাদের পরিশ্রম কম হবে। আপনারা বেঁচে গেলেন। আইনজীবী হেসে বলেন, আমরা তো পরিশ্রম করতেই এসেছি। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী শান্তি কমিটি বা রাজাকার বাহিনীর কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের কোন নেতা ছিলেন না। কোথাও তার নাম নেই। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বার্মা (মিয়ানমার) পালিয়ে যাওয়ার সময় দেড় মণ সোনা নিয়ে গেছেন। কিন্তু আমি বলতে চাই, সেগুলো এখন কোথায় আছে। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে কি না। এসব কি তদন্ত করা হয়েছে। আসলে এসব ভেক কথা বার্তা। শোনা কথার উপরে ভিত্তি করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রসিকিউটর এডভোকেট রানা দাশগুপ্তের মেয়ে সালাহউদ্দিন কাদেরের ফার্মে চাকরি করত। প্রসিকিউশন কি তা কখনো বলেছে। ট্রাইব্যুনালের কনিষ্ঠ বিচারপতি এ সময় বলেন, উনারা বলেননি, আপনি বলবেন। আইনজীবী বলেন, বলার জন্যই আমাকে টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। যতক্ষণ পেট্রোল (সম্মানী) থাকবে কথা বলবো। সালাহউদ্দিন কাদেরের নাম প্রসঙ্গে তার আইনজীবী বলেন, অভিযোগপত্রে উনার নামও বিকৃত করা হয়েছে। পুরো নামটিও সঠিকভাবে লেখা হয়নি। এ সময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, নাম সংক্ষিপ্ত করাই এখন আধুনিককালের রীতি। আমেরিকাতেও এটি দেখা যায়। আইনজীবী বলেন, হ্যাঁ, আমেরিকানরা এলিজাবেথ টেলরকে ‘লিজ টেলর’ বলেন। কিন্তু একজন লোককে ‘গালকাটা কামাল’ বলার রীতি পৃথিবীর কোথাও নেই, শুধু আমাদের দেশেই আছে। কেন ওই ব্যক্তির নাম কি ‘গালকাটা কামাল’? আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এভাবে তারা পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকেও ‘জিন্নাহ’ বলেছেন। এই ‘জিন্নাহ’ কে? সে কি ‘আমার’ বাড়ির চাকর! মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে কি তাদের এভাবে উপস্থাপন করা উচিত হয়েছে? এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কি বিলেত থেকে স্যুট-টাই পরে এসে এক দিনে তৈরি হয়েছে। তিনি কি উপমহাদেশের রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন? এ সময় ট্রইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, এটি তাদের উচিত হয়নি। ‘মি. জিন্নাহ’ লেখা উচিত ছিল। আইনজীবী বলেন, জিন্নাহ সাহেবের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তার সময়কাল ১৯৭৪ সাল বলা হয়েছে। তিনি কি ওই সময় জীবিত ছিলেন। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, তাই নাকি! পরে তারা কাগজপত্র দেখে বলেন, ১৯৪৭ সালের জায়গায় ’৭৪ সাল লেখা হয়েছে। আইনজীবী বলেন, ১৯৪৭ সালের জায়গায় ’৭৪ সাল লেখা হয়েছে- এ কথা বললে আমরা মার্ডার হয়ে যাবো। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত অনেকে হেসে ফেলেন।  সালাহউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী বলেন,  মুসলমানরা ধর্মের জন্য যুদ্ধ করে মারা গেলে তাকে শহীদ বলা হয়। কিন্তু অন্য ধর্মের লোক তার ধর্মের জন্য মারা গেলে তাকে কি বলা হয়। তিনি বলেন, ৪০ বছর আগের ঘটনা, অবস্থা, নমুনা এতদিনে সব পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশের ‘কচুর লতি’টা পর্যন্ত পাকিস্তানিরা নিয়ে গেছে। আজ সেই ৪০ বছর পরে ‘ঘটনাস্থল’ দেখিয়ে লাভ নেই। এসব নিয়ে অনেক সিরিয়াস কথা আছে। আহসানুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট এই সরকারের জন্য বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়ার মতো হবে। পরবর্তী সরকার এসেও এটি পরিবর্তন করবে না। তারাও এটি এই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। কারণ এটি যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, অন্য একটি মামলায় সালাহউদ্দিন কাদেরকে গ্রেপ্তার করে যুদ্ধাপরাধের এই মামলায় শোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে। প্রথমে গ্রেপ্তার করা সেই মামলার এখন কোন খবর নেই। এখন যুদ্ধাপরাধের এই মামলায় তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এই মামলায় রিমান্ডের বিধান না থাকায় ‘সেফহোমে’ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৭৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কোন খবর নেই। ২০১০-এ হঠাৎ করে এসে মামলা করা হলো। কিন্তু এই মামলার অভিযোগকারী কে। কেউ কি আছে। নেই। তিনি আরও বলেন, উনার বিরুদ্ধে কুণ্ডেশ্বরীর প্রতিষ্ঠাতা নূতন কুণ্ডকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। অথচ এই মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পেন্ডিং রয়েছে। এ অবস্থায় এই ট্রাইব্যুনালে সেই মামলা আসে কিভাবে। শুনানিতে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অপরাধের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আবেদন করেন এই আইনজীবী।
উনিও আমাকে ‘হালুম’ বলেন: পরে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট জেয়াদ আল মালুম। তিনি সালাহউদ্দিন কাদেরকে ‘সাকা চৌধুরী’ হিসেবে উল্লেখ করলে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, এভাবে আর বলবেন না। তার পুরো নাম বলুন। মালুম এ সময় তার বক্তব্য সংশোধন করে নেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন কাদেরও আমাকে ‘হালুম’ বলে ডাকেন। শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের কনিষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘অভিযোগপত্রে বলছেন, ‘সালাহউদ্দিন কাদেরের নির্দেশে একটি হিন্দু বাড়িতে গিয়ে হিন্দুদের ধরে এনে সোবহান হত্যা করে’। এই ‘সোবহান’ কি এখন জীবিত। জীবিত হলে সেই তো হবে প্রধান আসামি। হত্যাকারীকে প্রধান আসামি না করে আপনি নির্দেশদাতাকে প্রধান আসামি করছেন? এ সময় তিনি বলেন, এগুলো এখন থাক। এ ধরনের প্রশ্ন এখন করলে সাংবাদিকরা বলবে প্রসিকিউটররা অযোগ্য। পরে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেয়। আদেশে সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ১৩ই ফেব্রুয়ারি আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করা হয়। এছাড়া কারাগারে তার সঙ্গে দুই আইনজীবীকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের রাউজান, বোয়ালখালী ও রাঙ্গুনিয়া পরিদর্শনের সময় সালাহউদ্দিন কাদেরের আইনজীবীদের প্রটেকশন দিতে স্থানীয় থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।

 

নিউজ সোর্স প্রথম আলো

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


4 Responses to ‘আমি নাকি বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলেছি’

  1. alifuddinrubel

    January 24, 2012 at 11:23 pm

    jhuddhod aporadi noi bole raj bondi bole hoi!

  2. upewjtetg

    March 12, 2012 at 12:51 am

    nnobtnyfp oklny cfdpuyd twlx jluytehqruicefv

  3. sikiş izle

    March 13, 2012 at 9:32 am

    I used to be looking for this wonderful sharing admin considerably thanks and also have good blogging bye

  4. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:13 pm

    I was seeking for this fantastic sharing admin a lot thanks and also have great blogging bye