Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। তবে কর্মকর্তারা অংশ নেননি। এনিয়ে দেশের প্রশাসনযন্ত্র সচিবালয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে বিরক্তি প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। সচিবালয়ে অনেক কর্মচারীকে কয়েক জন নেতার নাম ধরে কথা বলতে শোনা গেছে। গতকাল আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারেই মূলত তারা সরকারি দলের কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণের অতি উৎসাহ নিয়ে নানা সমালোচনার জন্ম দেয় দেশের প্রশাসন যন্ত্র সচিবালয়ে। এর আগে গত সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এক প্রস্তুতি সভায় কর্মচারীদের অংশ নেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। গতকাল সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, গুটিকয় কর্মচারী ক্ষমতাসীন দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। আগে থেকে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সচিবালয় স্টেনো টাইপিস্ট সমিতি, কম্পিউটার অপারেটর সমিতি, হিসাবরক্ষণ কর্মচারী সমিতি, সচিবালয় অফিস সহকারী সমিতি এবং সচিবালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে এসব সংগঠনের ব্যানার ছাড়া কর্মীদের খুব একটা চোখে পড়েনি। সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের নেতা নিজামুল হক ভূঁইয়া মিলন মানবজমিনকে বলেন, সরকারি কর্মচারী হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বেআইনি। তবে সরকারি কর্মচারী হিসেবে সরকারের যে কোন দায়িত্ব পালনে কারও কোন ধরনের আপত্তি নেই। কর্মচারীদের নেতা হিসেবে বলতে পারি, সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনে কারও সমস্যা থাকার কথা নয়। ওদিকে কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক সংস্থাপন সচিব এএমএম শওকত আলী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধি ১৯৭৯-তে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারা আইনের মধ্যে থেকে যে কোন সরকারকে সহযোগিতা দিতে বাধ্য। কোন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া দূরের কথা, তাদের কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়াও অপরাধ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সরকারের কোন কর্মচারী রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন না, রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রচারণা চালাতে পারেন না। আর সচিবালয়ে রাজনৈতিক সভা নিষিদ্ধ। এসব শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনের শাসন দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ওদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অংশ নেয়ার বিরোধিতা করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এটা রাষ্ট্রের বিশৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে গতকাল বিকালে ঢাকায় শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামী লীগ। এতে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীরা অংশ নিচ্ছেন বলে সংবাদপত্রে খবর ছাপা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে সরকারি চাকুরেদের অংশগ্রহণ কতটা সঙ্গত ও যৌক্তিক এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এটা ঠিক নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেয়া উচিত নয়। এটা রাষ্ট্রীয় ইনডিসিপ্লিন (বিশৃঙ্খলা)-এরই একটি বহিঃপ্রকাশ। আওয়ামী লীগের এই শোভাযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নিচ্ছেন বলে সংবাদপত্রে খবর ছাপা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট