Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘প্রেসারের মাত্রাটা বেড়ে যাচ্ছিল’

 ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে গতকাল জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক আকরাম খান পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশ দলের সাবেক এ অধিনায়ক প্রায় ৫ বছর ধরে ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। গত বছরের ২৭শে এপ্রিল তাকে প্রধান নির্বাচক মনোনীত করা হয়। তবে ১লা জুন তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। সহকারী নির্বাচক হিসেবে সঙ্গে পান দুই তারকা ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমনকে। তবে আকরাম খানের সঙ্গে তার দুই সহযোগী নির্বাচক গতকাল পদত্যাগ করেননি। গতকাল আকরাম খান বিসিবিতে আসেন বেলা ১১টায়। এর পর পদত্যাগের গুঞ্জনকে বাস্তবে রূপ দিয়ে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ম্যানেজার সাব্বির খান ও ভারপ্রাপ্ত সিইও’র কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র তুলে দেন। পরে নিজ অফিস কক্ষে সংবাদিকদের সঙ্গে তার প্রায় পাঁচ বছরের নির্বাচক থাকাকালীন চাপা ক্ষোভ আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার হতাশার কথা অকপটে তুলে ধরেন। সেই সময় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের খোলামেলা উত্তরও দেন তিনি। প্রশ্নোত্তরের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: হঠাৎ এভাবে আপনার পদত্যাগের কারণ কি?
আকরাম খান: আমার তো আর কিছুদিন হলেই ৫ বছর পূর্ণ হতো। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত অনেক সিলেকশনের বিষয় আমার কাছে খারাপ লেগেছে। যেমন দল ঘোষণার আগে আমরা সংবাদ সম্মেলন করতে পারতাম না। এর সঙ্গে ছিল দল ঘোষণার আগেই পত্রিকায় চলে আসা। দল নির্বাচনে অযাচিত হস্তক্ষেপও ছিল। সর্বশেষ আমার স্বাক্ষর করা দল আমাকে না জানিয়েই পরিবর্তন করা হয়েছে। যা ছিল আমার জন্য অপমানজনক। দল নির্বাচন জাতীয় ইস্যু। আমার এ সিদ্ধান্তে দেশের বড় লাভ হতে পারে আবার দেশের ক্ষতিও হতে পারে। আমি অনেক চিন্তা করে দেখেছি আমি যেহেতু সঠিক ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না তাই নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোই উচিত।
প্রশ্নঃ শুধু আপনি একা কেন পদত্যাগ করলেন?
আকরাম খান: তারা যেটা ভাল বা যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন সে সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।
প্রশ্ন: তাহলে এতোদিন কেন অপেক্ষা করলেন?
আকরাম খান: আমি সব সময় ভাবতাম হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। এই আশায় ছিলাম। কিন্তু তা হয়নি।  দিনের পর দিন  প্রেসারের মাত্রাটা বেড়ে যাচ্ছিল।
প্রশ্ন: আপনার কবে থেকে মনে হলো নির্বাচক হিসেবে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না?
আকরাম খান: আমি প্রধান নির্বাচক হওয়ার পর থেকে সমস্যাটা বেশি বুঝতে পেরেছি। আমি চেষ্টা করেছি বিষয়গুলো ঠিক করে নিতে। অনেক সময় ঠিক করতে পেরেছি। আবার পারিওনি। কিন্তু এবার দলটা পরিবর্তন করা হয়েছে আমার সঙ্গে কোন রকম পরামর্শ ছাড়াই। আপনারা যেভাবে ই-মেইলে পেয়েছেন সেভাবে আমিও জেনেছি। এসিসি থেকেই ১৫ জনের দল দিতে বলা হয়েছিল। আমরা তাই দিয়েছি। কিন্তু সেখানে ১৪ জন করা হয়েছে। একজন ক্রিকেটার ফিট আছেন কিনা সেটা দেখার কাজ কিন্তু আমার। আমরা সেটা দেখেই তামিমকে দলে নিয়েছি। তামিমকে ১৫ জন থেকে বাদ দিয়ে অতিরিক্ত তালিকায় পাঠানো হয়েছে। আমি প্রধান হওয়ার পর থেকেই কোন না কোন বিষয় নিয়ে সমস্যা লেগেই ছিল।
প্রশ্ন: অনেকেই বলছেন তামিমকে বাদ দেয়াতে আপনি আবেগের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আকরাম খান: এটা পুরোপুরি ভুল। আমরা তিন জন নির্বাচক মিলে  টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিভাব সিং, গ্র্যান্ড লুডেন আর দেবাশিষ চৌধুরীর রিপোর্ট দেখে আমরা তামিমকে বিশেষ বিবেচনায় দলে রেখেছি। আর আমরা যে দল জমা দিয়েছি তার সঙ্গে সবার ফিটনেস সার্টিফিকেটও ছিল। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত দলগুলোতে প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার বেশিদিন খেলতে পারে- ওরা কিন্তু পারফর্ম বেশি করে। শুরু থেকেই আমাদের তিন জনের পরিকল্পনা ছিল আমরা একটা প্রতিষ্ঠিত দল বানাবো। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে- আমরা প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের নকআউট করে দিচ্ছি। আমি বলতে পারি আশরাফুলের মতো ব্যাটসম্যানকে আমি দলে রাখতে পারছি না। শাহরিয়ার নাফীসের মতো ব্যাটসম্যানের আজকের পরিস্থিতি আমার কারণে হতে পারে বা বোর্ডের কারণে হতে পারে। তামিমের মতো প্রতিষ্ঠিত একটা ব্যাটসম্যান আজ নড়বড়ে। আরও কয়েক জন ক্রিকেটার আছে যারা দু’দিন আগেও ঠিক ছিল। তাদের অবস্থানও নড়বড়ে। এটা দলের জন্য সুসংবাদ নয়।
প্রশ্ন: প্রধান নির্বাচক হওয়ার পর আপনার কাছে খারাপ লেগেছে এমন বিষয়গুলো কি বলবেন?
আকরাম খান: সব তো বলা সম্ভব নয়। একটা ঘটনা তো আগেই বলেছি আশরাফুলকে নিয়ে। রকিবুল হাসান ট্রায়ালে ছিল। সে এ দলের সঙ্গে সফরে গিয়েও রান পায়নি। দেশে এসেও রান পায়নি। আশরাফুল রান পেয়েছে। আমরা আলোচনা করে তাকে পাকিস্তান সিরিজে টেস্টে নামানোর সিদ্ধান্ত নেই। দুই টেস্টেই তার খেলার কথা ছিল। এক টেস্টে দুই ইনিংসে কয়েকটি বল খেলেই আশরাফুল আউট হয়ে যায়। পরের টেস্টে তাকে বাদ দেয়া হলো। আশরাফুলকে টেস্টে নামানোর জন্য আমি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।
প্রশ্ন: বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপের বিষয়টি বলবেন কি?
আকরাম খান: আমরা মোট ৪টি সিরিজে দল গড়েছি। ২টি করার পরই বুঝতে পারি সম্ভব নয়। আমাদের নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে প্রথমে কথা হয়েছিল নির্বাচকরা দলের অংশ হয়ে যাবে। আমরা দলের সঙ্গে যাবো। আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটাই হয়েছে।
প্রশ্ন: পদত্যাগের আগে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন?  আবার কি আপনাকে এই পদে দেখা যাবে?
আকরাম খান: না, আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাকে ডাকলে অবশ্যই আমি আসবো। আমার অভিজ্ঞতার কথা বলবো। কিন্তু ফিরে আসার বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি নিয়োগ পত্র হাতে নেয়ার পরও মিডিয়াতে বলেছি, আমি যে দলে স্বাক্ষর করবো সে দল পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু এবারই প্রথম হয়েছে। যা আমার পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এই সঙ্কট  থেকে মুক্তির জন্য আপনার পরামর্শ কি?
আকরাম খান: অবশ্যই সেক্রিফাইসিং মানসিকতা নিয়ে এখানে থাকতে হবে। আপনাকে যে কাজটা করতে দেয়া হবে সেই কাজে স্বাধীনতা থাকতে হবে।  তাহলেই এই দেশে ক্রিকেট নিয়ে সমস্যা থাকবে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to ‘প্রেসারের মাত্রাটা বেড়ে যাচ্ছিল’

  1. sikiş izle

    March 13, 2012 at 9:49 am

    I used to be trying to find this website survive three days and nights great web site operator fantastic posts almost everything is wonderful

  2. smackdown oyunları

    March 14, 2012 at 3:15 pm

    Greetings thanks for great submit i was seeking for this problem final a couple of times. I’ll look for up coming precious posts. Have entertaining admin.